১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভাড়ায় চালিত চার বিদ্যুত কেন্দ্রের ক্রয় চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমো

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভাড়ায় চালিত চারটি বিদ্যুত কেন্দ্রের ক্রয় চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তবে আগের চেয়ে নতুন ক্রয় চুক্তিতে দাম কিছুটা কমলেও আইপিপি বিদ্যুত কেন্দ্রগুলোর চেয়ে এই দর প্রায় দ্বিগুণ। আগে এসব কেন্দ্র থেকে ৪ টাকা ৬৫ পয়সা থেকে ৪ টাকা ৮০ পয়সায় প্রতি কিলোওয়াট/আওয়ার (ইউনিট) বিদ্যুত কেনা হতো। এখন এই দর কমিয়ে ৩ টাকা ২৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও দেশের আইপিপি বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো গ্যাসে গড়ে ২ টাকার কাছাকাছি দরে সরকারের কাছে বিদ্যুত বিক্রি করে।

এই চারটি বিদ্যুত কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি মেসার্স এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট লিমিটেড পরিচালিত এবং অন্যটি এনার্জি প্রিমা লিমিটেডের। এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনালের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৮৫ মেগাওয়াট ও আশুগঞ্জ ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের মেয়াদ এক বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। এগ্রিকোর ঘোড়াশাল ১৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্র এবং এনার্জি প্রিমার ফেঞ্চুগঞ্জ ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুত কেন্দ্রের মেয়াদ তিন বছর বাড়ানো হয়েছে।

সরকারের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তিতে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। তখন এগ্রিকো ইন্টারন্যাশনালের ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশুগঞ্জ কেন্দ্রের বিদ্যুতের দাম ছিল ইউনিট প্রতি ৪ টাকা ৮০ পয়সা। ঘোড়াশাল কেন্দ্রের ওই বিদ্যুতের দাম ছিল ৪ টাকা ৭৫ পয়সা। এনার্জি প্রিমা ফেঞ্চুগঞ্জ কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুত ক্রয়ে ব্যয় হতো ৪ টাকা ৬৫ পয়সা।

ধরা হয় চুক্তির প্রথম মেয়াদেই বিদ্যুত কেন্দ্রর বিনিয়োগ তুলে নিতে পারে ভাড়ায় চালিত বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো এতে আইপিপি বিদ্যুত কেন্দ্রর তুলনায় দামও অনেকটা বেশি পড়ে। কিন্তু বিকল্প না থাকায় দ্রুত মানুষকে বিদ্যুত দিতেই কেবল এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়। স্থায়ী বিদ্যুত কেন্দ্র চলে এলে এসব বিদ্যুত কেন্দ্রর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের রেওয়াজ রয়েছে বিশ্বজুড়েই। কিন্তু এখানে স্থায়ী বিদ্যুত কেন্দ্রর তুলনায় অনেক বেশি দামে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েই চলেছে সরকার। কবে নাগাদ এসব বিদ্যুত কেন্দ্র বন্ধ করা হবে তা কারও জানা নেই।

বুধবার সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই চারটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদিত হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর রহমান জানান।

ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বুধবারের বৈঠকে মোট ১৩টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোস্তাফিজুর।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু উপস্থিত ছিলেন।

ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় কমার্শিয়াল অব দ্য সেলফ সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার, নেটওয়ার্কিং ও ম্যানেজড সার্ভিস কেনার প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে কমিটি। মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ বাস্তবায়নের জন্য ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প নিয়েছে সরকার।

২০১৬ সালের জুলাই থেকে এই আইন বাস্তবায়ন শুরু হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কিছু পরীক্ষামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প।