১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আমলার লক্ষ্য জয়

  • বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তিত নয় প্রোটিয়া শিবির

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে ॥ ওয়ানডে সিরিজে বিস্ময়কর এক ধাক্কা খেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দল। প্রথমবারের মতো স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে সিরিজ হেরেছে। সে জন্য স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী হয়েই টেস্ট খেলতে নামবে। কিন্তু মুশফিকুর রহীমের দল কি করবে সেটা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয় দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজেদের সেরা নৈপুণ্যটা ধরে রাখার দিকেই মনোযোগী তারা। পূর্বের ধারাবাহিকতা রাখতে পারলে টেস্টে জয়ী হওয়ার প্রত্যাশা তাদের। এমন প্রত্যয়ই জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক হাশিম আমলা। গ্রায়েম স্মিথ, জ্যাক ক্যালিস অবসরে গেছেন এবং এবি ডি ভিলিয়ার্স নেই সে জন্য দলের ব্যাটিং এখন একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেলেও দলের বোলিং শক্তি নিয়ে দারুণ আশাবাদী তিনি। সোমবার বিকেলে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অনুশীলনের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক।

একটা দলে টেস্ট বোলিং র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে থাকা তিন বোলার ডেল স্টেইন (১), ভারনন ফিল্যান্ডার (৭) ও মরনে মরকেল (৯)। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে ত্রাসোদ্দীপক বোলিং বিভাগ দক্ষিণ আফ্রিকার। স্টেইন আর চার উইকেট দখল করতে পারলেই ৪০০ উইকেট শিকারের মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলবেন। এ বিষয়ে আমলা বলেন, ‘অবশ্যই ৪০০ টেস্ট উইকেট দারুণ একটি বিশেষ বিষয়। সঙ্কটময় মুহূর্তে তিনি আমাদের বিশেষ একজন বোলার। কোথায় খেলা সেটা বিষয় নয় তিনি বিশেষ অবদান রেখেছেন। আশা করছি তিনি যদি নিজের সেরা অবস্থায় থাকেন সেক্ষেত্রে কোন সন্দেহ নেই দলের জন্য সাফল্য বয়ে আনবেন। আমি জানি না পরিসংখ্যান কি, তবে তিনি ঘরের মাঠের মতোই উপমহাদেশে এবং অন্য যেকোন দেশে সমান ভাল। ডেল স্টেইন এমন একজন বোলার যে ফ্ল্যাট উইকেটেও সফল হতে জানে।’ তবে দলে নেই সিনিয়র ব্যাটসম্যানদের মধ্যে স্মিথ, আলভিরো পিটারসেন ও ক্যালিস। এবি ডি ভিলিয়ার্সও সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে সময় দিতে ছুটিতে। এ বিষয়ে আমলা বলেন, ‘অবশ্যই এবিকে ওয়ানডের মতো টেস্টেও মিস করব। সবসময়ই বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানকে মিস করার কথা। যে তিনজন অবসর নিয়েছেন- পিটারসেন, ক্যালিস ও স্মিথ সিনিয়র খেলোয়াড় ছিলেন। এখন দল একটা পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে। টেস্ট ক্রিকেটে একজন ব্যাটসম্যানকে অভিজ্ঞ হতে ৫-৬ বছর সময় লাগে।’

ওয়ানডে সিরিজে পিছিয়ে পড়েও দারুণ ক্রিকেট খেলে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এবার টেস্ট ক্রিকেটেও তারা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলবে। এ বিষয়ে আমলা বলেন, ‘বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজ জেতার কারণে কিছুটা আত্মবিশ্বাসী হতে পারে। কিন্তু টেস্ট ক্রিকেট ভিন্ন ফরমেট। অধিনায়ক হিসেবে আমার জন্য বাংলাদেশ কি করবে সেটা ভাবার বিষয় নয়। আমরা কিভাবে পারফর্ম করব এবং দক্ষিণ আফ্রিকা দল গত কয়েক বছরে যেমন করেছে একইরকম কিভাবে ভাল করবে সেটাই চিন্তার বিষয়। আমরা যদি ভাল নৈপুণ্য দেখাতে পারি আশা করছি জয়ী হয়ে ফিরব।’ আমলা মনে করেন দলের মূল শক্তিই হচ্ছে প্রতিপক্ষ কেমন নৈপুণ্য করবে সেটা নিয়ে কখনও চিন্তিত থাকে না। তার দাবি নিজেদের শক্তিমত্তা নিয়েই মনোযোগী প্রোটিয়া শিবির। এ শক্তিই প্রয়োগ করে টেস্ট জয়ে আশাবাদ জানালেন আমলা।