১৮ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঈদের ছুটির পর ব্যাংক খুললেও লেনদেন কম

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ ঈদের ছুটির পর সোমবার প্রথম কর্মদিবসে ব্যাংক খুললেও লেনদেন হয়েছে কম। গ্রাহকের চাপ কম থাকায় কোলাকুলি, শুভেচ্ছা বিনিময় আর ঈদের সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেই দিন পার করেছেন বেশিরভাগ কর্মকর্তা। ব্যাংকপাড়া খ্যাত মতিঝিলে বিভিন্ন শাখায় এমন চিত্রই দেখা গেছে।

জানা গেছে, দেশে কার্যরত ৫৬টি তফসিলী ব্যাংকের সব শাখাই সোমবার খোলা ছিল। রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, কাওরানবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংকগুলোতে দেখা গেছে, সকাল ১০টায় বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অধিকাংশ বিভাগের কর্মকর্তাদের টেবিল চেয়ার ছিল ফাঁকা। গ্রাহকের উপস্থিতি ছিল হাতেগোনা। ব্যাংকের লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে মতিঝিলের ফারমার্স ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার হারুনুর রশিদ বলেন, ঈদের পর প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় গ্রাহক উপস্থিতি ছিল কম। তাই লেনদেন তেমন একটা হয়নি। একই চিত্র দেখা গেছে বাংলাদেশ ব্যাংকেও। এ দিন লেনদেন হয়েছে খুব কম।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রথম কর্মদিবস হওয়ায় গ্রাহক উপস্থিতি কম ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য দিন বেসরকারী খাতের ব্যাংকগুলো এখানে টাকার জন্য এলেও আজ চাহিদা না থাকায় তারাও আসেনি। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে এবার সরকারী ছুটি কম হওয়ায় অনেকই অগ্রিম ছুটি নিয়েছেন। তাই ঈদের ছুটির পাশাপাশি অগ্রিম ছুটি এবং আগামী শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় রবিবারের আগে পুরোদমে কাজ শুরু হবে না। ব্যাংকাররা আশা করছেন, রবিবার থেকেই ব্যাংকপাড়ায় সেই চিরচেনা চিত্র আবারও দেখা যাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, অনেকেই ছুটিতে থাকায় সোমবার উপস্থিতি কম ছিল। আশাকরি মঙ্গলবার থেকে সবাই আবার নিয়মিত হয়ে যাবেন।

ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথে টাকা না থাকাসহ নানা রকম ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রাহকদের। তাই এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখাতে ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দিতে ব্যাংকগুলোকে আগেই সতর্ক করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে অন্যান্য বছরের মতো এবার ঈদের ছুটিতে নগদ টাকা নিয়ে খুব একটা বিপাকে পড়তে দেখা যায়নি গ্রাহকদের। সোমবার ব্যাংকে লেনদেন কম হলেও অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথে টাকা ভর্তিসহ ব্যাংকের দাফতরিক কার্যক্রম চলেছে স্বাভাবিক নিয়মেই। এটিএম বুথে টাকার টান পড়ার আশঙ্কা তেমন একটা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তারা। এদিকে বড় গ্রাহকের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক মজবুত করতে প্রধান কার্যালয়ে ছোটখাটো পুনর্মিলনীর আয়োজন করে কয়েকটি বেসরকারী ব্যাংক। ঈদের পরের ব্যাংকের লেনদেন বিষয়ে জানতে চাইলে বেসকারী একটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী জনকণ্ঠকে বলেন, আমাদের সব শাখাই সোমবার খোলা ছিল। কিন্তু লেনদেন তেমন একটা হয়নি। তবে বড় শাখাগুলোর তুলনায় ছোট শাখাগুলোতে বেশি লেনদেন হয়েছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।