১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভিনগ্রহের প্রাণীর খোঁজে স্টিফেন হকিং

এলিয়েন বা ভিনগ্রহের প্রাণী খোঁজার চেষ্টা বহুদিনের। তা নিয়ে জল্পনাও অনেক। এবার তাদের সন্ধানে পদার্থবিদ স্টিফেন হকিং। ১০ কোটি ডলারের ‘ব্রেকথ্রু লিস্ন ইনিশিয়েটিভ’ নামে এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছেন ইউরি মিলনার নামে রাশিয়ার এক বিনিয়োগকারী। এই উদ্যোগে সামিল হয়েছেন স্টিফেন হকিংও। খবর বিবিসির।

লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটিতে সোমবার এই প্রকল্পটির উদ্বোধন হয়। পৃথিবীর বাইরে বুদ্ধিমান জীবের অস্তিত্ব সন্ধানে এখনও পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক অভিযান। ৭৩ বছরের হকিংয় বলেছেন, আমরা মনে করি প্রাকৃতিকভাবেই পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল। তাই মহাশূন্যের কোথাও না কোথাও হয়ত প্রাণের অস্তিত্ব আছে। তারা হয়ত আমাদের জীবনের উপর নজর রাখছে। পৃথিবী থেকে বেতার তরঙ্গ পাঠিয়ে তার কোন প্রত্যুত্তর আসে কি না, তার পরীক্ষা চলছে অনেকদিন ধরে। অপেক্ষা চলছে প্রত্যুত্তরের। যদি আসে তাহলে বোঝা যাবে, মানুষ একা নয়, বুদ্ধিমান প্রাণী আরও আছে, যদিও তা হতে পারে অনেক আলোকবর্ষ দূরে। নতুন পরিকল্পনায়ও বেতার তরঙ্গই পাঠানো হবে, তবে মহাকাশে ১০ বছর ধরে আগের চেয়ে ১০ গুণ বেশি পরিসর ছাড়িয়ে যাবে এই তরঙ্গ। যা পৌঁছাবে পৃথিবীর কাছের অন্তত ১০০টি ছায়াপথের ১০ লাখের মতো নক্ষত্রে। আর তা স্ক্যান হবে আগের চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি, ১০০ গুণ দ্রুত। এই প্রকল্পে যোগ করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দুটি টেলিস্কোপ। এগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রিন ব্যাংক টেলিস্কোপ এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসে থাকা পার্কেস টেলিস্কোপ। এই অনুসন্ধানে যুক্ত যুক্তরাজ্যের এ্যাস্ট্রোনমার রয়্যাল লর্ড মার্টিন রিস বলেন, একবিংশ শতকের বিজ্ঞানে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিযান হচ্ছে ভিনগ্রহের প্রাণীর অনুসন্ধান।

‘ব্রেকথ্রু লিসনে’র মূল উদ্যোক্তা ইউরি মিলনারের কণ্ঠেও আশার সুর, প্রযুক্তি এখন এতটাই এগিয়েছে যে ভিনগ্রহের প্রাণীরা যদি কোন সঙ্কেত পাঠায়, তা ধরা সম্ভব। আমরা কি একা। বর্তমান প্রযুক্তি মানুষের এই সময়ের সবচেয়ে বড় এই প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা মিলনারের মহাকাশ নিয়ে আগ্রহের শুরুটা কার্ল সেগানের ‘ইন্টিলিজেন্ট লাইফ ইন দি ইউনিভার্স’ বইটি পড়ে। তখন তিনি মাত্র ১০ বছরের এক রুশ বালক।