১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সৌদিতে বাড়ি ভাড়া করতে পারেনি ১২ হজ এজেন্সি

  • ৭৮৫ জনের হজযাত্রা অনিশ্চিত

আজাদ সুলায়মান ॥ বার বার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া করতে পারেনি ১২টি হজ এজেন্সি। সহসা এদের পক্ষে বাড়ি ভাড়া করাও সম্ভব নয়। এ কারণে এদের ৭৮৫ হজযাত্রীর হজ পালন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তবে এ সব এজেন্সি বলছে, অনিশ্চতা থাকলেও বাড়ি ভাড়া করার সময় এখনও রয়েছে।

সৌদি হজ অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈদ-উল-ফিতরের আগেই বেশিরভাগই বাড়ি ভাড়া করে ফেলেছে অথচ ১২টি এজেন্সি এখনও কোন উদ্যোগ নেয়নি। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরীভাবে ঢাকায় ধর্ম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। ঈদের তিন দিন আগে সৌদি আরবের জেদ্দার হজ অফিস থেকে পাঠানো এক চিঠিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এ চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গত ১৬ জুলাই আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক ও হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন হাবের (হজ এজেন্সিস এ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠানো হয়।

কাউন্সিলর (হজ) মোঃ আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ২০১৫ সালের হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী ৭৮৭টি এজেন্সির মধ্যে ১২টির প্রতিনিধি এখনও সৌদি আরবে আসেননি। ফলে এ এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে হজযাত্রীদের হজ পালন নিয়ে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

চিঠির ভাষ্যমতে, যে হজ এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিরা এখনও সৌদি আরবে গিয়ে বাড়ি ভাড়া করেননি তাদের মধ্যে রয়েছে, উইনস ট্রাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস (হজযাত্রীর সংখ্যা ৫০ জন), এসিউরেন্স এয়ার সার্ভিস (৭০ জন), উইংস ট্রাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস (৫০ জন), কসমিক এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (৭৭ জন), ওয়ার্ল্ড লিঙ্ক ট্যুরস এ্যান্ড ট্রাভেলস (৬০ জন), গ্রিন এভিয়েশন (৭৬ জন), হাতিম ট্রাভেলস এ্যান্ড ট্যুরস (৫০ জন), মনির ট্যুরস এ্যান্ড ট্রাভেলস (৬৩ জন), মোবাশ্বিরাহ ট্রাভেল এ্যান্ড ট্যুরস (৫৬ জন), সুজন ট্রাভেল এ্যান্ড ট্যুরস (৫০ জন), সৌদি-বাংলা এয়ার সার্ভিস লিমিটেড (৫০ জন) ও মোসাফির ট্রাভেলস (৬৯ জন)।

এসব এজেন্সি বাড়ি ভাড়া জটিলতার জন্য দুষলেন জেদ্দায় বাংলাদেশের হজ কনস্যুলারকে। ওই অফিসের বেশি বাড়াবাড়ি ও সমন্বয়হীনতার দরুন এ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জানতে চাইলে এসিউরেন্স এয়ার সার্ভিসের কর্ণধার এইচএম শহীদুল্লাহ জনকণ্ঠকে বলেন,

আজ থেকে দু’মাস আগে হজের বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য কাজের নোটিস দেন তিনি। সে জন্য দু’মাস আগেই ভিসাও দিয়ে দেন অথচ এদেশের হজযাত্রীরা সব সময় রোজার ঈদের পরে তাদের টাকা জমা দেয়। তারপরও আমরা বাড়ি ভাড়ার জন্য ১৭ জুলাইয়ের আগেই সৌদিতে বাড়ি ভাড়ার জন্য পাঠাই। তখন গিয়ে দেখা যায়, সেখানকার হজ কনস্যুলার অফিস বন্ধ তাই বেকায়দায় পড়তে হয়। অনেকে ফেরত চলে আসে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায়। এখন তাদের নতুন করে ভিসা নিয়ে সেখানে যেতে হবে। তারপরও এখনও সময় রয়েছে।

তবে হাব সভাপতি ইব্রাহিম বাহার জানান, জেদ্দায় হজ কনস্যুলার আসাদুজ্জামানের সমন্বয়হীনতার দরুন এ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তবে বাড়ি ভাড়ার সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি। আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সেটার সময় আছে। এ সময়ে বাকিগুলো করে ফেলা সম্ভব হবে। যদিও এতে একটা ঝুঁকি থাকে।

সৌদি আরবের ইলেক্ট্রনিক হজ ব্যবস্থাপনার কারণে এবার কয়েক মাস আগে টাকা জমা ও নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। একই সঙ্গে আগাম বাড়ি ভাড়ারও সিদ্বান্ত নেয়া হয়। ইতোমধ্যে ঘোষিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের হজ এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় বাড়ি ভাড়ার কাজটি সম্পন্ন করে ফেলেছে।

সৌদি আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর (৯ জিলহজ ১৪৩৫ হিজরী) এ বছরের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি আরব যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। শেষ হবে ১৮ সেপ্টেম্বর। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট ২৭ সেপ্টেম্বর শুরু হয়ে শেষ হবে ২৮ অক্টোবর। এবার বাংলাদেশের হজযাত্রীর কোটা এক লাখ এক হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে ৫ হাজার সরকারী ব্যবস্থাপনায়, বাকিরা বেসরকারী ব্যবস্থাপনায় এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন। তবে এবার হজে যেতে আবেদনকারীর সংখ্যা কোটা অতিক্রম করেছে। অতিরিক্ত ২৫ হাজার হজযাত্রীর কোটা বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু হজযাত্রীর কোটা বৃদ্ধি করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ ইতোমধ্যে নাকচ করে দিয়েছে সৌদি সরকার।

এই মাত্রা পাওয়া