১৪ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলাচল অযোগ্য বাংলাদেশী জাহাজটি বিদেশের বন্দরে আটক

  • বিপুল অঙ্কের ঋণ দিয়ে বিপাকে ব্যাংক ॥ ২২ নাবিকের সাত মাসের বেতন বকেয়া

মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চলাচলের অনুপযুক্ত থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশী পতাকাবাহী একটি জাহাজ অবৈধভাবে ছাড়পত্র পেয়ে বিদেশের বন্দরে পণ্য নিয়ে ভিড়েছিল। যাত্রাপথে নির্দিষ্ট সময়ের অধিক বিলম্বিত হওয়ার কারণে জাহাজটিতে থাকা বিপুল পরিমাণ চাল পচে যায় আর এ কারণে আমদানিকারক সাতটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মামলা দায়েরের কারণে জাহাজটি এ্যারেস্ট হয়। এ্যারেস্ট আদেশের বিরুদ্ধে জাহাজ মালিক কর্তৃপক্ষ আদালতে আইনী মোকাবেলা করে তাতে হেরে যায়। শেষ পর্যন্ত জাহাজটি এখন স্ক্র্যাপ হিসেবে আদালতের মাধ্যমে বিক্রি করা ছাড়া আর কোন গত্যন্তর নেই। এ অবস্থায় জাহাজটির ২২ নাবিকের সাত মাসের বকেয়া বেতন নেই আর দেশীয় বেসরকারী একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক বিশাল অঙ্কের ঋণ দিয়ে তা অনাদায়ী থেকে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। জাহাজটির নাবিকদের পক্ষে নৌবাণিজ্য অধিদফতরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এ ব্যাপারে আবেদন করার পরও এ পর্যন্ত কোন সাড়া মেলেনি। গঠিত হয়নি কোন তদন্ত কমিটিও। আর চলাচলের অযোগ্য থাকা সত্ত্বেও কিভাবে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে যাওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছিল তা নিয়েও চট্টগ্রামের নৌবাণিজ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না। এ নিয়ে শিপিং সেক্টরে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সৃষ্টি করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশী পতাকাবাহী ‘দাহিয়াতুল কালভী’ নামের জাহাজটি গত প্রায় নয়মাস ধরে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনিবিসাউয়ের কোনাক্রি বন্দরের বহির্নোঙ্গরে আটক অবস্থায় রয়েছে। জাহাজটি প্রায় ছয় হাজার টন চাল ভারতের বন্দর থেকে বোঝাই করে সে দেশে নোঙ্গর করেছিল। প্রায় ছয় হাজার টন চাল খালাসের পর সে দেশের সংশ্লিষ্ট সাত আমদানিকারক পচা হিসেবে তা গ্রহণ না করে আদালতে মামলা ঠুকে দেয়। সব মামলায় জাহাজটির মালিক পক্ষ শেষ পর্যন্ত হেরে যায়।

উল্লেখ্য, গেল বছরের জুন মাসে বাংলাদেশী পতাকাবাহী এ জাহাজটি প্রথমে ভারতের কাকিনাড়া বন্দর থেকে ছয় হাজার টন চাল ও পরবর্তীতে পাড়াদ্বীপ বন্দর থেকে সাত হাজার টন স্টিল কয়েল বোঝাই করে। পাড়াদ্বীপ বন্দরে জাহাজটির ইঞ্জিনের ত্রুটির কারণে সেখানকার পোর্ট এস্টেট কন্ট্রোল এটিকে আটক করে। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বন্দরে এটিকে মেরামত করার বন্ড দিয়ে ছাড়পত্র পায়। এরপর জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙ্গরে এসে পৌঁছায় এবং যথাযথ নিয়মানুযায়ী নৌবাণিজ্য অধিদফতরের ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশ যাত্রা করে। অভিযোগ রয়েছে, নৌবাণিজ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জাহাজটির চলাচল উপযুক্ততা যাচাই-বাছাই না করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে জাহাজটিকে ছাড়পত্র প্রদান করে। জাহাজটি দীর্ঘ সাইত্রিশ দিন সাগর পাড়ি দিয়ে পশ্চিম আফ্রিকার লোমে বন্দরে পৌঁছে। সে বন্দরে চল্লিশ দিন অপেক্ষার পর প্রথমে স্টিল কয়েল খালাস করে। এরপর গেল বছরের ২৮ অক্টোবর ছয় হাজার টন চাল খালাসের জন্য কোনাক্রি বন্দরে ভিড়ে। নবেম্বর মাসের শেষের দিকে জাহাজটির চাল খালাস সম্পন্ন হয়। কিন্তু যাত্রাপথে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে এবং জাহাজটিতে খাদ্যজাতীয় পণ্য পরিবহনে উপযুক্ত পরিবেশ না থাকার কারণে পরিবাহিত ছয় হাজার টন চাল পচে যায়। গিনিবিসাউয়ের সাত প্রতিষ্ঠান এ চাল আমদানি করে নিয়ে যায়। চাল পচে যাওয়ার কারণে আমদানিকারকরা খালাসকৃত উক্ত চাল গ্রহণ না করে জাহাজটির বিরুদ্ধে সে দেশের আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলায় জাহাজ মালিক পক্ষ হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দিলেও তা আদালতে তা অগ্রাহ্য হয়। এর আগে জাহাজটিকে এ্যারেস্ট করা হয়। আদালত চূড়ান্তভাবে এটিকে আটকে রাখার রায় দেয়। এ প্রক্রিয়া চলে প্রায় দীর্ঘ নয়মাস ধরে। এ সময়ে জাহাজটির ২২ নাবিকের অবস্থা শোচনীয় অবস্থায় চলে যায়। প্রায় সাত মাস তাদের বেতন পড়েছে বকেয়া। একপর্যায়ে জাহাজের সকল ইঞ্জিনিয়ারকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।