২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঐতিহাসিক সমঝোতা

তর্ক-বিতর্ক বা আলোচনা-সমালোচনা যা-ই থাক ইরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির পরমাণু বিষয়ে যে সমঝোতা চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে তা অভাবনীয় এবং নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক বলা যায়। দীর্ঘ পথ এবং পটপরিক্রমা শেষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য পরাশক্তিগুলো একটি চুক্তি সম্পাদন অবশেষে করতে পেরেছে নানামুখী বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও চুক্তি অনুমোদন করেছে। এই চুক্তি বিশ্বকে আরও অধিক নিরাপদ করবে, নাকি যুদ্ধবিগ্রহ বাড়াবে তার জন্য আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে। চুক্তিটি আরও অনেক পর্যায়ে অনুমোদিত হওয়ার পর এর ভবিষ্যত কী দাঁড়াবে, কোন্্ পথে পরিচালিত হবে, তার দিগন্ত হয়ত উন্মোচিত হবে। স্পষ্ট হবে পরমাণু কর্মসূচীর ক্ষেত্রে ইরান কোন্্ পথে ধাবিত হবে। সে কি হয়ে উঠবে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিধর শক্তি, নাকি এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে শান্তির অণুপরমাণু ছড়াবে এবং তৈরি করবে পারমাণবিক বোমাসহ অস্ত্রশস্ত্র, যা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। চুক্তির ফলে ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহৃত হলে দেশটির অর্থনীতি গতিশীল হবে। এই চুক্তি ভাল কী মন্দ হলো তা নিয়ে নানা মতামত আসছে। তবে এর একটি যুক্তিগ্রাহ্য মূল্যায়ন করতে আরও পথ পাড়ি দিতে হবে। সবকিছুর পরও বলা যায়, তিন দশক ধরে প্রায় কথা বলা বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকরা কুড়ি মাস ধরে আলোচনা শেষে একটি সমঝোতায় পৌঁছতে পেরেছেন, যা অভাবনীয়। এমনিতে চুক্তি বাস্তবায়নের পথটি দীর্ঘ ও প্রলম্বিত। এখন চুক্তি সই করা দেশগুলোর কংগ্রেস তথা সংসদে চুক্তিটি অনুমোদিত হবে ভোটাভুটিতে। তবে বেগ পেতে হবে মার্কিন কংগ্রেসকে। রিপাবলিকান পার্টি চুক্তির বিরোধী। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার বন্ধ করার পরিবর্তে সারাবিশ্বে এই চুক্তি অস্ত্রের প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে দেবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসে চুক্তি অনুমোদনের প্রস্তাব বিবেচিত হবে। ওবামা হুমকিও দিয়েছেন, চুক্তি কংগ্রেসে বাধা পেলে তিনি ক্ষমতাবলে ভেটো দেবেন। তার বিরোধীদের মতে, এ চুক্তি ইরানকে আরও সাহসী করে তুলবে। মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী তা ছড়িয়ে দেয়ার রসদ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। চুক্তির বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইল ও সৌদি আরব। সৌদিরা শিয়া প্রভাবিত ইরানের ঘোর বিরোধী। তারা চুক্তি নিয়ে শঙ্কিত। এই চুক্তির আওতায় ইরান তার পরমাণু কর্মসূচী সীমিত করার বিনিময়ে আর্থিক, সামরিকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পাবে। কিন্তু বিষয়টি খুব সহজ নয়। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার অনুমোদনের পর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। চুক্তির মূল দলিলটি কারও কাছে রাজনৈতিক চুক্তি, ঐতিহাসিক চুক্তি। কারও কাছে ঐতিহাসিক খারাপ চুক্তি, ঐতিহাসিক ভুল। ওবামার সামনে দুটো পথই খোলা ছিল, সমস্যার কূটনৈতিক সমাধান বা যুদ্ধ। তিনি প্রথমটাই বেছে নিয়েছেন।

পরমাণু কর্মসূচী বিস্তার রোধে সম্পাদিত চুক্তি কোন পক্ষের জন্যই পরিপূর্ণ স্বস্তি বয়ে আনতে পারবে তা নয়। কিন্তু চুক্তিতে যে পৌঁছানো গেছে সেটাই এক বড় সাফল্য।