১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে বিএনপির উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছে তারা। দলের মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পটি ভারতের একান্ত নিজস্ব বিষয় হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন ৫৪টি নদী প্রবহমান রয়েছে। ফলে এ প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশ পানি সঙ্কটের শিকার হবে। তাই এখানে উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। সরকারের উচিত হবে ভারত সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা। এ ইস্যুতে সরকারকে সব ধরনের সাহায্য করতে বিএনপি প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের পক্ষ থেকে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রতিবেশী এই দেশটির সঙ্গে অভিন্ন নদীর হিস্যা আদায়ে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে। গত ১৩ জুলাই ভারতের সেচমন্ত্রীর বরাত দিয়ে সে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে ভারত তিনটি অভিন্ন নদীতে বাঁধ দিয়ে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে। এটি ভারতের নিজস্ব বিষয় হলেও এর প্রভাবে ব্রহ্মপুত্রসহ অনেক নদী পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন নদীগুলোতে বাংলাদেশের পানির যে ন্যায্য হিস্যা তা আদায় করা সরকারের দায়িত্ব।

ভারতের সঙ্গে আন্তঃনদী ইস্যুতে পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে বর্তমান সরকারকে ব্ল্যাঙ্ক সাপোর্ট দেয়ার বিষয় উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, সরকার যেহেতু বলতে চান, তারা আইনগতভাবে অবৈধ নন। এখন তাদেরই দায়িত্ব এই বিষয়গুলো তুলে ধরা। আমরাও বলি, সরকার যেহেতু আইনগতভাবে অবৈধ নয়, তাই তাদের এই বিষয়গুলো ভারতের কাছে তুলে ধরতে হবে। ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা জানতে সরকারকে প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের হাইকমিশনারকে ডেকে পাঠানোরও আহ্বান জানান। ইস্যুটি শুধু পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও যুক্ত করা উচিত বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সঙ্গে অভিন্ন নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প চালু করলে বর্ষা মৌসুমে এই নদীগুলোর পানির প্রবাহ তারা তাদের অন্য রাজ্যের নদীগুলোতে টেনে নিয়ে যাবে। এটি চালু হলে বাংলাদেশের পরিবেশে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে। শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। আর ভারত তাদের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে বাংলাদেশের জন্য মৃত্যুদ-ের সমতুল্য হবে। পানির ইস্যুটি শুধু চিঠি-চালাচালির বিষয় নয়, এখানে উদ্বেগের বিষয়ও রয়েছে। পানি নিয়ে বাংলাদেশের সব মানুষ একাট্টা। পানির স্বার্থে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে কোন বিভাজন নেই। পানি আমাদের প্রাণ। বিএনপির মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশকে না জানিয়ে ভারত যদি ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করে তখন সরকারের আর কিছুই করার থাকবে না। তাই অতি দ্রুত বাংলাদেশকে ভারত সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে। জরুরী ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে হবে। সরকার এই বিষয় নিয়ে জরুরী উদ্যোগ নিলে জাতীয় স্বার্থে বিএনপি সরকারকে সব ধরনের সাহায্য করতেও প্রস্তুত আছে।

আসাদুজ্জামান রিপন আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় বর্তমান সরকারের জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নেই। সরকার আইনগতভাবে বৈধ হলেও জনগণের সমস্যা নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যথা নেই। তবে বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সরকারের কোন প্রতিক্রিয়া না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। বলেন, আমাদের সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কি ঘুমায়? না হলে এ বিষয়ে তাদের কোন প্রতিক্রিয়া নেই কেন?

তিনি উল্লেখ করেন, পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট চুক্তি হতেই পারে। তবে তা হতে হবে দু’দেশের স্বার্থ রক্ষা করে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করলাম ভারতের যা পাওনা ছিল তা তারা আদায় করে নিয়েছে। ‘বিএনপি ভাঙ্গার তথ্য জানা নেই’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ড. রিপন বলেন, বিএনপি জনগণের দল। জনগণ এই দলকে টিকিয়ে রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাজী আসাদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ।

ইনু-সুরঞ্জিতের বক্তব্যের নিন্দা ছাত্রদলের ॥ জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানকে জড়িয়ে সম্প্রতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দেওয়া বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল। বুধবার এক বিবৃতিতে ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ আকরামুল হাসান এই নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে তারা জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার চেয়ে ইনুর দেয়া বক্তব্যকে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির প্রলাপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলেছেন, সরকারের কৃপাদৃষ্টি পেতে পেতে ইনু মাঝে মধ্যেই অসংলগ্ন কথাবার্তা বলে থাকেন। এই বক্তব্যও তার মধ্যে একটি। তারেক ঘরের শত্রু বিভীষণ বলে সুরঞ্জিতের দেয়া বক্তব্য সব হারানো এক ব্যক্তির দলীয় প্রধানকে তোষামোদি করার চেষ্টা। তিনি প্রলাপ বকছেন বলে উল্লেখ করেন তারা।

ছাত্রদলের দুই নেতা বলেন, সুস্থ রাজনীতির স্বার্থে সবাইকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে। না হলে সেই দিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন অল্প কিছু রাজনৈতিক নেতার জন্য জনমানুষের মনে সব রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্মাবে।