১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিএনপি ভাঙ্গার কেউ চেষ্টা করছে এমন খবর আমার কাছে নেই

  • প্রেস ব্রিফিংয়ে সৈয়দ আশরাফ

বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বিএনপিকে শেষ করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে বলে যে অভিযোগ সম্প্রতি খালেদা জিয়া করেছেন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপিকে কারা ভাঙছে, কারা ভাঙতে চাইছে তাদের আমরা চিনি না, জানিও না। এ বিষয়ে আমার কাছে কোন খবর নেই। তবে আওয়ামী লীগের কেউ বিএনপি ভাঙার ষড়যন্ত্র করছেন না। আমরা চাই সমস্ত গণতান্ত্রিক দল রাজনীতি করুক। গণতান্ত্রিক পরিবেশে তারা তাদের দায়িত্ব পালন করুক।

মঙ্গলবার ধানম-ির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথ সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আগামী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচী ঠিক করতে এ যৌথ সভার আয়োজন করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ‘রাজনীতিমুক্ত প্রশাসন’ তৈরিতে কী ভূমিকা নেবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আশরাফ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসন নিয়ে কোন রাজনীতি করেন না। তিনি চান দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তারাই প্রশাসনে আসুক। তাতে জাতি উপকৃত হবে, সরকারও উপকৃত হবে। শেখ হাসিনার বিশ^াস প্রশাসনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। আশা করি, অতীতেও প্রশাসন যেমন গতিশীল ছিল, ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি সরকারের কাজ সরকার করবে, দলের কাজ দল করবে। যখন আমরা মন্ত্রিত্বের শপথ গ্রহণ করি তখন আমি আওয়ামী লীগ করি না। যখন দলের কাজ করি, তখন দলেরই কাজ করি। এখানে কোন সংঘাত আমি দেখি না।

আওয়ামী লীগ ও মন্ত্রিসভা থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কার বিষয়ে দলের বক্তব্য জানতে চেয়ে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠি সংক্রান্ত অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচন কমিশনের চিঠি পেয়েছি। তবে নির্বাচন কমিশনের শুনানির তারিখ এখনও ঠিক হয়নি। তারিখ হলে সংবিধান অনুযায়ী ও দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আমরা শুনানিতে দলীয় প্রস্তাব ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করব।

যৌথ সভায় জাতীয় শোক দিবস ও শোকের মাস আগস্ট উপলক্ষে দল ও সহযোগী-ভাতৃপ্রতিম সংগঠনের কর্মসূচী নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এবার ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী হওয়ায় ৪০ দিনব্যাপী কর্মসূচী পালনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১ আগস্ট দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির জনকের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ৩১ আগস্ট রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে ধানম-ির বঙ্গবন্ধুর বাসভবন পর্যন্ত শোকর‌্যালিসহ সারাদেশে অনুরূপ কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়াও আরও কিছু খসড়া কর্মসূচী ঠিক করা হয়েছে, যা দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার অনুমোদন পেলে চূড়ান্ত করা হবে।

প্রেস ব্রিফিংকালে দলীয় এসব কর্মসূচী প্রসঙ্গে সৈয়দ আশরাফ জানান, এবার জাতির পিতার ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা নতুন নতুন ও ভিন্নমাত্রার কর্মসূচীর আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছি। সমগ্র জাতিকে একসঙ্গে নিয়েই এসব কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হবে। আশা করি, গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে জাতির পিতার শাহাদাৎবার্ষিকী পালন করবে।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও ঢাকা মহানগর নেতারা ছাড়াও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, মহানগরের দলীয় সংসদ সদস্য এবং সিটি করপোরেশন মেয়ররা যোগ দেন। এদের মধ্যে ছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ, বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এম এ আজিজ, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, মির্জা আজম, মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, অসীম কুমার উকিল, সুজিত রায় নন্দী, এ কে এম এনামুল হক শামীম, এস এম কামাল হোসেন, আওলাদ হোসেন, শাহে আলম মুরাদ, আবদুল হক সবুজ, হারুনুর রশীদ, অপু উকিল প্রমুখ।

চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান নেতাদের ॥ যৌথসভায় জাতীয় শোক দিবসকে ঘিরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান নেতারা। আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার সম্পাদক অসীম কুমার উকিল প্রসঙ্গটির অবতারণা করে বলেন, ১৫ আগস্ট এলেই কিছু নেতাকর্মী চাঁদাবাজিতে মেতে ওঠেন। তারা রাস্তার মোড়ে মোড়ে নিজ নামে তোরণ বসিয়ে এ নিয়েও চাঁদাবাজি ও জনদুর্ভোগ ঘটাচ্ছেন। এ সময় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম বলেন, নেতাকর্মীরা জাতীয় শোক দিবস পালনে নানা কর্মসূচীর আয়োজন করেন। তোরণও বসান আন্তরিকভাবেই। যেহেতু আমরা এ বাবদ কোন টাকাপয়সা দিয়ে সাহায্য করি না, সে কারণেই তারা বিভিন্নজনের কাছ থেকে সাহায্য নিয়েই এটা করেন। এতে দোষের কিছু নেই। তবে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন, জাতীয় শোক দিবসকে ঘিরে চাঁদাবাজি বেশ বেড়েছে। এগুলো কঠোরহস্তে দমন করতে হবে।

নির্বাচিত সংবাদ