২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছিটমহলের যৌথ খানা জরিপ ॥ খসড়া প্রকাশ

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ভারত-ভাংলাদেশ দু’দেশের যৌথ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১১১ ছিটমহলের জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার এবং ভারতের অভ্যন্তরে ৫১ ছিটমহলের জনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ছিটটমহল বিনিময় সম্পন্ন হবে। স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর-

লালমনিরহাট ॥ সোমবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরে ১৬২টি ছিটমহলের যৌথ খানা জরিপের খসড়া ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দরের বিপরীতে ভারতের চ্যাংরাবান্ধায় ৬১ বিএসএফ ক্যাম্পের মিলনায়তনে সোমবার বিকেল ৩টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী দু’দেশের জেলা প্রশাসক পর্যায়ে ছিটমহল যৌথ জরিপ কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পহেলা আগস্ট হতে ৭৭৯ ভারতীয় নাগরিক ভারতে যাওয়া শুরু করবে। চলবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

বৈঠকের খসড়া ফলাফলে বাংলাদেশের ভিতরে ১১১টি ছিটমহলের ৭৮৭ জন ভারতের নাগরিক হয়ে যাচ্ছে। এদের মধ্যে ১৬৩ জন মুসলমান। ভারতের ভিতরে ৫১টি ছিটমহলের কেউ বাংলাদেশে আসতে চায়নি। খসড়া ফলাফলে বাংলাদেশের ছিটমহলের নাগরিক সংখ্যা ১৪ হাজার তিন শ’। ভারতের ছিটমহল নাগরিক সংখ্যা ৩৯ হাজার ৯৮৫ জন।

কুড়িগ্রাম ॥ কুড়িগ্রামের অভ্যন্তরে ১২টি ভারতীয় ছিটমহলের ৩১৭ জন ভারতে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও ভারতের ১৬২টি ছিটমহলে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ জনগণনায় তারা ভারতে যাবার জন্য নাম নিবন্ধন করেছেন। বর্তমান জরিপে কুড়িগ্রামের ১২টি ছিটমহলের পরিবার দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৩০টি এবং লোকসংখ্যা আট হাজার ১৩২ জন। ২০১১ সালের জনগণনায় এ সংখ্যা ছিল এক হাজার ৬৩৩ পরিবারের আট হাজার ৩০৫ জন। চার বছর আগের গণনার তুলনায় পরিবার তিনটি এবং জনসংখ্যা এক শ’ ৭৩ জন কমেছে। কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিন জানান, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার এবং ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশী ৫১টি ছিটমহলের জনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৭৭৯ জন ভারতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশী ৫১টি ছিটমহলের কেউ বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেনি। ছিটমহল বিনিময় হবে ৩১ জুলাই মধ্যরাতে। আগামী ৩ আগস্ট থেকে তারা ভারতে যেতে পারবেন। গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ জনগণনার কাজ শুরু হয়। শেষ হয় ১৬ জুলাই। এতে অংশ নেন দু’দেশের গনণাকারী ও সুপারভাইজাররা। রংপুর ॥ টানা ১১ দিনের ভারত-বাংলাদেশের যৌথ জনগণানায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১১টি ছিটমহলে ৪১ হাজার চার শ’ ৪৯ মানুষের হিসাব পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে চার জেলার জেলা প্রশাসকরা রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এ প্রতিবেদন দাখিল করেন।

বিভাগীয় কমিশনার দিলোয়ার বখত জানান, ২০১১ সালে দু’দেশের যৌথ জনগণনায় লোকসংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার তিন শ’ ৬৪ জন। কিন্তু চলতি বছরের ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক শ’ ১১ ছিটমহলে জনগণনায় ৪১ হাজার চার শ’ ৪৯ মানুষকে শনাক্ত করা গেছে। । গত পাঁচ বছরে এসব ছিটমহলে মারা গেছেন চার শ’ ৩৩ জন। মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসকরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে প্রাথমিক এ জনগণনার প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। ছিটমহলে ভূমি জরিপের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, এসব ছিটমহলে প্রায় ১৭ হাজার একর ভূমি রয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই ঢাকায় দ্বিপক্ষীয় সম্মেলনের মধ্যদিয়ে জনগণনার দলিল হস্তান্তর করা হবে।

নির্বাচিত সংবাদ