১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিটিআরসি নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারছে না

  • আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি;###;থ্রি জি ও ফোর জি সুবিধা বাধ্যতামূলক হয়েছে

ফিরোজ মান্না ॥ আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির জন্য নতুন নীতিমালা বাস্তবায়ন করতে পারছে না বিটিআরসি। নীতিমালায় আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটগুলোতে থ্রিজি (তৃতীয় প্রজন্মের) ও ফোরজি (চতুর্থ প্রজন্মের) সুবিধা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে শহর ও গ্রামের মধ্যে পার্থক্য দূর করার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বাইরে কোন হ্যান্ডসেট আমদানি করা যাবে না। কিন্তু মোবাইল আমদানিকারকরা বিটিআরসির সিদ্ধান্ত না মেনে তাদের ইচ্ছামতো মোবাইল সেট আমদানি করে যাচ্ছে। এ বছরের জানুয়ারি মাসে নতুন নীতিমালাটি করে বিটিআরসি। এর আগে বিটিআরসি মোবাইলে ‘বাংলা কি প্যাড’ নীতিমালা করেছিল। সেই নীতিমালাও বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিটিআরসি।

মোবাইল সেট আমদানিকারকরা বলছে, দেশের মোবাইল ব্যবহারকারীর অর্ধেকই নিম্ন আয়ের মানুষ। তারা থ্রিজি ফোরজি মোবাইল সেট ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যেতে পারে। থ্রিজি ফোরজি সুবিধা আছে এমন একটি সেটের দাম সর্বনিম্ন ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। অথচ বাজারে এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকায় মোবাইল সেট পাওয়া যাচ্ছে। মূলত এই সেটগুলোই নিম্ন আয়ের গ্রাহকরা কিনে থাকেন। এখন বিটিআরসির নতুন সিদ্ধান্ত মেনে মোবাইল সেট আমদানি করতে মোবাইল ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ক্ষতি শিকার হবেন। তারা অভিযোগ করেছেন, তাদের কথা আমলে না নিয়েই বিটিআরসি নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এই নীতিমালার বাইরে কোন মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিকারকরা আনতে পারবেন না।

বিটিআরসি বলছে, থ্রিজি ও ফোরজি সুবিধা থাকলে গ্রাহকরা ইন্টারনেট, ডেটা, ভিডিও, অডিওসহ বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। ঘরে বসে থেকেও মোবাইলের মাধ্যমে সরকারের দেয়া অনেক সুবিধা নিতে পারবেন। গত জানুয়ারি মাসে বিটিআরসি এমন নীতিমালা করেছে। কিন্তু বিটিআরসির নীতিমালা অমান্য করে মোবাইল সেট আমদানিকারকরা লাখ লাখ হ্যান্ডসেট দেশে আনছেন। বিষয়টি বিটিআরসির নজরে আনা হলে একজন কর্মকর্তা বলেন, কোন আমদানিকারকই বিটিআরসির অনুমতি ছাড়া মোবাইল সেট দেশে আনতে পারবেন না। যদি নিম্নমানের সেট দেশে আসে তাহলে বুঝতে হবে এই সেটগুলো অন্য পথে দেশে আসছে। অবৈধ উপায়ে সেটগুলো দেশে যারা আনছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অভিযান চালানো হবে। থ্রিজি ও ফোরজি সুবিধার মোবাইল সেটই তাদের আনতে হবে। সেটা যত কম দামে তারা আনতে পারেন।

