১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোকেন মামলায় সি এ্যান্ড এফ কর্মকর্তা সাইফুল রিমান্ডে

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ ভোজ্য তেলের ঘোষণায় তরল কোকেন আমদানির ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবার রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে এক সিএ্যান্ডএফ কর্মকর্তার। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম ফরিদ আলমের আদালত সাইফুল ইসলাম নামের এই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই আদালত দ্রুততম সময়ের মধ্যে অগ্রগতির প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

সিএ্যান্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে নগরীর আগ্রাবাদ এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে গত ১৪ জুলাই। পরদিন ১৫ জুলাই তাকে আদালতে হাজির করে দশ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করা হয়। বিচারক একুশ জুলাই মঙ্গলবার রিমান্ড আবেদনের শুনানির সময় নির্ধারণ করেন। শুনানি শেষে তিনি দশ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ও চট্টগ্রাম মহানগর পিপি মোঃ ফখরুদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, সিএ্যান্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, এই মামলার একজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তিনি জানান, আদালত কোন সময় বেঁধে না দিলেও এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও অগ্রগতির প্রতিবেদন দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করছেন চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশর সহকারী কমিশনার (উত্তর) মোঃ কামরুজজামান।

দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া থেকে আনা এ তরল কোকেনের ঘটনায় সিএ্যান্ডএফ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হলো। গ্রেফতার বাকিরা হলেন, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান খান জাহান আলী লিমিটেডের মালিকানাধীন প্রাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক মোস্তফা সোহেল, কসকো শিপিং লাইনের ম্যানেজার একেকে আজাদ, গার্মেন্টস পণ্য রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ম-ল গ্রুপের বাণিজ্যিক নির্বাহী আতিকুর রহমান, সিকিউরিটিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মেহেদী আলম এবং আবাসন ব্যবসায়ী মোস্তফা কামাল। এ ৫ জনকে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে কোকেন আমদানির বিষয়ে অনেক গুরুতবপূর্ণ তথ্য।

উল্লেখ্য, সানফ্লাওয়ার অয়েল ঘোষণায় দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া থেকে আমদানি করা একটি চালানে কোকেনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। গত ৬ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেনারটি সিলগালা করা হয় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে। এরপর ৮ জুন কন্টেনার খুলে বের ১০৭টি ড্রাম, যার প্রতিটিতে রয়েছে ১৮৫ কেজি করে সানফ্লার অয়েল। বন্দরে থাকা এ ড্রামগুলোর পণ্যের প্রাথমিক পরীক্ষায় কোকেনের আলামত না পেলেও সবকটি ড্রাম থেক নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় দফার পরীক্ষায় একটি ড্রামে তরল কোকেনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বন্দর থানার এসআই ওসমান গণি গত ২৯ জুন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন একটি মামলা দায়ের করেন। এতে আসামি করা হয়, খানজাহান আলী লিমিটেডের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ এবং ঐ গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান পাইম হ্যাচারির ব্যবস্থাপক গোলাম মোস্তফা সোহেলকে। পরে আরও ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ৬ জনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তবে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিক নুর মোহাম্মদ গা ঢাকা দিয়ে আছেন।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া