২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বর্ষীয়ান সাংবাদিক ওবায়দুল হক আর নেই

  • চট্টগ্রামে শোকের ছায়া

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর, ভাষা সৈনিক বর্ষীয়ান সাংবাদিক এম ওবায়দুল হক আর নেই। সোমবার ভোর ৪টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর শেরশাহ কলোনীর সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির বাসায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক ওবায়দুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়েছে।

সাংবাদিক ওবায়দুল হক স্ত্রী, ৫ পুত্র ও ২ কন্যাসহ অনেক আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে যান। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা, দুপুরে জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা এবং বিকেলে হাটহাজারীতে নিজ গ্রামে তৃতীয় দফা জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক ওবায়দুল হকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক শোকবার্তায় বলেন, ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর এম ওবায়দুল হকের মৃত্যুতে দেশ একজন সাহসী সাংবাদিককে হারাল। মহান ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে ওবায়দুল হকের অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে সাংবাদিক ওবায়দুল হকের জানাজায় শরীক হন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত নুরুল আলম চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক এবং সাংবাদিক ওবায়দুল হকের সহকর্মী সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। জানাজার আগে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি এজাজ ইউসুফী, সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত এবং প্রয়াতের পুত্র ইব্রাহিম আজাদ।

এম ওবায়দুল হক ১৯৬২ সালে চট্টগ্রামের প্রাচীনতম পত্রিকা দৈনিক আজাদীর মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। দীর্ঘ ৪০ বছর সাংবাদিকতা শেষে তিনি অবসরে যান। সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামেও ছিলেন অগ্রণী। তিনি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি এবং বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মৃত্যুতে চট্টগ্রামের সাংবাদিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি এজাজ ইউসুফী ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি শামসুল হক হায়দরী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহনেওয়াজ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটি হাউজিং সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত ও সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি শামসুল হক হায়দরী ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি দিদারুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মাহমুদ এবং চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন সভাপতি শফিক আহমেদ সাজীব ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বাবু সাংবাদিক ওবায়দুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।