২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাঘ দুটি জাপান পাঠানো হচ্ছে

তৌহিদুর রহমান ॥ জাপানে বাঘ পাঠানোর বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ। জাপান সরকার চাইলেই যে কোন সময়ে বাঘ পাঠানো হবে। বাংলাদেশ সরকারের দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত এক বছর ধরে জাপানে বাঘ পাঠানোর বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বাঘ পাঠানোর বিষয়ে এখন জাপান সরকারের দিক থেকে অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। এদিকে জাপানে পাঠানোর জন্য বাছাইকৃত দুটি বাঘ রণবী ও জ্যোতিকে এখন বিশেষ পরিচর্যা করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র এ তথ্য জানায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর মে মাসে জাপান সফরে গিয়ে দুটি বাঘ উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর গত বছর সেপ্টেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ফিরতি সফরে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়। এজন্য আগেভাগেই ঠিক করা হয় একটি পুরুষ ও একটি নারী বাঘ। এই দুটি বাঘকে জাপানের জাতীয় চিড়িয়াখানায় রাখা হবে। সেখানে বাঘ দুটি যেন নিঃসঙ্গ না থাকে বা পরবর্তী প্রজন্মকে স্বাগত জানাতে পারে সেজন্যই দুই লিঙ্গের দুই বাঘ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে বন্ধুরাষ্ট্র জাপানের জনগণকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সম্পর্ক জানাতেই এই বাঘ দুটি উপহার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জাপানী প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ঐতিহাসিক সফরের সময় তাকে দুটি বাঘ উপহার দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাপানী প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাঘ দুটির ছবি হস্তান্তর করেন। জাপানী প্রধানমন্ত্রী সেদেশে ফিরে যাওয়ার পরে বাঘ দুটিকে ঢাকা থেকে জাপানে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি রক্ষার লক্ষ্যে গত বছর জুলাই মাসের মাঝামাঝি জাপানকে বাঘ উপহার দেয়ার বিষয়ে একটি ছয় সদস্যের কমিটি করা হয়। কমিটির সদস্যরা যাচাই-বাছাই করে দুটি সুস্থ ও সবল বাঘ নির্বাচন করে। এরমধ্যে ঢাকা চিড়িয়াখানা থেকে একটি বাঘ নেয়া হয়। অপরটি গাজীপুরের সাফারি পার্ক থেকে বাছাই করা হয়। বাঘ দুটি অপেক্ষাকৃতভাবে বয়সে ছোট ও তাজা। এদের একটির নাম এখন রণবী অপরটির নাম জ্যোতি।

সূত্র জানায়, গত এক বছর ধরে জাপানে বাঘ পাঠানোর বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই জাপানী বিশেষজ্ঞরা ঢাকায় এসে বাঘ দু’টিকে দেখে গেছেন। এই বাঘ কি ধরনের আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে থাকতে অভ্যস্ত সেটাও পরীক্ষা করেছেন তারা। সে অনুযায়ী তাদের দেশের চিড়িয়াখানায় এমন আবহাওয়া ও পরিবেশ তৈরির পরেই বাঘ পাঠানো হবে।

ইতোমধ্যেই বাঘ দুটিকে কিভাবে পাঠানো হবে ও জাপানের কোন বিমানবন্দরে পাঠানো হবে সে বিষয়ে জাপানের নিকট জানতে চাওয়া হয়েছে। জাপান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তারা বিষয়টি চূড়ান্ত করে বাংলাদেশকে জানাবে। তখনই বাঘ দুটি পাঠানো হবে।

সূত্র জানায়, যে কোন প্রাণীর বিষয়ে জাপানীরা খুব সংবেদনশীল। বাংলাদেশ থেকে বাঘ নেয়ার আগেই যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায় তারা। বাংলাদেশের এই বাঘের পরিচর্যা নিয়ে কোন ধরনের সমস্যা যেন না হয় তার জন্য আগেভাগেই সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে চায় তারা। এসব প্রস্তুতি শেষ করেই বাংলাদেশ থেকে বাঘ নিতে চায় জাপান।

সূত্র জানায়, ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানায় বর্তমানে নয়টি বাঘ আছে। এর মধ্যে চারটি অসুস্থ ও একটি বয়স্ক। বাকি দু’টি জুটি সানি ও ঊর্মিলা এবং শুভ ও সখিনা চিড়িয়াখানার এখন মূল আকর্ষণ। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০টি বাঘ রয়েছে। আর ২০১২ সালে শ্যামলী থেকে র‌্যাবের উদ্ধার করা তিনটি বাঘ বন বিভাগের কাছে রয়েছে। তবে জাপানে পাঠানোর জন্য বাছাই করা বাঘ রণবী ও জ্যোতিকে সব সময় বিশেষ যতœ নেয়া হচ্ছে। বাঘ দুটিকে বিশেষভাবে দেখভাল করা হচ্ছে। প্রতিদিনই শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। দেয়া হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন।

বাংলাদেশ নিজস্বভাবে বাঘ রক্ষায় কাজ করছে। এছাড়া বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৩টি দেশও বাঘ রক্ষার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করছে। এই ১৩টি দেশ টাইগার রেঞ্জ কান্ট্রি (টিআরসি) হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এসব দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, লাওস, ভুটান, নেপাল ও রাশিয়া। ইতোমধ্যে বালিনিজ টাইগার, জাভানিজ টাইগার ও কাস্পিয়ান টাইগার বিশ্ব হতে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে বাঘের পাঁচটি প্রজাতি কোনমতে টিকে আছে। এগুলো হলো বেঙ্গল টাইগার, সাইবেরিয়ান টাইগার, সুমাত্রান টাইগার, সাউথ চায়না টাইগার এবং ইন্দো-চায়না টাইগার। বর্তমানে সারা বিশ্বে ৩৭শ’ বাঘ রয়েছে। এর মধ্যে পৃথিবীর সর্বাধিক বাঘের সংখ্যা ভারতে (প্রায় ১৭০৬টি), যা ৫৬টি বনাঞ্চলে ছড়িয়ে আছে। আর একক বন হিসেবে পৃথিবীর সর্বাধিক বাঘের সংখ্যা বাংলাদেশের সুন্দরবনে। সুন্দরবনে ৪৪০টি বাঘ রয়েছে।

২০১৪ সালের মে মাসে জাপান সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে জাপানকে এক জোড়া বাঘ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর গত এক বছর ধরে বাঘ পাঠানোর বিষয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।