১৬ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইলিশা ঘাটে ৩শ’ মিটার এলাকা মেঘনায় বিলীন

  • হুমকির মুখে বহু স্থাপনা

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোলা, ২০ জুলাই ॥ ভোলা সদর উপজেলার উত্তরে ইলিশা ও রাজাপুর ইউনিয়নের ফেরিঘাটসংলগ্ন সড়কের ব্লক বাঁধ এলাকায় ঈদের দিন হঠাৎ করেই মেঘনা নদীর তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ঈদের দিনই ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ২শ’ মিটার এলাকা মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। গত তিন দিনে প্রায় ৩শ’ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে ভোলার আক্কেলপুর ফেরিঘাট, ২টি মৎস্য আড়ত, ২টি মসজিদ, ২টি বাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এছাড়াও সড়ক বিভাগ কর্তৃক প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সদস্য নির্মিত ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কের ব্লক বাঁধ ধসে যাচ্ছে। ভাঙ্গনের তীব্রতা দেখে ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ভাঙ্গন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দফতর জরুরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। এদিকে ফেরি বাস্তবায়ন ও স্বার্থ রক্ষা উন্নয়ন কমিটির আয়োজনে রবিবার দুপুরে ইলিশা ফেরিঘাট রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে। এলাকাবাসী বলছে, জরুরীভিত্তিতে ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে ভোলা-লক্ষ্মীপুর মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা করা যাবে না। অপরদিকে ভাঙ্গন পরিস্থিতির খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ইলিশা রাজাপুর এলাকা পরির্দশন করেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ অতি দ্রুত স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়ে বলেন, পানিসম্পদমন্ত্রী ও যোগাযোগমন্ত্রীর সঙ্গে ঢাকায় গিয়ে কথা বলব। তিনি আরও বলেন, এ সরকারের আমলে সব কিছু শান্ত। বিএনপির আমলে যে অত্যাচার হতো। এমনকি গরু পর্যন্ত পুড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ আমরা সহাবস্থানে আছি। শেখ হাসিনার দল প্রতিহিংসা প্রতিশোধে বিশ্বাস করে না। সে কারণেই বাংলাদেশের অবস্থা ভাল।

ভোলা সদরের উত্তরের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন ইলিশা ও রাজাপুর। এ দুটি ইউনিয়নের ওপর দিয়ে ভোলা লক্ষ্মীপুর মহাসড়ক ও ফেরিঘাট হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের একুশ জেলার ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু অবহেলিত এই ইউনিয়ন দুটির বিস্তীর্ণ এলাকা এখন রাক্ষুসে মেঘনা নদী গিলে খাচ্ছে। প্রতিবছরই রাক্ষুসে মেঘনার ভাঙ্গনের মুখে পড়ে হাজার হাজার পরিবার গৃহহারা হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমেও মেঘনা নদীর ভয়ঙ্কর রূপধারণ করে। সেই ভাঙ্গনের ধারা এখন আরও চরম আকার ধারা করেছে। ঈদের দিন ২৪ ঘণ্টায় হঠাৎ করেই ইলিশা ফেরিঘাট এলাকা থেকে বিশ্বরোড মৎস্যঘাট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙ্গন বৃদ্ধি পেয়েছে।