১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বন্ধ বিদ্যুত কেন্দ্র চালু ও গ্যাস সংযোগ দাবি এফবিসিসিআইর

বন্ধ বিদ্যুত কেন্দ্র চালু ও গ্যাস সংযোগ দাবি এফবিসিসিআইর

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বিদ্যুত সঙ্কট মোকাবেলায় রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, পুরাতন ও বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারী বিদ্যুত কেন্দ্রগুলো পিপিপির আওতায় এনে পুনরায় চালু করার প্রস্তাব দিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন- দ্য ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। একই সঙ্গে শিল্পায়ন বাড়াতে ডিমান্ড নোট বিপরীতে চলতি বছরের আগস্টের মধ্যে গ্যাস সংযোগ দেয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে ‘বর্তমান শিল্পায়নে সম্ভাবনা ও বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব দাবি ও প্রস্তাব করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন, এ কে আজাদ, বর্তমান সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে মাতলুব বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমমূল্য, শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রভৃতি কারণে বাংলাদেশ শিল্পায়নের একটি অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ভূকৌশলগত দিক থেকে একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের সমন্বয়ে বিসিআইএম-ইসি একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর মাধ্যমে এ অঞ্চল আঞ্চলিক উৎপাদন-যোগযোগ-বিতরণ নেটওয়ার্কের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। এছাড়াও আশিয়ানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বাংলাদেশের আঞ্চলিক বৈদেশিক বাণিজ্য উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। রফতানি ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এসব সুযোগ আমাদের কাজে লাগানো প্রয়োজন। মাতলুব আহমাদ আরও বলেন, বিশ্ব মন্দার মধ্যেও ধারাবাহিক ৬ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক রেটিংয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশে বিনিয়োগের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। তবে অবকাঠামো, গ্যাস ও বিদ্যুতের অভাবে এ বিপুল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি। মাতলুব বলেন, শিল্পায়নের স্বার্থে বিনিয়োগ উৎসাহ ও চলমান উৎপাদন প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুত সরবরাহের কোন বিকল্প নেই। এ জন্য তিনটি প্রস্তাব সরকারকে বিশেষ বিবেচনায় নেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। প্রস্তাবগুলো হলো- যে সকল ইন্ডাস্ট্রির অনুকূলে চাহিদাপত্র জারি করা হয়েছে সে সকল ইন্ডাস্ট্রিতে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা, স্থানান্তরিত কারখানায় পূর্বের অনুমোদন অনুযায়ী সরাসরি বিদ্যুত ও গ্যাস সংযোগ প্রদান, গ্যাস চালিত জেনারেটরের মাধ্যমে নিজস্বভাবে বিদ্যুত উৎপাদন করে পরিচালিত কারখানায় বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার আগ পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ প্রদান করা।

মাতলুব আহমাদ আরও বলেন, দেশে বিগত কয়েক বছরে বিপুল পরিমাণ টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট ইন্ডাস্ট্রিসহ বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে যেতে বিভিন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি থেকে চাহিদাপত্র ইস্যু হলেও সংযোগ দেয়নি। উৎপাদনে যেতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিষ্ঠনগুলো। ডিমান্ড নোট ইস্যুকৃত প্রতিষ্ঠানে আগস্টের মধ্যে গ্যাস সংযোগের দাবি জানান তিনি। স্থানান্তরিত কারখানায় পূর্বের অনুমোদন অনুযায়ী সরাসরি বিদ্যুত ও গ্যাস সংযোগ প্রদান ও গ্যাস চালিত জেনারেটরের মাধ্যমে নিজস্বভাবে বিদ্যুত উৎপাদন করে পরিচালিত কারখানায় বিদ্যুত সংযোগ দেয়ার আগ পযন্ত নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ প্রদান করার দাবি জানান মাতলুব আহমাদ। শিল্পায়ন বাড়াতে গ্যাস সংযোগ পরে প্রশ্নের জবাবে মাতলুব বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে আমরা জানিয়েছি যে, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বিনিয়োগ করেছে তাদের আগে সংযোগ দেয়া হোক। কিন্তু নতুনভাবে গ্যাসভিত্তিক শিল্প স্থাপন করতে আমরা কাউকে উৎসাহিত করব না। এফবিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট, পুরাতন ও বন্ধ বিদ্যুত কেন্দ্রসমূহের কারণে কলকারখানায় বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছে না। বন্ধ বেশিরভাগ বিদ্যুত কেন্দ্র ডিজেলভিত্তিক। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে গেছে। সরকার নতুন দামে ডিজেল কিনে এসব বিদ্যুত কেন্দ্র চালালে বা পিপিপিতে দিলে ব্যবসায়ীরা তাতে বিনিয়োগ করতে রাজি হবে। গ্যাস সংযোগ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ বলেন, ৭০-৮০টি প্রতিষ্ঠানকে ডিমান্ড নোট ইস্যু করা হলেও মাত্র ৮-১০টি কারখানা গ্যাস সংযোগ পেয়েছে। বাকিগুলো এখনও পায়নি। আগামীতে গ্যাস নির্ভর কোন কল-কারখানা না করতে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হবে। তবে সেই পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ দিতে আবেদন জানান তিনি। ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের জন্য একটি দেশী শিল্প সহায়ক বাজেট ঘোষণা করেছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান এফবিসিসিআই সভাপতি। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে এফবিসিসিআইয়ের বেশকিছু প্রস্তাবনা ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান বণিক সমিতির প্রেসিডেন্ট। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় শিল্পের শুল্ক বৃদ্ধি করায় এসব শিল্প সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে বলে তিনি জানান। এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, আমদানিকৃত বিস্কুটের সম্পূরক শুল্ক ৬০ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ৪৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে আমদানিকৃত বিস্কুটের মূল্য কমবে কিন্তু ট্যারিফ ভ্যালু বৃদ্ধির কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিস্কুটের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে তীব্র প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে দেশীয় বিস্কুট শিল্পের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। আমদানি বিকল্প হিসেবে দেশীয় বিস্কুট শিল্প রক্ষার স্বার্থে ট্যারিফ ভ্যালু পূর্বের ন্যায় বহাল থাকা অধিকতর যুক্তিযুক্ত বলে মনে করে ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য যে সব ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা রয়েছে স্থানীয় শিল্পের স্বার্থে সেগুলো নিরসন করা প্রয়োজন বলে মত দেন মাতলুব আহমেদ।