২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাজন হত্যায় অন্যতম আসামি মুহিতেরও দায় স্বীকার

  • গ্রামের বাড়ি গিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী;###;দ্রুত বিচার আইনে ন্যায়বিচারের আশ্বাস

সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ বুধবার রাজন হত্যার অন্যতম আসামি মুহিত আদালতে স্বীকরোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। তদন্তের নামে নিরপরাধ লোককে হয়রানি ও কালক্ষেপণ না করে রাজন হত্যার বিচার দ্রুত শুরু করার দাবি উঠেছে। শিশু রাজন হত্যাকা- নিয়ে নাটক ও প্রামাণ্য চিত্র নির্মাণ হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিটির রিপোর্ট দাখিল বৃহস্পতিবার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল বলেছেন, শিশু রাজনের কোন খুনীর রক্ষা হবে না। রাজনের খুনী কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। কোন পুলিশ সদস্য দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। রাজন হত্যার ঘটনায় প্রতিবাদ মানববন্ধন অব্যাহত রয়েছে।

বর্বরোচিত নির্যাতনে নিহত শিশু সামিউল আলম রাজনের বাবা-মাকে জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। বুধবার বেলা পৌনে ৩টায় তিনি সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেয়ালি গ্রামে রাজনের বাড়িতে যান এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। এ সময় রাজনের বাড়িতে আয়োজিত এক সমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনের শাসনে বিশ্বাসী। শিশু রাজনের কোন খুনীর রক্ষা হবে না। রাজনের খুনী কামরুলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। রাজনের খুনীদের সঙ্গে কোন পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া গেলে তাদেরও কোন প্রকার ছাড় দেয়া হবে না। যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তাদের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোন পুলিশ সদস্য দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন- রাজন হত্যা মামলার বিচার বিলম্বিত হবে না। দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি নিষ্পত্তি করা হবে। এই হত্যাকা-ের বিচারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নিজে খোঁজখবর রাখছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন- হত্যাকা-ের পর কামরুল কিভাবে দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে গেল তাও খতিয়ে দেখা হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, মহানগর সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সুজাত আলী রফিক, কৃষক লীগ নেতা অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

মুহিতের স্বীকরোক্তি ॥ শিশু সামিউল আলম রাজন খুনের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে মুহিত আলম। নিজে রাজনকে নির্যাতন না করলেও খুনের পর ছোট ভাই কামরুলের নির্দেশে সে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছে। গাড়ি দিয়ে লাশ অন্যত্র ফেলে দেয়ার চেষ্টাকালে জনতার হাতে সে আটক হয়েছে বলে আদালতকে জানিয়েছে মুহিত। বুধবার বেলা ১টা থেকে প্রায় ৪ ঘণ্টা মুহিতের জবানবন্দী গ্রহণ করেন সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের বিচারক আনোয়ারুল হক। মুহিতের জবানবন্দীর বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার বলেন, মুহিত তার জবানবন্দীতে আদালতকে জানিয়েছে রাজনকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কামরুল তাকে ফোন দেয়। কামরুল ফোনে জানায় এক চোরকে সে বেঁধে রেখেছে। খবর পেয়ে মুহিত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায় কামরুলসহ কয়েকজন মিলে রাজনকে মারধর করছে। একপর্যায়ে রাজন অচেতন হয়ে পড়ে। তখন রাজনকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যেতে ময়না চৌকিদার ও মুহিতকে নির্দেশ দেয় কামরুল। মাইক্রোবাসে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাজন মারা গেলে লাশ গুম করতে মোবাইল ফোনে নির্দেশ দেয় কামরুল। কিন্তু লাশ গুম করার আগেই জনতার হাতে ধরা পড়ে যায় মুহিত। আর পালিয়ে যায় ময়না চৌকিদার। তদন্ত কর্মকর্তা সুরঞ্জিত তালুকদার জানান, মুহিত তার জবানবন্দীতে দাবি করেছে সে রাজনকে মারধর করেনি। তবে ভাইয়ের নির্দেশে লাশ গুম করার চেষ্টা করে সে অপরাধ করেছে। মুহিত নিজের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে। তার জবানবন্দী থেকে নির্যাতনে জড়িত ছিল এমন কয়েকজনের নাম প্রকাশ পেয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করেননি তদন্ত কর্মকর্তা।

রিমান্ড ॥ রাজন হত্যা মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামি মুহিতুল আলম, তার বড় ভাই আলী হায়দার ওরফে আলী, চৌকিদার ময়না, নুর আহমদ, দুলাল আহমদ, রুহুল আমিন ও ইসমাইল হোসেন আবলুসকে পাঁচ থেকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এর মধ্যে ৫ দিন পুলিশ রিমান্ডে থাকা মুহিত আলমের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই আরও ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তাকে। মুহিতের তালতো ভাই ইসমাইল হোসেন আবলুসের দ্বিতীয় দফা ৭ দিনের রিমান্ড চলছে। ৭ দিনের রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই চৌকিদার ময়না সোমবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

কামরুল ইসলামের নামে রেড নোটিস ॥ সিলেটের শিশু শেখ সামিউল আলম রাজনের ঘাতক কামরুলের নামে রেড নোটিস জারি করেছে আন্তর্জাতিক পুলিশী সংস্থা ইন্টারপোল। ঈদের আগে সৌদিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদর মাধ্যমে আটক এই ঘাতককে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের মধ্যেই ইন্টারপোল তার নামে নোটিস জারি করল। এরফলে কামরুলকে ফিরিয়ে আনা আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।