সূত্র জানিয়েছে, মোবাইল সেট আমদানিকারকদের বিদেশ থেকে মোবাইল সেট আনতে বিটিআরসির নীতিমালা অনুসরণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মোবাইল আমদানির আগে বিটিআরসির কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। এরপর বিদেশ থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেট দেশে আনার পর আবার বিটিআরসির অনুমোদন নিয়ে বাজারে তুলতে হবে। আমদানির নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য বিটিআরসি (বাংলাদেশে টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন) একটি কমিটিও করে দিয়েছে। এই কমিটি থ্রিজি ও ফোরজি সুবিধা সম্বলিত মোবাইল হ্যান্ডসেট সহজলভ্য ও সেটের মান নিশ্চিত করতে বিটিআরসি একটি তদারকি করবে। কোন আমদানিকারক যাতে নীতিমালার বাইরে মোবাইল হ্যান্ডসেট না আনতে পারেন। মোবাইল আমদানির ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত চালানভিত্তিক পদ্ধতির পরিবর্তে নমুনাভিত্তিক পদ্ধতি প্রচলন করা হয়েছে। এই পদ্ধতি অনুসারে সব ধরনের হ্যান্ডসেট আমদানির জন্য বিটিআরসির অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আমদানির অনুমতি পাওয়ার জন্য হ্যান্ডসেটের সম্পর্কে বিটিআরসিতে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আবেদন করতে হবে। মোবাইল সেটের মান সম্পর্কিতও তথ্য দিতে হবে। বিটিআরসি যাচাই-বাছাইয়ের পর আমদানির অনুমতি দেবে। মোবাইল হ্যান্ডসেটের জন্য একটি নম্বার সরবরাহ করা হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আর কোন অনুমোদন নিতে হবে না। তখন মোবাইল আমদানিকারকরা যত খুশি তত মোবাইল সেট আমদানি করতে পারবেন। এ বছরের জানুয়ারি মাসে এই নীতিমালা করা হয়।

বিটিআরসির একজন কর্মকর্তা বলেন, হ্যান্ডসেটের গুণগতমান নিয়ন্ত্রণ এবং আমদানি জটিলতা নিরসনের উদ্দেশ্যে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। মোবাইল আমদানিকারকরা এক ধরনের মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির অনুমোদন নিয়ে পরে নিজেরা ইচ্ছামতো মোবাইল সেট নিয়ে আসেন। এতে বেশিরভাগই নকল মোবাইল সেট ঢুকে যাচ্ছে দেশে। আর এই নকল সেট কিনে গ্রাহকরা প্রতারিত হচ্ছেন। গ্রাহক ঠকানো বন্ধ করার চালান পদ্ধতি তুলে দিয়ে নমুনা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। যাতে করে কোন মোবাইল আমদানিকারক নিম্নমানের মোবাইল সেট আনতে না পারে। বিটিআরসি বিষয়টি নিশ্চিত করার পর মোবাইল সেট বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট দেশের নিরাপত্তার জন্যও চরম হুমকি। এই সেটগুলোর আইএমই নম্বর ভুয়া। অপরাধীরা এসব সেট ব্যবহার করে সমাজে নানা রকম অপরাধ করে যাচ্ছে। আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে যত ধরনের আইনী পদক্ষেপ আছে সেগুলো প্রয়োগ করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইল আমদানির নীতিমালাতেই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন নকল মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হবে। এরপরও যদি কেউ নকল মোবাইল সেট আমদানি করেন, তাহলে বিটিআরসি ওই আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন। গত বছরের শেষ দিকে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিষয়টি মোবাইল আমদানিকারকদের জানিয়েও দেয়া হয়েছে।

এদিকে মোবাইল আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিটিআরসি এর আগে ‘মোবাইল হ্যান্ডসেটে কি প্যাডের’ বাংলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বাংলা লেখা কি প্যাড মোবাইল সেট বাজারে খুব একটা নেই। ইংরেজী লেখা কি প্যাডের মোবাইল সেটই বিক্রি হচ্ছে। নতুন নীতিমালায় মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানির বিষয়টিও উপেক্ষিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে বিটিআরসির কোন সিদ্ধান্ত বা নীতিমালাই কি অমান্য করে মোবাইল সেট আমদানি করবে আমদানিকারকরা। নিম্নমানের সেটে বিকিরণের মাত্রা বেশি। এই সেটগুলো মানব দেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি। বার বার বিটিআরসি মোবাইল সেট আমদানির ওপর নীতিমালা করছে- আর আমদানিকারকরা তা অমান্য করে নিম্নমানের সেট আনছে। হ্যান্ডসেট আমদানির বিষয়টি কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে, বাজারে নিম্নমানের সেট বিক্রি বন্ধ হবে না বলে মনে করেন মোবাইল বিশেষজ্ঞরা। ৭ মাস আগে প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়ন না হওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।