২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদেও রাজনের বাড়িতে ছিল কান্নার রোল

সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ আনন্দ সব খানে ছিল। ছিল নতুন জামা-কাপড় আর সেমাই-রুটির আয়োজন। ঘরে ঘরে ছিল উৎসবÑ আতিথেয়তার আবেদন। এ সবের ঘাটতি ছিল পুত্র রাজনহারা আজিজুর রহমানের পরিবারে। সেমাই-রুটি, নতুন জামা-কাপড়, নগদ টাকা, সবই পাওয়া গেছে। কিন্তু তা নিয়ে কেউ আনন্দে এতটুকু হাসতে পারেনি। সবখানেই ছিল রাজনের উপস্থিতি। রাজনের শোকে কাতর পরিবার আনন্দের মাঝেও কেঁদেছে সারাদিন। গত ৮ জুলাই নির্মমভাবে পাশবিক কায়দায় তাকে হত্যা করেছে নরপশুরা। রাজনকে হত্যা করে তারা ক্লান্ত হয়নি, হত্যা করার চিত্রটিও ভিডিও করেছে তারা। এমন নরপশুদের হাতে খুন হওয়ার পর থেকে রাজনের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। ছেলে হারানোর বেদনা ভুলতে পারছেন না বাবা-মা। তাদের বাড়িতে ছিল না ঈদের আমেজ। কিছুক্ষণ পর পর শোনা গেছে কান্নার রোল।

পাষ-দের হাতে নির্মম নির্যাতনে মৃত্যুবরণকারী রাজনের বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ দল বেঁধে আসছেন। কেউ কেউ রাজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছেন। আবার কেউ কেউ রাজনের পরিবারের সদস্যদের সান্ত¡না দিচ্ছেন। সান্ত¡না দিতে আসা মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন স্বজনরা। তাদের কান্না দেখে সান্ত¡না দিতে আসা অনেকের চোখেই জল গড়িয়ে পড়ছে। রাজনের কবর তার বাড়ির পাশে দেয়া হয়েছে। কবরটি তার ঘর থেকে কয়েক শ’ গজ দূরে। ঘর থেকে বের হলেই রাজনের কবর চোখে পড়ে। ঈদের দিন সকাল থেকে রাজনের বাড়িতে আসেন অনেক লোক। এদিক ওদিক ঘোরাফেরা করে সকলেই ছুটে যান কবরের কাছে। জিয়ারত করতে আপনা থেকেই চোখ ভিজে যায় জলে। রাজনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, রাজন হত্যার পর থেকে এলাকাবাসী, রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের সহযোগিতা করছেন। বাড়িতে আসছেন, সান্ত¡নাও দিচ্ছেন। এমনকি ইতোমধ্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকিও বাড়িতে গেছেন। রাজনের বাবা-মাসহ স্বজনদের সান্ত¡না দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ১ লাখ টাকাও অনুদান পেয়েছেন তারা। অর্থমন্ত্রী আবদুল মাল আবদুল মুহিতও তাদের নগদ টাকা দিয়েছেন। এ ছাড়াও দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ তাদের টাকা দিচ্ছেন। রাজনের সেজ চাচা আশিকুর রহমান বলেন, ‘টাকা-পয়সা দিয়ে আমাদের কি লাভ। আমরা যে ধন হারিয়েছি সেই ধন তো আর পাবও না। এখন আমাদের একটাই দাবি রাজন হত্যার বিচার চাই। হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। হত্যাকারীদের ফাঁসি হলেই আমাদের আত্মা শান্তি পাবে।

রাজন হত্যার দায় স্বীকার করেছে ময়না ॥ শিশু সামিউল আলম রাজনকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে আসামি চৌকিদার ময়না। সোমবার বিকেলে সিলেট ৩য় মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হকের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে ময়না। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দেয়া দীর্ঘ জবানবন্দীতে রাজনকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেয় ময়না। সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) আব্দুল আহাদ বলেন, শিশু রাজনকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতের কাছে জবানবন্দী দিয়েছে ময়না। শিশু রাজনকে হত্যার ভিডিওচিত্র প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নিজ বাড়ি থেকে ময়নাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। রিমান্ড শেষে সোমবার আদালতে দায় স্বীকার করে ময়না। রাজন হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া অন্যতম আসামি মুহিত আলমসহ বাকিরা রিমান্ডে রয়েছে।