১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এবার টেস্ট অভিষেকের অপেক্ষায় মুস্তাফিজ

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে ॥ মুস্তাফিজুর রহমান! নামটাই যথেষ্ট, চোখের সামনে এই অক্ষরগুলো ভেসে উঠলেই সবাই এক নিমিষে বলে দিতে পারেন ১৯ বছর বয়সী এ তরুণ পেসার কী করেছেন? ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হওয়ার পর থেকে যা করেছেন এতে করে গবেষণার ব্যক্তি হওয়ার পাশাপাশি নাম জুড়ে গেছে-‘কাটার মাস্টার’ ও ‘সাতক্ষীরা এক্সপ্রেস’। তার ভয়ঙ্করত্ব সবচেয়ে বেশি বুঝেছে ভারতীয় দল। তবে সেটা ওয়ানডে ক্রিকেটে। এবার এ তরুণের ওয়ানডের অবিস্মরণীয় সাফল্যই বুঝি সুযোগ করে দিচ্ছে সাদা পোশাকের মর্যাদার ক্রিকেট ফরমেট টেস্টে অভিষেকের। এবারই প্রথম তিনি জায়গা করে নিয়েছেন বাংলাদেশের ১৪ সদস্যের টেস্ট দলে। সবকিছু ঠিক থাকলে আজ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে টেস্ট ক্যাপ পরবেন মুস্তাফিজ।

এর আগে বাংলাদেশ দলের হয়ে টেস্ট খেলেছেন ৭৭ ক্রিকেটার। তবে বাঁহাতি পেসারের অভাবটা সবসময়ই ছিল। টেস্ট ক্রিকেটে পদার্পণের পর উল্লেখযোগ্য বাঁহাতি পেসার হিসেবে দারুণ কিছু নৈপুণ্য দেখিয়ে অপরিহার্য ছিলেন মঞ্জুুরুল ইসলাম। এছাড়াও টেস্ট খেলেছেন নিয়মিত পারফর্মার হিসেবে সৈয়দ রাসেল এবং সাজেদুল ইসলাম ও বিকাশ রঞ্জন দাস। এখন পর্যন্ত বাঁহাতি পেসার হিসেবে মঞ্জুরুল সেরা বোলিং দেখিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে। তিনি ৮১ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন জিম্বাবুইয়ের বিপক্ষে ২০০১ সালের এপ্রিলে বুলাওয়ে টেস্টে। টেস্টে কোন বাংলাদেশী পেসারের তৃতীয় সেরা বোলিং নৈপুণ্য সেটি। এরপর দীর্ঘদিন খেলেছেন রাসেল। কিন্তু তিনিও ২০০৭ এর পর কোন টেস্ট খেলেননি এবং মঞ্জুরুল অনেক আগেই (২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি) বিদায় নিয়েছেন। বিকাশ বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টে ২০০০ সালে খেলার পর আর ঠাঁই পাননি। এরপর সাজেদুলকে নিয়ে চেষ্টা চালিয়েছে বাংলাদেশ। অবশেষে নতুন আবিষ্কার মুস্তাফিজ। আজ তার অভিষেক ঘটলে পঞ্চম বাঁহাতি পেসার হিসেবে টেস্ট খেলবেন বাংলাদেশের হয়ে। তার বিষয়ে দলের কোচ চান্দিকা হাতুরাসিংহে বলেন, ‘বোলিং আক্রমণে একজন বাঁহাতি থাকাটা ভিন্ন বিষয়। সমীকরণের বাইরে রাখতে হবে কন্ডিশনটাকে কারণ তিনি ভিন্ন মাত্রা দিতে সক্ষম হবেন। এটা যে কোন দলের জন্য বাড়তি সুবিধার। যখনই আমরা তাকে টেস্ট দলে পাব সেটা হবে বাড়তি সুবিধার।’ যদিও এত দ্রুতই টেস্ট ক্রিকেটে মুস্তাফিজকে খেলানো নিয়ে দ্বিমত আছে অনেকের। ফিটনেসে সমস্যা হবে না তো, আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল না কী? কিন্তু হাতুরাসিংহে বলেন, ‘সতর্কভাবে বলতে আপনি কি বোঝাতে চাইছেন? তিনি টেস্ট ক্রিকেট খেলার জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত।’ অধিনায়ক মুশফিকুর রহীমও মুস্তাফিজের পক্ষেই কথা বললেন, ‘আদর্শ তো অবশ্যই। কোচ যা বলল ও শুধু এই ফরমেটে না যে কোন ধরনের ক্রিকেটে ভাল করতে পারে। ঘরোয়া ক্রিকেটে ও ভাল করেছে। বড় দৈর্ঘ্যর ম্যাচেও কিন্তু ভাল করেছে। ওদের ব্যাটিং লাইনআপের নতুন যে চার-পাঁচ ক্রিকেটার এসেছে তারা কিন্তু কেউ মুস্তাফিজকে দেখেনি বা খেলেনি। আমরা যদি ওকে খেলাই অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না, আর সেটা ওর প্রাপ্যই হবে।’