২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

খালেদা জিয়া আজ আদালতে হাজির হবেন

  • এতিমের টাকা আত্মসাত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আজ বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হবেন। বুধবার দুপুরে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন জনকণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুরান ঢাকার বকশীবাজারে কারা কর্তৃপক্ষের প্যারেড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী এজলাসে ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার আজ বৃহস্পতিবার এ দুই মামলায় শুনানি গ্রহণ করবেন।

বৃহস্পতিবার মামলা দু’টিরই বাদী ও প্রথম সাক্ষী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদকে আসামিপক্ষের অসমাপ্ত জেরা এবং পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। এর আগে গত ১৮ জুন এ দুই মামলায় হাজিরা দিতে খালেদা জিয়া আদালতে গিয়েছিলেন। ওই দিন জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বাদী দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশিদকে আংশিক জেরা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। পরে আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ২৩ জুলাই পরবর্তী দিন ধার্য করেন। হারুন-অর-রশিদ গত ২৫ মে পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন আদালতে। তবে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার সাক্ষ্য নেয়ার দিনগুলোতে খালেদা জিয়া অনুপস্থিত থাকায় এ সাক্ষ্যগ্রহণ আইনানুগ হয়নি উল্লেখ করে হাইকোর্টে তা বাতিল চেয়ে রিট আবেদন জানিয়েছেন খালেদার আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাত সাক্ষীর অন্য ছয়জন হচ্ছেন সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার হারুনুর রশিদ, অফিসার (ক্যাশ) শফিউদ্দিন মিয়া, আবুল খায়ের, প্রাইম ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র এ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দা নাজমা পারভীন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট আফজাল হোসেন। এসব সাক্ষীও বৃহস্পতিবার আদালতে থাকবেন। দুই মামলায়ই হারুন-অর-রশিদকে আসামিপক্ষের জেরা শেষ হলে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুদকের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল।

এই দুই দুর্নীতি মামলায় নানা কারণ দেখিয়ে শুনানির জন্য নির্ধারিত ৬৬ কার্যদিবসের মধ্যে ৫৮ কার্যদিবসই অনুপস্থিত থেকেছেন খালেদা জিয়া, হাজির হয়েছেন মাত্র ৮ দিন। দীর্ঘদিন ধরে শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াসহ অপর দুই আসামি মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করেছিলেন আদালত। ৪ মার্চও এ গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল রাখেন আদালত। পরে গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে প্রতি ধার্য্য তারিখে আদালতে উপস্থিত থাকার নিশ্চয়তা দিয়ে গত ৫ এপ্রিল আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন খালেদা জিয়াসহ ওই তিন আসামি।

চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ॥ ২০১১ সালের ৮ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ চার জনের বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। তেজগাঁও থানার এ মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাত করার অভিযোগ আনা হয় আসামিদের বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলার অপর আসামিরা হলেন খালেদার সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, হারিছের তখনকার সহকারী একান্ত সচিব ও বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক জিয়াউল ইসলাম মুন্না এবং ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার একান্ত সচিব মনিরুল ইসলাম খান। এদের মধ্যে হারিছ চৌধুরী মামলার শুরু হতেই পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও রয়েছে। খালেদাসহ বাকি দুই আসামি জামিনে রয়েছেন।

অরফানেজ ট্রাস্ট ॥ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় অন্য মামলাটি দায়ের করে। এতিমদের সহায়তার জন্য একটি বিদেশী ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয় এ মামলায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক হারুন উর রশিদ ২০১০ সালের ৫ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে এ মামলায় অভিযোগপত্র দেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন মাগুরার সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। তারেক রহমান উচ্চ আদালতের জামিনে গত ছয় বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন। রবিবার খালেদা জিয়ার সঙ্গে সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদও জামিন পান। বাকি দুজন পলাতক।

নির্বাচিত সংবাদ