২১ জুলাই ২০১৫

শিরোপার সুবাস পাচ্ছে শেখ জামাল

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ দুই ‘শেখ’-এর লড়াইয়ে জিতল জামাল। স্কোরলাইন ৪-৩। না, এটা টাইব্রেকারের ফল নয়, নির্ধারিত ৯০ মিনিটের ফল। ‘মান্যবর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ’-এ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দিনের প্রথম ম্যাচে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব লিমিটেড হারায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। এই ম্যাচে হারতে হারতে জেতে জামাল। কেননা, ম্যাচের ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ৩-২ গোলে এগিয়ে ছিল রাসেলই (প্রথমার্ধে ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল জামাল)! ৯০ মিনিটে এবং ইনজুরি টাইমে টানা দুটি গোল করে অবিশ্বাস্যভাবে জয় ছিনিয়ে নেয় জামাল। ম্যাচ শেষে উল্লাসে ফেটে পড়ে জামাল শিবির। ভিআইপি বক্স থেকে আনন্দের আতিশয্যে মাঠে নেমে আসেন জামালের সভাপতি মনজুর কাদের। আবেগে বুকে জড়িয়ে ধরেন ফুটবলারকে ও কোচকে। ফুটবলাররাও তাকে কাঁধে উঠিয়ে নিয়ে উৎসবে মাতে। তারপর মনজুর কাদের তার দলের সবার উদ্দেশে পাঁচ লাখ টাকা বোনাস উপহার দেয়ার কথা ঘোষণা করেন। এতে খুশির মাত্রা হয়ে যায় দ্বিগুণ।

দারুণ এই জয়ে প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে মামুনুল শিবির। ২০১৩-১৪ মৌসুমের লীগ চ্যাম্পিয়ন ‘বেঙ্গল ইয়োলোস’ খ্যাত জামালের এটা ১৬ খেলায় দ্বাদশ জয়। ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা অন্যদের চেয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে নিল আরও। পক্ষান্তরে ২০১২-১৩ মৌসুমের লীগ শিরোপাধারী ‘বেঙ্গল ব্লুজ’ খ্যাত রাসেলের এটা ১৫ ম্যাচে চতুর্থ হার। ২৯ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত আছে চতুর্থ অবস্থানে। ঢাকা আবাহনী-ব্রাদার্স ম্যাচের আগ পর্যন্ত। মঙ্গলবারের ম্যাচে রাসেল জিতলে নিতে পারত প্রতিশোধ। লীগের প্রথম পর্বে জামাল-রাসেল দ্বৈরথে জয়ী হয়েছিল জামালই। ল্যান্ডিং ডার্বোয়ের গোলে জামাল হেসেছিল বিজয়ীর হাসি। ঈদ-উল-ফিতরের ছুটি শেষ হওয়ার পর জামাল-রাসেল ম্যাচ দিয়েই শুরু হয় লীগের সপ্তদশ রাউন্ডের প্রথম ম্যাচ।

দুই ভাইয়ের লড়াই। আবার লড়াইটা ছিল দুই কোচ আফুসি ও মারুফুল হকেরও। কারণ প্রথম পর্বে মারুফুল হক ছিলেন শেখ জামালের কোচ। ছাঁটাই হওয়ার পর শেখ রাসেল শিবিরে পাড়ি জমান তিনি। ফলে মঙ্গলবার টাচলাইনে আফুসি-মারুফের লড়াইটাও ছিল দেখার মতো।

বৃষ্টি ভেজা মাঠ। শুরু থেকে তাল মেলাতে কষ্ট হচ্ছিল দুই দলেরই। তবে ১২ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় শেখ জামাল। বক্সের ভেতর এমেকা ডার্লিংটনের ব্যাক পাস থেকে শেখ রাসেলের জালে বল পাঠান জামালের গাম্বিয়ান মিডফিল্ডার ল্যান্ডিং ডার্বোয়ে (১-০)। লীগে এটা তার অষ্টম গোল। তবে বেশিক্ষণ এই লিড ধরে রাখতে পারেনি জামাল। ২৪ মিনিটে জামালের বক্সের ভেতর রাসেলের অধিনায়ক-ফরোয়ার্ড মিঠুন চৌধুরীর আলত পাসে ঠা-া মাথায় প্লেসিং শটে গোল করে রাসেলকে সমতায় ফেরান উইঙ্গার জাহিদ হোসেন (১-১)। ৩৯ মিনিটে জামালের অধিনায়ক-মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলামের ফ্রি কিক থেকে ওয়েডসন এ্যানসেলমের পাস, দুর্দান্ত শটে তা লক্ষ্যভেদ করেন জামালের নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড ডার্লিংটন (২-১)। লীগে এটা তার ত্রয়োদশ গোল।

৫৫ মিনিটে রাসেলের লেফটব্যাক ওয়ালী ফয়সালের ফ্রি কিকে দুর্দান্ত হেডে ম্যাচে ২-২-এ সমতা আনেন রাসেলের নাইজিরিয়ান ফরোয়ার্ড কিংসলে চিগুজি। ৮৫ মিনিটে কয়েকটি মিসের শোধ তোলেন রাসেলের বসনিয়ান মিডফিল্ডার ডামির ইবরিচ। দুর্দান্ত গোলে শেখ রাসেলকে ৩-২ ব্যবধানে লিড এনে দেন তিনি। জয়ের আশায় তখন বুঁদ গোটা রাসেল শিবির। তবে শেষটা তেতোই হয় তাদের জন্য। কারণ শেষ চার মিনিটের ঝড়ে ল-ভ- রাসেলের রক্ষণভাগ। জয় নয়, ড্রও নয়, ম্যাচ শেষে হারই কপালে সেঁটে যায় শেখ রাসেলের। ৯০ মিনিটে ওয়েডসনের গোলে ম্যাচে ৩-৩ সমতা আনে শেখ জামাল। লীগে এটা ওয়েডসনের ষোড়শ গোল, যা সর্বাধিক। অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৩ মিনিটে) রাসেল শিবিরকে হতভম্ব করে করেন শেখ জামালের ডিফেন্ডার মোহাম্মদ লিংকন। ল্যান্ডিংয়ের পাসে বক্সের ডানদিক থেকে চমৎকার শটে জয়সূচক গোল করেন তিনি।

এই ম্যাচ জিততে পারলে শিরোপা জয়ের একটা সম্ভাবনা থাকত শেখ রাসেলের। সেই সঙ্গে লীগটাও জমে উঠত। কিন্ত জামালের কাছে হারে তাদের সেই স্বপ্নটা হযে গেল ধূসর। এটা রাসেলের টানা দুই ম্যাচে হার। আগের ম্যাচে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডের কাছে অপ্রত্যাশিতভাবে ৫-০ গোলের শোচনীয় তিক্ত হারের স্বাদ পেয়েছিল তারা। স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে আসা জামাল-রাসেলের এই হাইভোল্টেজ ও শ্বাসরুদ্ধকর খেলা যারা দেখেছেন, নিঃসন্দেহে তাদের স্মৃতিতে অনেকদিন রযে যাবে তা।