২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছাত্রলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মধুর ক্যান্টিন সরগরম

  • পদপ্রত্যাশীদের ভিড়

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৮তম কেন্দ্রীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে পদ প্রত্যাশীদের ভিড়ে দিনভর সরগরম থাকছে জাতীয় রাজনীতির সূতিকাগারখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিন। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। ঈদের ছুটি শেষ হতে না হতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, সংগঠনের পার্টি অফিসে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পদপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা উপস্থিত থাকছেন। অধিকাংশ পদপ্রত্যাশীরাই ঈদ ঢাকাতে করেছেন।

আসছে ২৫-২৬ জুলাই রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে সম্মেলনের প্রায় ৮০ ভাগ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন উপ-কমিটি তাদের কমিটির সব সদস্যকে নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ১০১টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিট ও দেশের বাইরের ১১টি ইউনিটসহ মোট ১১২টি ইউনিট থেকে কাউন্সিলর তালিকা এবং ছবিসহ ভোটার তালিকার কাজ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবারই প্রথম ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং বিদেশী ইউনিটসমূহকে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

সম্মেলনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সংগঠনের সহসভাপতি জয়দেব নন্দী জনকণ্ঠকে বলেন, সম্মেলন সফল করতে পুরোদমে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দাওয়াতপত্র বিতরণ শেষ হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে। দেশের সব সাংগঠনিক ইউনিটে পৌঁছে গেছে সম্মেলনের পোস্টার। এখন মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। আগামী পরশু এই কাজও শেষ হয়ে যাবে।

গত ১২ জুলাই থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ প্রার্থীদের জন্য মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়। বুধবার ছিল মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার শেষ দিন। রাত সাড়ে আটটায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সভাপতি পদে ৮০টি এবং সেক্রেটারি পদে ১৬২টি ফরম জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের দফতর সম্পাদক ও নির্বাচন কমিশনার শেখ রাসেল। এরপর চলবে যাচাই-বাছাই কাজ। খুব শীঘ্রই চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করা হবে।

গত ৮ মে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগরসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইউনিটের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছিলেন সংগঠনের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। এরপর থেকেই পুরোদমে চাঙ্গা হয়ে ওঠে ছাত্রলীগের রাজনীতি। কারণ, গত দু’বছর থেকেই মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছিল ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড হিসেবে পরিচিত ছাত্রলীগ। তাই পদপ্রত্যাশীরা ছিলেন অনেকটাই হতাশ। ফলে অনেক হেভিওয়েট নেতাও রাজনীতি ছেড়ে বিভিন্ন পেশায়ও ঢুকে পড়েন।

সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয়ে উঠেন পদপ্রত্যাশীরা। নতুন উদ্যমে মাঠ গোছানোর কাজে ব্যস্ত পড়েন তারা। নিজস্ব সমর্থক নিয়ে মধুর ক্যান্টিনে নিয়মিত হাজিরা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে লবিং, তদবির শুরু করেন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী নেতাদের কাছে। ঝিমিয়ে পড়া অনেক নেতাও সংগঠনের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশ নিয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয়ার চেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে, গত ১১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, গত ২৮ মে ঢাকা মহানগর উত্তর ও ৩০ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এসব ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এখনও হয়নি। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কাক্সিক্ষত পদ পেতে সক্রিয় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল শাখা ও মহানগরের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।