১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় মহাসড়কে অটোরিক্সা চলতে দেয়া হবে না

  • যথাসময়ে প্রকল্প শেষ করতে ব্যর্থ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে ॥ ও. কাদের

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যথাসময়ে প্রকল্প তথা মেরামতকাজ শেষ করতে ব্যর্থ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার। কার্যাদেশ অনুযায়ী যথাসময়ে কাজ শেষ করতে অহেতুক বিলম্বের জন্য পিপিআর অনুযায়ী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওটিবিএল এবং পিবিএলের বিরুদ্ধে শাস্তির কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চলতে দেয়া হবে না। বুধবার সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। ঈদে ঘরমুখো এবং কর্মস্থলমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে গঠিত মনিটরিং টিমের কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক শেষে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য চালকদের বেপরোয়া ড্রাইভিংকে দায়ী করে মন্ত্রী বলেন, এবারের ঈদে অন্য সময়ের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর মিছিল কমলেও স্বস্তির কোন জায়গা নেই। এবার সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪জন নিহত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ছিল ৯০। বেপরোয়া গাড়ি চালানো বন্ধ না হওয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা নির্মূল করা যাচ্ছে না মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ভিআইপি, মন্ত্রী থেকে শুরু করে কেউ আইন মানেন না। রং সাইড দিয়ে চলেন। তিনি বলেন, জাতীয় মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। জাতীয় মহাসড়কে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এবার ঘরমুখো মানুষের যাত্রা এবং কর্মস্থলে ফিরে আসা অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে অধিক স্বস্তির ছিল একথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে কথা দিয়ে কথা রাখেননি। তাদের কারণে কিছুটা জনদুর্ভোগ হয়েছে। যারা কথা দিয়ে কথা রাখেননি, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। তিনি বলেন, আমি আগেই আপনাদের মাধ্যমে জানিয়েছিলাম এবার দেশের সড়ক-মহাসড়ক যানজটের কারণ হবে না। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নিবিঢ় মনিটরিংয়ে মানুষ নিরাপদে ঈদ উদ্যাপন করে ফিরে আসতে পারায় আমরা আনন্দিত। তবে যারা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। ঈদের আগের দিন টাঙ্গাইল সড়কে কয়েকটি ফিটনেসবিহীন যানবাহন (আটটি) অকেজো হয়ে পড়লে সেখানে সৃষ্টি হয় যানজট। এছাড়া দেশের সকল সড়ক-মহাসড়ক ছিল অনেকটাই নির্বিঘœ। যাত্রীরা অধিকতর স্বস্তি নিয়ে বাড়ি যেতে পেরেছে এবং কর্মস্থলে ফিরে আসছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যানজট রোধে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাইপাইল পর্যন্ত ২২ কিমি দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী বছরের শুরুতে এ কাজ শুরু হবে। সরকার ধাপে ধাপে দেশের সকল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী সেপ্টেম্বরে জয়দেবপুর হতে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিমি. সড়ক চার লেনে উন্নীত করার ভৌত কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। তাছাড়া আগামী দু’মাসের মধ্যে এই স্পটে আরেকটি বাইলেন করে দেয়া হবে। ফলে চন্দ্রা-মির্জাপুর পয়েন্টে ৫০ ভাগ যানজট কমে আসবে। পরবর্তী পর্যায়ে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে বনপাড়া-হাটিকুমরুল সড়কও চার লেনে উন্নীত করা হবে।

তিনি বলেন, সড়ক প্রকৌশলীদের দক্ষতা মূল্যায়নের পাশাপাশি আমরা কর্তব্যে অবহেলা বা ব্যর্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছি। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী যে সকল প্রকৌশলী ভাল কাজ করেছে, দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে তাদের পুরস্কৃত করা হবে। আর ব্যর্থতার জন্য ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নের মধ্যদিয়ে কর্মের স্বীকৃতি তথা পুরস্কার ও তিরস্কার নির্ধারিত হবে।

তিনি বলেন, ঈদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে চাই না। এবারের ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করে পরবর্তী ঈদে কাজে লাগাতে চাই। আসন্ন ঈদ-উল-আযহার প্রস্তুতিও আমরা শুরু করতে যাচ্ছি। ঢাকা মহানগরীর এন্ট্রি ও এক্সিট পয়েন্টগুলো নির্বিঘœ করতে এখন থেকে কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ঈদ-উল-আযহার সময় জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর ও পাশে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর ইতোপূর্বের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এজন্য তিনি ভাঙ্গা ও বাবুবাজার পয়েন্টে বাজার না বসাতে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের প্রতিও আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম প্রান্ত তথা দুর্ঘটনাস্থলের সড়কে কোন সমস্যা ছিল না একথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টরা আমাকে জানিয়েছেন- বেপরোয়া গাড়ি চালনাই দুর্ঘটনার কারণ। এছাড়া কক্সবাজার থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত একজন চালক একটানা ড্রাইভিং করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভোর নাগাদ তার ঝিমুনি আসতে বাধ্য। এসকল ক্ষেত্রে বা দূরপাল্লার ট্রিপে দুজন চালক দেয়ার জন্য আমরা ইতোমধ্যে পরিবহন মালিকদের অনুরোধ জানিয়েছি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে চারটি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আদলে নিউজার্সি ব্যারিয়ার বা ডিভাইডার স্থাপন করা হবে আগামী দু’মাসের মধ্যে। আজ থেকে কাজ শুরু হচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