২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে নলকা পর্যন্ত রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা হবে ॥ ও. কাদের

স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ ॥ সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আগামী ২ মাসের মধ্যে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ সড়ক থেকে নলকা পর্যন্ত ৪টি দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় রোড ডিভাইডার ও আরিচা মহাসড়কের আদলে নিউ জার্সি বেরিয়ার নির্মাণ করা হবে। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু করে আগামী ঈদ-উল-আযহার আগেই তা শেষ করা হবে। পরবর্তীকালে এই মহাসড়কটি ফোর লেনে রূপান্তরিত করা হবে। ইতোমধ্যে গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেন সড়ক নির্মাণের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে হাটিকুমরুল পর্যন্ত ফোর লেনের কাজ করা হবে। পর্যায়ক্রমে দেশে যত মহাসড়ক রয়েছে প্রতিটি সড়কেই ফোর লেনে রূপান্তরিত করা হবে। বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ মুলিবাড়ি রেলক্রসিং এলাকা পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দৈনিক জনকণ্ঠ’র প্রথম পাতায় ‘বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়ক-১৭ কিমি কেন মৃত্যুফাঁদ? নেপথ্য কাহিনী’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর ফলে সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী আকস্মিক বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম সংযোগ সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন করে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রাথমিক পর্যায়ে মুলিবাড়ি, কড্ডা, কোনাবাড়ি ও নলকায় রোড ডিভাইডার ও আরিচা মহাসড়কের আদলে নিউ জার্সি বেরিয়ার নির্মাণ করার ঘোষণা দেন। সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এসব যানবাহন মহাসড়কে গতিরোধ করে যানজট সৃষ্টিসহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মহাসড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহন বন্ধ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে অদক্ষ চালকের জন্যই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, গতি নিয়ন্ত্রণ করলে দুর্ঘটনার সংখ্যা এমনিতেই কমে আসবে। দূরপাল্লার কোচগুলোতে একজন করে চালক থাকে। টানা অধিক সময় ধরে যানবাহন চালানোর একপর্যায়ে ক্লান্ত চালকের ঝিমুনি বা ঘুমঘুমভাব এসে পড়লে তখনই দুর্ঘটনা ঘটে।

রবিবার মুলিবাড়িতে দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণ এটিই বলে তিনি মন্তব্য করেন। মন্ত্রী আরও বলেন, মহাসড়কগুলোতে কোন বিলবোর্ড থাকা উচিত নয়। কিন্তু চাঁদাবাজরা বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীর ছবিসহ নিজেদের নেতা বানানোর লক্ষ্যে মহাসড়কের পাশে বিল বোর্ড লাগায়। আসলে তারা নেতা হওয়ার জন্য নয়, স্রেফ চাঁদাবাজি করতেই এসব করে থাকে। তাই মহাসড়কের পাশ থেকে এসব বিলবোর্ড লাগানো থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সড়ক ও সেতু বিভাগের চীফ ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, সড়ক বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় অতিরিক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম, ময়মনসিংহ জোনের প্রধান প্রকৌশলী শাহাব উদ্দিন খান, জেলা প্রশাসক বিলাল হোসেন, জেলা পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমদ, জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।