১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিটিসিএল অফিস থেকে ৭৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার

  • বাজারমূল্য দুই কোটি ২৮ লাখ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর ওয়ারী এলাকার বিটিসিএল অফিসে অভিযান চালিয়ে ৭৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এ সময় ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত আবু সিদ্দিক (১৯) নামের একজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তবে এর সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) অনুঃ এক্সচেঞ্জে কর্মরত মোঃ মোস্তফাকে (৪১) আটক করতে পারেনি পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ওয়ারী থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়ারী থানার ২৬ নম্বর র‌্যানকিন স্ট্রিটে ওয়ারী সাব-পোস্ট অফিসের নিচ তলায় বিটিসিএলের অফিসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় অফিসের ভেতরে টেবিলের পাশে একটি বড় লাল রঙের ব্যাগ থেকে ৭৬ হাজার পিস গোলাপি ও লাল রঙের ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ইয়াবা চালানটি আবু সিদ্দিক অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

ওয়ারী সাব-পোস্ট অফিসের নিচ তলায় বিটিসিএলের এ অফিসে কর্মরত মোঃ মোস্তফা (৪১) মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে জড়িত। বেশ কিছুদিন ধরে মোস্তফা অফিস ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। তিনি ওই অফিস ওয়ার্ডের চার্জে রয়েছেন।

মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বিটিসিএলের মোস্তফা পালিয়ে যান। এ বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন। মোস্তফাকে আটক করা গেলে বিস্তারিত জানা যাবে। মোস্তফা সরকারী চাকরিজীবী হওয়ায় কিছু নিয়ম পালন শেষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে তার আগে তাকে আটক করতে হবে।

মহল্লাবাসীরা জানায়, পোস্ট অফিসের নিচ তলায় সরকারী টেলিফোন অফিসে চলত মাদক ব্যবসা। সরকারী অফিস বলে কেউ সন্দেহ করবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও হানা দেবে না এমনটি চিন্তা করে ইয়াবা ব্যবসার জন্য বিটিসিএলের অফিসকে বেছে নেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, এ চক্র সম্পর্কে অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। এ সব তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। আটক সিদ্দিক বাহক হিসেবে কাজ করত। সে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কাছ থেকে ইয়াবা নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দিত।

এ অভিযান সম্পর্কে জানা যায়- ওয়ারী বিভাগের পুলিশের ডিসি সৈয়দ নুরুল ইসলামের কাছে প্রথম খবর আসে ওই অফিসে দীর্ঘদিন ধরেই ইয়াবার ব্যবসা করা হচ্ছে। এখানকার কর্মকর্তা মোস্তফার নিয়ন্ত্রণে নিরাপদে এ ব্যবসা চালানো হলেও কেউ তাকে কিছু বলার সাহস পেত না। তার এ অফিসে যে কোন সময় হানা দিলে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যাবে। এমন তথ্যের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার সেখানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এ সব তথ্যের সত্যতা পায়।