১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদের আনন্দ ॥ পর্যটন কেন্দ্রে ভিড়

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ঈদের আনন্দ বাড়ি-ঘর, শহর নগর গ্রাম-গঞ্জ ফেলে এখন ভিড় করেছে পর্যটন ও দর্শনীয় কেন্দ্রগুলোতে। সেখানে উপচে পড়া ভিড় নারী পুরুষ-শিশু ও বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের। স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো খরব।

রাজশাহী ॥ ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে সোমবার থেকে। এরই মধ্যে গ্রাম ছেড়ে আবার রাজশাহী শহরে আসতে শুরু করেছে মানুষ। শহরের পা রেখেই অনেকে ছুটছেন রাজশাহীর বিনোদনকেন্দ্র সমূহে। যারা শহরে ঈদ করেছেন তারা ঈদের দিন থেকেই মাত করেছেন বিনোদন কেন্দ্রে। এখন গ্রাম থেকে আসা মানুষ আসছেন এসব বিনোদন কেন্দ্রে। রাজশাহী নগরীর বিনোদন কেন্দ্র বলতে পদ্মা নদীর পাড়। তাই সব মানুষের স্রোত সেখানেই। সোমবার দিনভর রাজশাহীর সবকটি বিনোদনকেন্দ্রে লক্ষ্য করা গেছে মানুষের ভিড়। মেঘ রোদের লুকোচুরিপূর্ণ আবহাওয়ায় দারুণ উপভোগ করছেন বিনোদন পিপাসু মানুষ। এক মাস সিয়াম সাধনার ক্লান্তি, তার ওপর বিরূপ আবহাওয়া, এ কারণেই ঈদের দিন বেড়াতে বের হননি অনেকেই। তবে ঈদের পরদিন থেকে আর ঘরে বসে থাকতে রাজি হননি বিনোদন পিপাসুরা। সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে রাজশাহী শহরের বিনোদন স্পটগুলোতে উপচেপড়া ভিড় সব বয়সী মানুষের। বিনোদন পিপাসুরা ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ায় রাজশাহী শহরে বেড়ানোর অন্যতম বাহন রিকশা ও অটোরিকশার কদর এখন তুঙ্গে। এই সুযোগে মানুষের কাছ থেকে দ্বিগুণেরও বেশি ভাড়া হাঁকাচ্ছেন রিক্সা ও অটোরিক্সা চালকরা। বিনোদন পিপাসুদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজশাহী নগরীর শহীদ কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, শহীদ জিয়া শিশু পার্ক, আই ও টি-বাঁধ, বড়কুঠি, শিমলা পার্ক, পদ্মা গার্ডেন, ভদ্রা পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন স্পট। শহরের বাইরে একটু দূরে গোদাগাড়ীর শফিনা পার্কেও মানুষ যাচ্ছেন পরিবার পরিজন নিয়ে।

বাগেরহাট ॥ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদুল ফিতরের ছুটিতে সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও হযরত খানহাজান আলী (রঃ) মাজারসহ বাগেরহাটের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ভিড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয় বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ ও খানজাহান আলীর মাজার এলাকায়। ঈদের দিন থেকে এই বিনোদন স্পটে প্রায় লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটে বলে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগ ও ষাটগম্বুজে অবস্থিত প্রতœতত্ত্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে সুন্দরবন। এ সময় হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটকের ভিড় সামলাতে বনরক্ষীদের হিমশিম খেতে হয়।

গফরগাঁও ॥ হাজারো মানুষের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নির্মিত ব্রিজের চরাঞ্চলের আশপাশের এলাকা। গত শনিবার ও রবিবার ঈদের দিন ও তার পরদিন বৃষ্টি উপেক্ষা করে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় ভ্রমণপিপাসু হাজারো মানুষ। পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের বাড়তি ছুটি নিয়ে গ্রামে আসা হাজার হাজার মানুষের আনন্দ দেয়ার জন্য হাতছানি দিয়ে ডাকছে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নির্মিত গফরগাঁও-হাজীগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ ব্রিজ। এর পূর্বপাশে নান্দাইল পশ্চিম পাশে গফরগাঁও, মাঝে বিশাল কোলাহল মুক্ত বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তার ভিতর দিয়ে বয়ে চলছে বিশাল জলরাশি ব্রহ্মপুত্র নদ। সমতলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সারাক্ষণ ভ্রমণপিপাসু মানুষকে ডাকছে। প্রতিদিন এই ব্রিজ এলাকায় গফরগাঁও, নান্দাইল, হোসেনপুর, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার হাজার হাজার দর্শনার্থীর পদভারে এর আশপাশের এলাকাও মুখরিত হয়ে উঠে। একটি ব্রিজ উপজেলার চর আলগী ইউনিয়নসহ বদলে দিয়েছে আশপাশের এলাকার চিত্র। চিরচেনা চরাঞ্চল ক্রমেই পরিচিতি লাভ করছে ব্রহ্মপুত্রের কক্সবাজার হিসেবে।

