২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

কোরান শরীফের প্রাচীনতম পাণ্ডুলিপি

  • বার্মিংহাম ভার্সিটিতে উদ্ধার করা অংশ ১৩৭ বছরের পুরনো

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের প্রাচীনতম বলে অনুমিত কোরান শরীফের খ-িত অংশ পাওয়া গেছে। রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে সময় নির্ধারণ করে পা-ুলিপিটি অন্তত এক হাজার ৩৭০ বছর আগের বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে পুরনো কোরান শরীফের অংশ। খবর বিবিসি অনলাইনের।

কোরান শরীফের মূল পাঠের পৃষ্ঠাগুলো প্রায় এক শ’ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে অশনাক্ত অবস্থায় রাখা ছিল। ব্রিটিশ গ্রন্থাগারের এ ধরনের পা-ুলিপি সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ঈসা ওয়ালি বলেন, এই ‘সাড়া জাগানো আবিষ্কার’ মুসলমানদের ‘আনন্দিত’ করবে। পা-ুলিপিটি বিশ্বের প্রাচীনতম কোরান শরীফের অংশ বলে শনাক্তকরণ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গ্রন্থ এবং দলিলপত্রের সংগ্রহের সঙ্গে রাখা ছিল।

একজন পিএইচডি গবেষক যখন ওইসব পৃষ্ঠা নিবিড়ভাবে নিরীক্ষণ করছিলেন তখন একটি রেডিওকার্বন ডেটিং পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত হয় এবং এর ফল ছিল ‘চমকে দেয়ার মতো।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বের সংগ্রহ বিভাগের পরিচালক সুসান ওরাল বলেন, গবেষকরা স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি এটি এত পুরনো হবে। ‘সারা বিশ্বের মধ্যে কোরান শরীফের প্রাচীনতম অংশ খুঁজে পাওয়া বিস্ময়করভাবে উত্তেজনাকর।’

বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পা-ুলিপি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা একটি সংগ্রহের মধ্যে রাখা ছিল।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওকার্বন এ্যাক্সেলেটর ইউনিট পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা যায়, ভেড়া অথবা ছাগলের চামড়ার ওপর লিখিত অংশগুলো কোরান শরীফের এখনও টিকে থাকা মূল পাঠের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো। এসব পরীক্ষায় সময়কালের যে বিস্তারের কথা বলা হয়েছে, তাতে ৯৫ শতাংশেরও বেশি সম্ভাবনা রয়েছে যে, সেগুলো ৫৬৮ থেকে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে লেখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্রিস্ট ও ইসলাম ধর্ম বিষয়ের অধ্যাপক ডেভিড টমাস বলেন, ‘এই আবিষ্কার আমাদের হয়ত ইসলামের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাকালের কয়েক বছরের মধ্যে নিয়ে যাবে।’

মহানবী (দ.) ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেসব ওহি লাভ করেন কোরান শরীফ তারই সঙ্কলন। শেষোক্ত বছর তিনি ওফাত লাভ করেন। বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডেভিড টমাস বলেন, ‘যে ব্যক্তি এটি লিখেছিলেন তিনি সম্ভবত নবী মোহাম্মদ (দ.) জানতেন। ‘বার্মিংহামের উদ্ধারকৃত পৃষ্ঠাগুলোর সময় নির্ধারণ করার পর এটি খুবই সম্ভব যে, লেখক মহানবী (দ.) সময়ে জীবিত ছিলেন। তিনি সম্ভবত তাঁকে দেখেছেন তার ধর্ম প্রচার শুনেছেন এবং তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে জানতেন।

লিখিত আরবী ভাষার আদিরূপ ‘হিজাজি বর্ণলিপিতে পা-ুলিপিটি লেখা হয়েছে- যা কোরান শরীফের এ পর্যন্ত জানা প্রাচীনতম অংশ।