২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডাঃ জাফরুল্লাহ আরও দু’সপ্তাহ সময় পেয়েছেন

  • যুদ্ধাপরাধী বিচার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের ‘মানসিক অসুস্থ’ বলায় আদালত অবমাননার অভিযোগে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানাতে আরও দুই সপ্তাহ সময় পেয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী। জাফরুল্লাহর ব্যাখ্যা শোনার জন্য আগামী ৫ আগস্ট নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও তিনটি মামলায় ট্রাইব্যুনাল পৃথকভাবে দিন নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে মহেশখালীর ১৯ রাজাকারের বিরুদ্ধে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আরও এক মাস সময় দেয়া হয়েছে। পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ আগস্ট। হবিগঞ্জের দুই সহোদর রাজাকার কমান্ডার মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও মজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়ার ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ আগস্ট। জামালপুরের আটজনের মধ্যে পলাতক ছয়জনকে আত্মসমর্পণের জন্য সাত দিনের মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ আগস্ট। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বুধবার এ আদেশগুলো প্রদান করেছেন। ট্রাইব্যুনালে অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মোঃ শাহিনুল ইসলাম।

ডাঃ জাফরুল্লার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তার জবাব দেয়ার জন্য সময় পেয়েছেন। পরবর্তী দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ আগস্ট। তার পক্ষে মামলা লড়ার জন্য বুধবার ওকালতনামা দাখিল করে সিনিয়র আইনজীবী আব্দল বাসেদ মজুমদার। তিনি শুনানির প্রস্তুতির জন্য সময়ের আবেদন করলে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ তা মঞ্জুর করেন। ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘অবমাননাকর’ বিবৃতি দেয়ায় গত ১০ জুন জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে সাজা দেয় আদালত।

মহেশখালীর ১৯ রাজাকার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মহেশখালীর ১৯ রাজাকারের বিরুদ্ধে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য আরও এক মাস সময় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। মামলার সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটর দুই মাসের সময় প্রার্থনা করলে ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন ২৩ আগস্ট। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। এ সময় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত।

১৯ জনের মধ্যে ৬ রাজাকারকে গ্রেফতার করা হয়েছেন, তারা হলেন সালামত খান উল্লাহ খান ওরফে আঞ্জুবর ওরফে ‘পঁচাইয়া রাজাকার, মোহাম্মদ রশিদ মিয়া, জিন্নাত আলী, মৌলভী ওসমান গণি, নুরুল ইসলাম ও বাদশা মিয়া। এদের আবার অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২৬ জুলাই সেফ হোমে নেয়া হবে। একই মামলায় অভিযুক্ত ৭৫ জনের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল-২ এর নির্দেশে গত ২৪ মে আটক হওয়া চারজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন জিন্নাত আলী, মৌলভী ওসমান গণি, নুরুল ইসলাম, বাদশা মিয়া ও শামসুজ্জোহা। পরে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করলেও গ্রেফতার করা হয় মোট সাতজন আসামিকে। অপর দুজন হলেনÑ সালামত খান উল্লাহ খান ওরফে আঞ্জুবর ওরফে পঁচাইয়া রাজাকার এবং মোহাম্মদ রশিদ মিয়া।

রানা দাশ গুপ্ত বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম অভিযুক্ত মোহাম্মদ রশিদ মিয়া ও সালামত উল্লাহ খানের মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত আরও ৭৫ জনের নাম পায়। তবে এদের মধ্যে ৩২ জন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। তাদের মধ্যে ৩২ জন মারা যাওয়ায় এ মামলায় আসামি করা হতে পারে ৪৩ জনকে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মধ্যে আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তবে উক্ত ৭ জনের মধ্যে মোঃ সামসুদ্দোহা মৃত্যুবরণ করেছেন। আরও ৬ জন এখন কারাগারে রয়েছেন।

হবিগঞ্জের তিন রাজাকার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে হবিগঞ্জের দুই সহোদর রাজাকার কমান্ডার মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া ও মজিবুর রহমান ওরফে আঙ্গুর মিয়ার ও আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ আগস্ট। চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান শাহীনের নেতৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে আসামি পক্ষে সরকারী আইনজীবী হিসেবে মাসুদ রানাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন রেজিয়া সুলতানা বেগম চমন।

এই তিন রাজাকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় তদন্ত করে হত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণ ও বিতাড়নসহ মোট ৫টি অভিযোগ আনা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ২টি হত্যা, ১টি ধর্ষণ, ১টি অপহরণ, আটক, ও ১টি অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর।

জামালপুরের ৬ রাজাকার ॥ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের আটজনের মধ্যে পলাতক ছয়জনকে আত্মসমর্পণের জন্য সাত দিনের মধ্যে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একটি মামলার আট আসামির মধ্যে পলাতক ওই ছয়জন হলেনÑ আলবদর বাহিনীর উদ্যোক্তা মোঃ আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মোঃ আব্দুল হান্নান, মোঃ আব্দুল বারী, মোঃ হারুন ও মোঃ আবুল কাসেম। অন্য দু’জন এ্যাডভোকেট শামসুল আলম ওরফে বদর ভাই এবং এসএম ইউসুফ আলী গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

বুধবার এ আদেশ দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল। এর আগেও গত ৬ মে ওই ছয়জন আইনের দৃষ্টিতে পলাতক কিনা সে বিষয়ে জানাতে এবং তাদের আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের জন্য প্রসিকিউশনকে আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলেও তারা আত্মসমর্পণ করেননি বা গ্রেফতার হননি। এদিকে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে আইজিপির দেয়া দ্বিতীয় প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল জানান, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। তবে গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।