১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমল

  • নতুন দাম ৪২,৯৮১ টাকা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক দরপতনের মুখে অবশেষে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে। ভরিপ্রতি দেড় হাজার টাকা কমানো হলেও বিশ্ববাজারের সঙ্গে দামের ফারাক প্রায় ৮ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমে গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছে। দেশের বাজারে এ নিয়ে হৈচৈ শুরু হলে বুধবার সোনার নতুন দাম নির্ধারণের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভরিপ্রতি দেড় হাজার টাকা কমানোর ফলে দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম ৪২ হাজার ৯৮১ টাকা। আজ বৃহস্পতিবার থেকে এ মূল্য কার্যকর হবে।

বাজুস সূত্রে জানা যায়, নতুন দাম অনুযায়ী প্রতিভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ভাল মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট প্রতিগ্রাম স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৬৮৫ টাকা হলে প্রতিভরি ৪২ হাজার ৯৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতি ভরিতে কমানো হয়েছে ১ হাজার ৫৩৯ টাকা। ২১ ক্যারেট প্রতিগ্রাম স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৫০৫ টাকা হলে প্রতিভরি ৪০ হাজার ৮৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেট প্রতিগ্রাম স্বর্ণের দাম ২ হাজার ৯২৫ টাকা হলে প্রতিভরি ৩৪ হাজার ১১৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিগ্রাম স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৯৬০ টাকা হলে প্রতিভরি ২২ হাজার ৮৬১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রুপার দাম প্রতিভরি ৮৫ টাকা হলে প্রতিভরি ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার দাম ৯৯১ টাকা।

জানা যায়, গত বছর দেশের বাজারে ১৪ বারের মতো স্বর্ণের দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ সময়ে এ ধাতব পদার্থের (স্বর্ণ) দাম কমানো হয়েছে। তবে নতুন বছরে এসে গত ২১ জানুয়ারি একবার দাম বৃদ্ধি ও ১০ মার্চ সোনার দাম কমানো হয়। কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দরপতন হতে দেখা যায়। গত কয়েকদিন ধরে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে সোনার দামে তীব্র নিম্নগামী প্রবণতা দেখা গেছে। এশিয়ার নগদ টাকার বাজারে (স্পট) বুধবার সোনার আউন্স প্রতি দাম ১১শ’ ডলারের নিচে নেমে আসে। ২০১০ সালের ২৬ মার্চের পর গত সোমবার সোনার ন্যূনতম দাম ১ হাজার ৮৫ ডলারের ঘরে এসে দাঁড়ায়। এদিকে বিশ্ববাজার থেকে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম বেশি হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণের কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। বাজুস নেতাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশের ব্যবসায়ীরা স্বর্ণ কিনতে পারছে না। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে সংগৃহীত স্বর্ণের দ্বারাই দেশীয় বাজারের চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। ফলে দেশে চাহিদার বিপরীতে প্রয়োজনীয় যোগান হচ্ছে না। এ প্রসঙ্গে সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক খান বলেন, সাধারণত বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশেও সোনার দাম ঠিক করা হয়। এবারও তাই করা হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে এখনও প্রায় ৮ হাজার টাকার ফারাক রয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে পুরোপুরি নির্ভর করে দাম কমানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বৈধভাবে সোনা কেনার কোন ব্যবস্থা নেই। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম প্রতিদিন ওঠানামা করলেও আমরা করতে পারি না।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববাজারে হংকং, দুবাই, নিউইয়র্ক, লন্ডন, জুরিখ সর্বত্র প্রায় একই রকম দাম থাকলেও দেশে দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে দুবাইয়ের মূল্যকে মানদ- হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে জানিয়েছে জুয়েলার্স সমিতি।