২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌদি আরব ইরানকে মোকাবেলায় তৎপর

  • হামাস নেতার সঙ্গে বাদশা সালমানের বৈঠক

ইরানের সম্ভাব্য হুমকির মুখে আরব ঐক্য জোরদার করার প্রচেষ্টায় সৌদি বাদশা সালমান শুক্রবার হামাস নেতা খালেদ মেশালের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। গত সপ্তাহে ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে দেশটির চুক্তি হওয়ার পর এ হুমকি আরও গুরুতর হয়ে দেখা দিয়েছে বলে সৌদি আরব মনে করে। খবর ডন অনলাইনের।

রক্ষণশীল সুন্নী মুসলিম রাজতান্ত্রিক দেশ সৌদি আরব ঐ অঞ্চল জুড়ে শিয়া অধ্যুষিত ইরানকে মোকাবিলা করতে চলতি বছর আরও বেশি তৎপর হয়ে ওঠে। ইরানের প্রভাবই আরব রাষ্ট্রগুলোতে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ বলে সৌদিরা মনে করে। রিয়াদের আশঙ্কা, ঐ চুক্তি ইরানকে আরব দেশগুলোতে সৌদি আরবের শত্রুদের প্রতি সমর্থন বাড়াতে অবাধ সুযোগ দেবে। কারণ চুক্তিটির ফলে ইরান এর পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাতে দিয়ে নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে রেহাই পাবে।

ইরাকী পর্যবেক্ষক মোস্তাফা আলানি বলেন, এটি ইরানের প্রভাব মোকাবিলার এক বড় কৌশলের অংশ। এটি সৌদি আরবের প্রধান ইস্যু এবং পরমাণু চুক্তির পর এটিই সবচেয়ে গুরুতর বিষয়। আলানি সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। জানুয়ারিতে বাদশা হওয়ার পর সালমান ইরানের আঞ্চলিক মিত্রদের বিরুদ্ধে এক সুন্নী কোয়ালিশন গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। সেই লক্ষ্যে তিনি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বিরোধী বিদ্রোহীদের প্রতি সমর্থন বৃদ্ধি করছেন এবং ইয়েমেনের হুতি মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সৌদিরা হামাসকে বছরের পর বছর ধরে গভীর সন্দেহের চোখে দেখে এসেছে, কারণ ঐ ফিলিস্তিনী জঙ্গী দলটি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের মিত্র এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের এক উপদলও বটে। ব্রাদারহুডকে রিয়াদ প্রায়ই এক হুমকি হিসেবে দেখে এসেছে।

সৌদি আরবের মতো ব্রাদারহুডও সুন্নী মতাবলম্বী। কিন্তু রিয়াদ একে অবিশ্বাসের চোখে দেখে থাকে। কারণ দলটি রক্ষণশীল ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি বংশানুক্রমিক শাসনের স্থলে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানায়। দলটির ধর্মীয় মূল্যবোধ কায়েমের দাবি সৌদি আরবের নাগরিকদের কাছে আবেদন সৃষ্টি করতে পারে।