কলাপাড়া ॥ ঈদের ছুটিতে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে পর্যটক দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় রয়েছে। মুখরিত হয়ে আছে কুয়াকাটা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এলাকা। কুয়াকাটার আবাসিক হোটেলগুলো রয়েছে পর্যটকে পরিপূর্ণ। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে কুয়াকাটার সব শ্রেণীর ব্যবসায়ী আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে। বর্ষস্নাত উত্তাল কুয়াকাটা সৈকতে তিনদিন ধরে পর্যটকের ভিড় লেগে আছে। বর্ষার কুয়াকাটাকে জীবনে স্মৃতিময় করে রাখতে হাজার হাজার তরুণ-তরুণীর সমাবেশ ঘটেছে। তাদের সমুদ্র গোসল আর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে মাতামাতিতে উৎসবমুখর পরিবশে বিরাজ করছে। পারিবারিকভাবেও এখানে বেড়াতে এসেছে শত শত পরিবার। শত শত বাস, মাইক্রো আর প্রাইভেটকার এখন কুয়াকাটায় অপেক্ষমাণ। ঈদের সকাল থেকেই কুয়াকাটামুখী ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

নীলফামারী ॥ দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর এখনও ঈদ-উল-ফিতরের আনন্দ উৎসব অব্যাহত রয়েছে। ঈদের দিন শনিবার বিকেল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত পর্যটকদের ঢলে ভরে উঠেছে দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ কমান্ড এলাকা, বিরাট রাজার দিঘি নীলসাগর, ভিন্নজগত ও মায়া কাঁনন। শত বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে নগর জীবনের ব্যস্ততা কাটিয়ে, নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষগুলো নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে এই আনন্দ উৎসব ঘিরে।

মাদারীপুর ॥ ঈদের আনন্দে বিনোদন পিপাসুরা সাধারণত ঘুরতে যান বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। কিন্তু বিনোদনবঞ্চিত মাদারীপুরবাসীর কাছে নবনির্মিত ‘সপ্তম চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু’ হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্র।

ঝালকাঠি ॥ ঝালকাঠির বিনোদনপ্রিয় মানুষ ঈদ-উল-ফিতরের প্রথম দিন থেকে বরিশাল-ঝালকাঠি-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের গাবখান সেতু এবং ঝালকাঠির শহরের সুগন্ধা নদীর পারে পৌর মিনিপার্কে উপচেপড়া ভিড়ে মুখরিত রয়েছে। সপরিবারে বিভিন্ন বয়সের মানুষ বিকেল ৪টা থেকে রাতভর এখানে ঘুরে বেরিয়েছে। ঝালকাঠি শহরের প্রাণকেন্দ্রের মধ্যে এক সময়ের আলোচিত সিটি পার্কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং প্রস্তাবিত গাবখান-ধানসিঁড়ি ও সুগন্ধার মোহনায় মনোরম পরিবেশে ধানসিঁড়ি ইকোপার্কটি এক দশকেও প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় বিনোদনপ্রিয় মানুষ গাবখান ব্রিজে ঝুঁকি নিয়েও প্রতিবছর সমবেত হয়।

রংপুর ॥ ঈদের তিন দিন রংপুরের বিনোদন পার্কগুলোতে ছিল উপচেপড়া ভিড়। বিশেষ করে শিশুপার্ক, চিড়িয়াখানা, ভিন্নজগত, সেনাবাহিনীর প্রয়াস পার্কে এ কয়েক দিন শিশু-কিশোরদের ভিড়ে পা ফেলার উপায় ছিল না। প্রতিবন্ধী শিশুদের আর্থিক সহায়তার উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা বিনোদন কেন্দ্র প্রয়াসের তোরণ উদ্বোধন করেন ঈদের দিন সকালে সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু।

বগুড়া ॥ এবারের ঈদের আনন্দ তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে মেলে ধরেছে নানা ভঙ্গিমায় নানা রূপে। বগুড়া শহরের প্রতিটি মোড়ে পাড়া ও মহল্লায় স্পীকারে স্টেরিও সাউন্ড সিস্টেমে ব্যান্ডের বাজনা বেজে উঠেছে। সঙ্গীতের নাচনে উল্লাস করেছে। এই তরুণরাই মিনি ট্রাকে মাইক বাজিয়ে শহর ও শহরতলিতে ঘুরেছে মহা উল্লাসে। সঙ্গীতের তালে গ্রামের পথেও ছুটেছে। ঈদের আনন্দে গল্পে কবিতায় সুরের রাগরাগিনীতে আড্ডায় মাতিয়ে তুলেছে। নতুন পোশাকে ঈদের প্রতিটি মুহূর্ত হৈহুল্লোরে কাটিয়ে দিয়েছে। আনন্দের উচ্ছলতায় মেতে উঠে গ্রামেও পা বাড়িয়েছে। একটা সময় ঈদের দিনে তরুণরা নির্দিষ্ট সময়ের পরে ঘরে ফিরে যেত। বর্তমানে কেউ মোটরবাইকে কেউ মোটর গাড়িতে কেউ ট্রাকে করে দূরদূরান্তে আজানারর পথে পাড়ি দেয়। ফিরে এসে কেউ ট্যাবে কেউ স্মার্ট ফোন নিয়ে বসে। জানান দেয় কত পথ ঘুরে কত কি দেখেছে।