২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েসের বিচার কাজ ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ এ্যান্ড কনসালটেন্টের আটজন পরিচালকের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলনের লক্ষ্যে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদনের জন্য তৈরি করা প্রসপেক্টাসে (কোম্পানির সারসংক্ষেপ) অসত্য তথ্য প্রকাশ করায় ২০০১ সালের ১৭ জানুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বৃহস্পতিবার এ মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পূর্বনির্ধারিত ছিল। আদালতে আসামি হিসেবে ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস কামরুন্নেছা উপস্থিত ছিলেন। মামলা পরিচালনায় আসামি পক্ষের আইনজীবী দুই মাস মুলতবির জন্য আবেদন করেন। আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে এক মাস বা ১৬ আগস্ট পর্যন্ত মুলতবি করেন।

রাজধানীর পল্টনে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) ভবনে অবস্থিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মোঃ হুমায়ুন কবীর এ আদেশ দেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালকে জানান, তারা এরই মধ্যে মামলা স্থগিত করার জন্য হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। এ জন্য মামলা মুলতবির জন্য দুই মাসের আবেদন করেন তিনি।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস কোম্পানি আইন, ১৯৯৩ এর অধীনে নিবন্ধিত জয়েন্ট ভেঞ্চারে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। যা ১৯৯৬ সালের আগস্ট মাসে ৫ কোটি টাকার পুঁজি সংগ্রহের জন্য প্রতিটি ১০০ টাকা করে মোট ৫ লাখ সাধারণ শেয়ার ইস্যুর জন্য প্রসপেক্টাস প্রকাশ করে। ওই প্রসপেক্টাসের তথ্যের ভিত্তিতে পুঁজিবাজার তালিকাভুক্তির জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি আইপিওর অনুমোদন দেয়। তবে ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস ও ইস্যু ম্যানেজার ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ এ্যান্ড কনসালটেন্ট লিমিটেড যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে মেশিনারিজের শেষ কনসাইনমেন্ট না আসার বিষয়টি জানা সত্ত্বেও প্রসপেক্টাসে গোপন করে। এতে বিনিয়োগকারীরা প্রতারিত হয়েছেন। এ জন্য কোম্পানিটি ১৯৯৬-৯৭ থেকে ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোন লভ্যাংশ দিতে পারেনি বলে দাবি করেছে বিএসইসি।

পরবর্তী সময়ে বিএসইসি এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করে ২০০০ সালের জুনে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এর ধারা ২১ অনুযায়ী দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। গঠিত কমিটির প্রতিবেদনে ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ ১৯৬৯ এর ১৭ ধারা লঙ্ঘন করেছেন এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০০১ সালে ১৭ জানুয়ারি বিএসইসির উপ-পরিচালক মোঃ মিজানুর রহমান (আইন) মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। মামলার বিবাদীরা হলেন- ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস কামরুন্নেছা, এসারানক ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ৩৪, ওয়ান্ডাম স্ট্রিট হংকং-এর মনোনীত পরিচালক এএ ভাসওয়ানি ও ফ্রাঙ্ককাই চেন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্যভুক্ত ট্রেকহোল্ডার (০৫৭) ন্যাশনাল সিকিউরিটিজ এ্যান্ড কনসালটেন্টস লিমিটেডের পরিচালক খান মোহাম্মদ একরামুল্যা, শাহজাহান কবির, সৈয়দ শফিকুল হক, হাবিবুল ইসলাম হক ও মোস্তফা বিল্লাহ খান।

তবে চার্জ গঠনের সময় মামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস কামরুন্নেছা। তিনি বিচারককে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি নির্দোষ। আমি ন্যায়বিচার প্রার্থনা করছি।