১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

জয়েন্ট বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ ঢাকায়

  • ছিটমহলে জনগণনা

তাহমিন হক ববি, নীলফামারী থেকে ॥ ছিটমহলে যৌথ জনগণনার সময় ভারতের মূল ভূখ-ে যেতে যারা নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করেছিলেন, এখন তাদের অধিকাংশই সেই মত বদলাতে চান। এজন্য সময় বৃদ্ধির দাবি করা হয়েছে। এদিকে ঢাকায় আজ জয়েন্ট বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হচ্ছে। এ বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে নতুন আন্তর্জাতিক সীমান্ত চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে। এদিন বাংলাদেশ-ভারতের নতুন মানচিত্রে সীলমোহর করা হবে। ভারত ও বাংলাদেশের ১৬২ ছিটমহলের অস্তিত্ব ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দুই দেশের মূল ভূখ-ের সঙ্গে মিশে যাবে বিনিময় হওয়া পরস্পরের এলাকা। আনুষ্ঠানিকভাবে পরিসমাপ্তি ঘটবে ৬৮ বছর ধরে বঞ্চনার শিকার ছিটমহল নামের বন্দীজীবনের টুকরো টুকরো জনপদের মানুষগুলোর।

এই ১৬২ ছিটমহলের মধ্যে ভারতীয় ১১১ ছিটমহলের অবস্থান নীলফামারীতে চারটি, লালমনিরহাটে ৫৯, পঞ্চগড়ে ৩৬ ও কুড়িগ্রামে ১২টি। আর বাংলাদেশের ৫১ ছিটমহলের অবস্থান ভারতের কুচবিহারে ৪৭ ও জলপাইগুড়িতে চারটি।

মঙ্গলবার জনগণনার বাংলাদেশের ১১১ ছিটমহলের খসড়া তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ১১১ ছিটমহলের ৪১ হাজার ৪৪৯ বাসিন্দার মধ্যে ভারতে যেতে চান মাত্র ৯৭৯ জন। এর মধ্যে নীলফামারীর চার ছিটমহল থেকে কেউ ভারতে যেতে চায়নি। তবে পঞ্চগড়ের ৩৬ ছিটমহল থেকে ৪৮৩ জন, কুড়িগ্রামের ১২ ছিটমহল থেকে ৩০১ জন ও লালমনিরহাটের ৫৯ ছিটমহল থেকে ১৯৫ জন ভারতের যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেন।

এদিকে বাংলাদেশ থেকে যে ৯৭৯ জন ভারতে যেতে চান, গত সোমবার ভারতের চ্যাংরাবান্দার দু’দেশের যৌথ জরিপ দল ভারতে গমনেচ্ছুদের তালিকা তৈরি করে রাতেই সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করেছেন। এদিকে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১ ছিটমহল থেকে কেউ বাংলাদেশের ভূখ-ে আসছে না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

সূত্র মতে, ঢাকায় জয়েন্ট বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পরই ভারতের কুচবিহারে অস্থায়ী শিবির তৈরির কাজ শুরু করা হবে জোরকদমে। কারণ সেদিনই সরকারীভাবে ঘোষণা হবে, ঠিক কতজন নাগরিক ভারতে যাবেন। বাংলাদেশ থেকে যারা ভারত যাবেন, তাদের জন্য মেখলীগঞ্জ হলদিবাড়ি ও দিনহাটার পরিত্যক্ত কৃষিখামারগুলোতে অস্থায়ী শিবির করা হবে। অস্থায়ী শিবিরে প্রতিটি পরিবারের জন্য দুই শ’ স্কয়ার ফিট জায়গা বরাদ্দ থাকবে। ২০ জন নাগরিকের জন্য একটি শৌচাগার, পানি ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকবে। অস্থায়ী শিবিরে ৩০ দিন রান্না করা খাবার দেয়া হবে এবং দুই বছরের মধ্যে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এই দুই বছর প্রত্যেক পরিবার পাবেন ভারতীয় সরকারী রেশন।

নিবন্ধন পরিবর্তন দাবি ॥ যৌথ জনগণনার সময় নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়ের ৩০৯ জন ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য নিবন্ধন করেছিল, তারা পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনগণনার ফরমে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছেন। বাকি ৯৭৯ জনের মধ্যে অধিকাংশই সিদ্ধান্ত বদলের জন্য দৌড়ঝাপ করলেও ১৬ জুলাই যৌথ জনগণানর সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন চিন্তায় পড়েছেন। তারা ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বদলাতে চান। এজন্য সময় বৃদ্ধির দাবি করেছেন তারা। ৯৭৯ জনের মধ্যে মুসলিম পরিবারের ১৬৩ এবং হিন্দু পরিবারের ৮১৬ সদস্য রয়েছেন।