২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া রং দিয়ে তৈরি হচ্ছে মসলা

  • মাসোহারা নিয়ে ব্যস্ত বিএসটিআই পরিদর্শক

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া, ২১ জুলাই ॥ কুষ্টিয়ায় নানা রকমের প্যাকেটজাত ভেজাল মসলায় সয়লাব হয়ে গেছে শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার-দোকান। দীর্ঘদিন ধরে ভেজালবিরোধী অভিযানে ভাটা পড়ায় এসব ভেজাল মসলা প্রস্তুতকারী কারখানাগুলোর দৌরাত্ম্য এখন বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। বিএসটিআই’র অনুমোদন ছাড়াই, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান বিএসটিআইয়ের অনুমোদন নিয়েই বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও গুণগতমান বজরায় না রেখে তৈরি করছে ভেজাল মসলা। এসব ভেজাল কারবারিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। জানা যায়, বিএসটিআই, পুলিশ ও কাস্টমসসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে একটি চক্র প্রকাশ্যে তাদের এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। অনুমোদনবিহীন এসব মসলা কারখানায় মসলার রং ঠিক রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকারক ধানের তুষ, কাঠের গুঁড়া ও ইকরামিন নামের এক ধরনের কেমিক্যাল পাউডার এবং স্বর্ণা নামের বিভিন্ন রং। খুলনা বিএসটিআই থেকে গুঁড়া হলুদ প্যাকেটজাতের অনুমোদন পাওয়া কুষ্টিয়ায় অন্তত ২৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের মেয়াদ ইতোমধ্যেই পেরিয়ে গেছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও ওইসব প্রতিষ্ঠানে মসলার উৎপাদন বন্ধ হয়নি এবং সেখানে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের সব ভেজাল মসলা। গত ঈদকে টার্গেট করে ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকরা হয়ে উঠে বেপরোয়া। শহরের ঘোড়াঘাট এলাকায় একটি গুঁড়া মসলা কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে খাবার অনুপোযোগী নষ্ট শুকনা মরিচ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে মরিচের গুঁড়া। আরও তৈরি হচ্ছে বোতলজাত সরিষার তেল। অথচ সরিষার তেল উৎপাদনে ওই প্রতিষ্ঠানের কোন অনুমোদন নেই। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মচারী জানান, এই মিলে রং মিশিয়ে হলুদ, মরিচ ও ধুইনা ভাঙ্গানো হচ্ছে। শুধু ধনিয়া ও হলুদের গুঁড়ায় বিএসটিআই’র অনুমোদন থাকলেও এখানে মরিচের গুঁড়া উৎপাদনের কোন অনুমোদন নেই। কিন্তু হরহামেশা সেখানে মরিচের গুঁড়া প্যাকেটজাত হয়ে বিক্রি হচ্ছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এখান থেকে মসলা ভাঙ্গিয়ে নিয়ে জেলার সর্বত্র বিক্রি করছে।

অভিযোগ করা হয়, খুলনা থেকে বিএসটিআইয়ের ইন্সপেক্টর কুষ্টিয়ায় পরিদর্শনে আসলেও বিএসটিআই অননুমোদিত ও অনুমোদিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত মাসোহারা কালেকশন নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কুষ্টিয়া শহরের এনএস রোডের একজন মিল মালিক জানান, বিএসটিআই’র নিয়মিত তদারকি না থাকায় ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতা কমে যাওয়ায় অসাধু কিছু ব্যবসায়ী নির্বিঘেœ এ কাজ করে যাচ্ছে।