১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শেখ জামাল-শেখ রাসেল হাইভোল্টেজ ম্যাচ আজ

  • শীর্ষস্থান ধরে রাখা আর শিরোপা পুনরুদ্ধারের আশা বাঁচিয়ে রাখার লড়াই

রুমেল খান ॥ এক দলের লক্ষ্য শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখার জন্য জেতা। আরেক দলের শিরোপা পুনরুদ্ধারের আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য অবশ্যই জেতা। এমন সমীকরণ নিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৪টায় ‘মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ’ ফুটবলের ‘হাইভোল্টেজ’ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দেশীয় ফুটবলের দুই জায়ান্ট শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেড এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড। ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি শেষ হওয়ার পর জামাল-রাসেল ম্যাচ দিয়েই শুরু হচ্ছে লীগের সপ্তদশ রাউন্ডের প্রথম ম্যাচটি। মঙ্গলবার একই ভেন্যুতে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মুখোমুখি হবে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড বনাম ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড।

২০১৩-১৪ মৌসুমের লীগ চ্যাম্পিয়ন ‘বেঙ্গল ইয়োলোস’ খ্যাত জামাল এখন পয়েন্ট টেবিলে আছে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে। ১৫ খেলায় ১১ জয়, ৩ ড্র ও ১ হারে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে ১১ দলের মধ্যে সবার ওপরে। পক্ষান্তরে ২০১২-১৩ মৌসুমের লীগ শিরোপাধারী ‘বেঙ্গল ব্লুজ’ খ্যাত রাসেল ১৪ ম্যাচে ৯ জয়, ২ ড্র ও ৩ হারে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে চতুর্থ অবস্থানে। ১৫ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান ও ঢাকা আবাহনী আছে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে।

আজকের ম্যাচে রাসেল জিতলে নিতে পারবে প্রতিশোধ। লীগের প্রথম পর্বে জামাল-রাসেল দ্বৈরথে জয়ী হয়েছিল জামালই। ল্যান্ডিং ডার্বোয়ের গোলে জামাল হেসেছিল বিজয়ের হাসি। জামাল লীগে এ পর্যন্ত করেছে ৪৪ গোল বিপরীতে খেয়েছে ১৪ গোল, যা সবার চেয়ে বেশি। হাইতিয়ান ফরোয়ার্ড ওয়েডসন এ্যানসেলমে করেছেন একাই ১৫ গোল, যা চলমান লীগে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। ১২ গোল করে পিছিয়ে নেই নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড এমেকা ডার্লিংটনও। রাসেল করেছে ২৫ গোল, হজম করেছে ১৭ গোল। এখানেই জামালের চেয়ে পিছিয়ে তারা। গোল সঙ্কটের পাশাপাশি তারা ভুগছে রক্ষণভাগ নিয়েও। দলের মধ্যে যে দুজন সবচেয়ে বেশি গোল করেছেন, সেই জাহিদ হাসান এমিলি এবং ক্যামেরুনিয়ান ফরোয়ার্ড পল এমিলির গোলসংখ্যা যথাক্রমে ৫ ও ৬টি! এদের কারুরই হ্যাটিট্রক নেই। অথচ জামালের আছে একাধিক হ্যাটট্রিক।

তারপরও চলমান প্রিমিয়ার লীগ সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্যতম হতে যাচ্ছে জামাল-রাসেল ম্যাচটি। কেননা জাতীয় দলের অধিকাংশই খেলোয়াড় খেলেন এই দুই দলে। অথচ আজকের ম্যাচে দুই দল মাঠে নামবে ভিন্ন মানসিক অবস্থা নিয়ে। যেখানে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে মানসিকভাবে উজ্জীবিত জোসেফ আফুসির শিষ্যরা, সেখানে মারুফুল হকের শিষ্যরা মাঠে নামবে মানসিকভাবে চরম বিধ্বস্ত অবস্থা নিয়ে। কেননা নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে ৫-০ গোলের শোচনীয় তিক্ত হারের স্বাদ পেয়েছে তারা!

শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের অধিনায়ক-মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘চ্যাম্পিয়নশিপ ধরে রাখতে হলে এবং পয়েন্ট টেবিলে ভাল অবস্থানে থাকতে হলে আমাদের এই ম্যাচে জিততেই হবে।’ দলের ইনজুরি সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, ‘নাসির অনেকদিন ধরেই ইনজুরিতে। ধীরে ধীরে তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে এখনও ম্যাচ খেলার মতো ফিট না হওয়ায় রাসেলের বিপক্ষে ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা নেই। তবে ইনজুরিতে পড়া সোহেল অনেকটাই ফিট। তিনি কালকের (মঙ্গলবার) ম্যাচে খেলতে পারেন।’ নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় জয় ও প্রতিপক্ষ রাসেলের শেষ ম্যাচে বড় হার কতটা অনুপ্রেরণা যোগাবে মঙ্গলবারের ম্যাচে? এ প্রসঙ্গে মামুনুলের ভাষ্য, ‘অতীত হচ্ছে অতীত। অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় না। আমরা ভাবছি বর্তমান নিয়ে। এটাই করা উচিত। রাসেলকে হারানোর জন্য আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও প্রস্তুত।’

কেমন ঈদ করলেন জামালের ফুটবলাররা? এবার ভিন্ন আঙ্গিকে ঈদ উদযাপন করেছেন জামালের ফুটবলাররা। ঘরোয়া ব্যস্ত সূচীর কারণে মামুনুল-জামালরা ঈদের ছুটিতে শেকড়ের টানে বাড়িতে ফিরতে না পারলেও ক্লাব সতীর্থদের সঙ্গেই ঈদের দিনটি উদ্যাপন করেছেন। ঈদের জামাত শেষে ক্লাবে ফিরে সবাই ঈদের আনন্দে মিশে একাকার হয়ে যান। ফুটবলারদের সঙ্গে সময় কাটাতে সকালেই চলে আসেন ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদের। সবাই মিলে নাস্তা করেন খিচুরি-মাংস দিয়ে। কোলাকুলি, সেলফি, খাওয়া-দাওয়া, আনন্দ কোন কিছুরই কমতি ছিল না। আর এই বাঙালীয়ানায় শামিল হন ডেনমার্ক প্রবাসী জামালের বাংলাদেশী মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া এবং দলের নাইজিরিয়ান কোচ জোসেফ আফুসিসহ ক্লাবের অন্য বিদেশী ফুটবলাররাও। দুপুরে ছিল আরও চমক। ক্লাব সভাপতি মনজুর কাদেরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন ফুটবলাররা। পাশাপাশি রাতে ফুটবলারদের জন্য একটি সঙ্গীত সন্ধ্যার আয়োজিত হওয়ার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণে সেটা পরে বাতিল করা হয়।

এবার শোনা যাক আজকের ম্যাচ নিয়ে কি ভাবছেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের অধিনায়ক-ফরোয়ার্ড মিঠুন চৌধুরী, ‘কোন সন্দেহ নেই, জামালের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ ম্যাচে আমরা খুবই বাজে খেলেছি। তারপরও হতোদ্যম হচ্ছি না। জামালকে হারানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাস আছে। আমি মনে করি জামালের বিপক্ষে ম্যাচটিই আমাদের জন্য ফাইনাল ম্যাচ। এ ম্যাচটি জিতে আমরা সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে চাই।’

ঢাকা আবাহনীর কাছে হারতেই পারে শেখ রাসেল। কিন্তু তাই বলে এত বড় ব্যবধানে? কি হয়েছিল সেদিনের খেলায়? ‘ওই ম্যাচের কথা ভুলে যেতে চাই। সব ক্লাবেরই বাজে দিন আসে। সেদিন আমাদেরও এসেছিল। আশা করি জামালকে হারিয়ে ওই ম্যাচের হারের কথা ভুলে যাব।’ বিষয়টা এড়াতে চাইলেন মিঠুন। দলে কোন চোট সমস্যা? ‘আমাদের রেজা ও মিশু আগেই ইনজুরিতে পড়েছিল। মিশু আবার কামব্যাক করেছে। এছাড়া দলে আর তেমন বড় ধরনের কোন ইনজুরি নেই।’ ঈদ কেমন কাটালেন? ‘এবারের ঈদ আমরা ক্লাবেই কাটিয়েছি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি ছিল। তারপরও ঈদে কোন আনন্দ অনুভূত হয়নি। কেননা সারাক্ষণই মনের মাঝে কাঁটার মতো খুঁচিয়েছে আবাহনীর কাছে ওই শোচনীয় হারটি।’ মিঠুনের স্বগতোক্তি।

এখন দেখার বিষয়, আজকের জামাল-রাসেল জমজমাট ম্যাচের ফল কি হয়।