২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এআইআইবি থেকে আগামী বছর ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ

  • বিশ্বব্যাংকের বিকল্প উৎস

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ নতুন উৎস এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংক (এআইআইবি) থেকে ঋণ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী বছর জানুয়ারি থেকে অবকাঠামো উন্নয়নে এ ঋণ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তার আগে ডিসেম্বরে চালু হবে নতুন এ ব্যাংক। এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান জনকণ্ঠকে জানান, ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঋণ প্রস্তাবের প্রস্তুতি নিতে আমাদের বলা হয়েছে। চালু হলেই যদি আমরা সময়মতো ঋণপ্রস্তাব দিতে পারি তাহলে জানুয়ারিতেই ঋণ পাওয়া সম্ভব। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কোন কোন অবকাঠামোতে এবং কী পরিমাণ অর্থ ঋণ চাওয়া হবে সে বিষয়ে এখনও প্রস্তুতি শুরু করা হয়নি। শীঘ্রই প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সূত্র জানায়, পশ্চিমা বিশ্ব নিয়ন্ত্রিত বিশ্বব্যাংকের বিকল্প হিসেবে প্রস্তাবিত চীনভিত্তিক এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকে (এআইআইবি) যোগ দিতে গত ২৯ জুন চূড়ান্ত চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। চীনের বেজিংয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান। এসময় প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল চীন সফর করেছে। চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সম্ভাব্য সদস্য দেশের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ৫৭টি। অনুমোদিত ১০০ কোটি ডলারের মূলধনের মধ্যে চীন একাই অর্ধেক দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষর শেষে দেশে ফিরে শেষ পর্যন্ত আরও কয়েকটি দেশ এআইআইবির সদস্য হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।

ঋণ প্রাপ্তি বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব এবং এশিয়া ডেক্সের প্রধান আসিফ উজ জামান জনকণ্ঠকে জানান, আগামী বছর (২০১৬ সাল) নতুন এই ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যাবে। তবে জানুয়ারি মাসেই পাওয়া যাবে কিনা, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংকটি চালু হলে বাংলাদেশের ঋণ পাওয়া কোন সমস্যা হবে না।

ইআরডি সূত্র জানায়, এআইআইবির ‘আর্টিকেল অব এগ্রিমেন্ট’ কার্যপত্রে দেখা যায়, ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশকে ৬৬ কোটি ৫ লাখ ডলার পরিশোধ করতে হবে, যা মোট মূলধনের শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে শেয়ারের বিপরীতে ২০ শতাংশ অর্থাৎ ১৩ কোটি ২১ লাখ ডলার সমান পাঁচ কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে। আর এ পরিমাণ মূলধনের জন্য বাংলাদেশ মোট নয় হাজার ৬৩৫টি ভোটের মালিক হবে, যা মোট ভোটারের শূন্য দশমিক ৮৩ ভাগ।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান জানান, এআইআই ব্যাংক আপাতত বিশ্বব্যাংক বা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) মতো হবে না। অর্থাৎ এই ব্যাংকের আবাসিক কোন মিশন খোলা হবে না। ব্যাংকের ডিরেক্টর যে দেশ হবে তার প্রতিনিধিকে বেজিংয়ে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েই কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ এককভাবে ডিরেক্টর হতে পারবে না। আমরা যে পরিমাণ শেয়ারের মালিক এতে কয়েকটি দেশ মিলে একটি ডিরেক্টর পাওয়া যাবে। এ জন্য বাংলাদেশের মতো শেয়ারহোল্ডার কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। শীঘ্রই জানা যাবে কোন কোন দেশের সঙ্গে যৌথভাবে আমরা ডিরেক্টর পাব।

সূত্র জানায়, এশিয়ার অবকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সালে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন সামিটে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এই ব্যাংক গঠনের ঘোষণা দেন। এরপর আলোচনার একপর্যায়ে গত বছরের অক্টোবরের শেষে এআইআইবি প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশসহ ২২টি এশীয় দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে। সমঝোতা অনুযায়ী ব্যাংকটির সদর সদর দফতর বেজিংয়ে স্থাপন এবং বহুপক্ষীয় অন্তর্বর্তীকালীন সচিবালয়ের মহাসচিব হিসেবে জিন লিকুুনকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপের সঙ্গে স্থলপথের সংযোগ স্থাপন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্থায়ন করাই হচ্ছে এর প্রধান লক্ষ্য।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার অবকাঠামো খাতে এখন থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রতিবছরে ৮০ হাজার কোটি ডলার করে বিনিয়োগ প্রয়োজন। অথচ এডিবি বছরে মাত্র এক হাজার কোটি ডলার ঋণ দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের লিড ইকনোমিস্ট জাহিদ হোসেন এর আগে জনকণ্ঠকে বলেছিলেন, নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় চীনের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিলেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট।