১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জ্বালাও পোড়াও আমরা করিনি ॥ ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে খালেদা জিয়া

  • ‘কারা করেছে তা দেশবাসী জানে’

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ফের সরকারবিরোধী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবৈধ বর্তমান সরকার দেশটাকে কারাগার বানিয়ে রেখেছে। দেশের মানুষ আজ একটি অবাধ নির্বাচনের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু সরকার ওই রকম একটি নির্বাচন দিতে ভয় পায়। তাই বিএনপিকে পুনর্গঠিত করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আন্দোলন করব। আমরা সেই আন্দোলন করব, যে আন্দোলন হবে দেশের জন্য, মানুষের কল্যাণে। আমরা জ্বালাও-পোড়াও-ভাংচুরের আন্দোলনে বিশ্বাস করি না। সেই আন্দোলন আমরা করিনি। কারা জ্বালাও-পোড়াও করেছে, তা দেশবাসী জানে।

শনিবার ঈদের দিন দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কূটনীতিক ও গণমান্য নাগরিকসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি রাজপথে সক্রিয় নয় কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপির নামে শুধু মামলা আর মামলা। আমাদের অনেক নেতাকর্মী জেলে আছে। কত ছেলে যে গুম হয়েছে, তার হিসাব নেই। কাজেই বিএনপি এখন পুনর্গঠিত করতে হবে। এরপর জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করব।

বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে দাবি করে দলটির প্রধান বলেন, বাংলাদেশে এখনও বিএনপি জনপ্রিয় দল। সেজন্য একে শেষ করতে তারা (সরকার) উঠে পড়ে লেগেছে। খবরের কাগজে বিএনপির বিরুদ্ধে নানা রকমভাবে এজেন্সি ও গ্রুপের মাধ্যমে লেখা হয়। আমি স্পষ্টভাষায় বলতে চাই- এগুলো কিছুই নয়। বিএনপি জনগণের সঙ্গে আছে ও থাকবে।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তার জন্য দেশকে বিভক্ত না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটা সম্ভাবনাময় দেশ। এই দেশকে সকলে মিলে গড়ে তুলতে হবে, আমাদের সব বিভেদ ভুলে যেতে হবে। রাজনীতিতে দল থাকবে, তাই বলে যে একজনের সঙ্গে আরেকজনের কোন সম্পর্ক থাকবে না, কেউ কারও চেহারা দেখব না- এটা কোন রাজনীতি হতে পারে না। তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক থাকবে, পারিবারিক সম্পর্কও থাকতে পারে। কিন্তু রাজনীতি যে যার মতো করবে। হানাহানি-খুনাখুনি-মারামারি- এগুলো রাজনীতি নয়।

বর্তমান সরকারের আমলে দেশের মানুষ ভাল নেই দাবি করে খালেদা জিয়া বলেন, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে কিছুই মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই। রাস্তা-ঘাটের দুরবস্থার কারণে জনগণ যানজটের ভোগান্তিতে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিদিন কাগজ খুলে দেখা যাবে গুম-খুন-হত্যার খবর। দেশে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু আছে, তা মনে হয় না। প্রতিনিয়ত চাঁদাবাজি চলছে। দেশের মানুষের কোন নিরাপত্তা নেই। তিনি বলেন, যারা মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার কথা, তারাও আজ জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে। তারা (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) নিরাপত্তার নামে জনগণকে ধরে নিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে।

প্রশাসন, পুলিশের পাশাপাশি বিচার বিভাগেও দলীয়করণের অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বলেন, কারাগারে ঈদ জামায়াত পড়তে যাচ্ছিল হবিগঞ্জের পৌর মেয়র জি কে গউস। সেখানে তাঁকে ছুরি মারা হয়েছে। আজ কারাগারও নিরাপদ নয়। অন্যদিকে আজ বিচার হয় দু’রকমের। সরকারী দলের হলে একরকম, বিরোধী দলের হলে ভিন্ন রকম বিচার হচ্ছে। তারা জামিন পায় না, দিনের পর দিন কারাগারে থাকতে হচ্ছে। বিরোধী নেতা-কর্মীরা সুবিচার পায় না। অবৈধ সরকার এভাবে দেশটাকে কারাগার বানিয়ে রেখেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, এটি একটি করাপশন (দুর্নীতি) কমিশনে পরিণত হয়েছে। এখানে শুধু করাপশনের আড্ডা। তারা ধরে নিয়ে টাকা নিয়ে তারপর কার বিরুদ্ধে মামলা দেবে, কার মামলা প্রত্যাহার করবে- তা ঠিক করে। খাদ্যমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মন্ত্রীরা লুটপাট করে শেষ করে দিয়েছে। যে গম খাওয়ার অযোগ্য, সেই পচা গমকে যোগ্য প্রমাণ করে সবাইকে খাওয়াবে। ওই পচা ও পোকাওয়ালা গম টিআর, কাবিখার মাধ্যমে গরিব মানুষকে খাওয়াবেন, তা প্যাকেটের মাধ্যমে আটা হয়ে শহরেও চলে যাবে। তারপরও ওইসব মন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ্যাকশন হয় না। সকাল ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পেশাজীবী নেতাসহ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এবং সাড়ে ১২টা থেকে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কূটনীতিকদের সেমাই-জর্দাসহ মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, কলামিস্ট মাহফুজউল্লাহ, আউয়াল ঠাকুর, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, চলচ্চিত্রকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ছড়াকার আবু সালেহ, কবি মাহমুদ শফিক, কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।