২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রোটিয়া ‘জুজু’ কাটালেন তামিম ইকবাল

প্রোটিয়া ‘জুজু’ কাটালেন তামিম ইকবাল
  • শুধু অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অর্ধশতক হাঁকানো বাকি তামিমের, রানে ফিরলেন মাহমুদুল্লাহও

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে ॥ ‘মিস্টার ফিফটি’ টেস্ট ক্রিকেটে অনেক কিছুই করে গেছেন বাংলাদেশের জন্য। বর্তমানে দল গঠনের দায়িত্বভার নিয়ে কাজ করছেন কিন্তু বারেবারেই ফিরে আসছে তার নামটা। একমাত্র বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে হাবিবুল বাশার সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। সবমিলিয়ে ২৪ অর্ধশতক হাঁকিয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সর্বাধিক অর্ধশতকের মালিক তিনি। ৯ টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষেই ফিফটি আছে তার। এখন পর্যন্ত যেটা ছুঁতে পারেননি কেউ। টেস্ট ক্রিকেটে দেশের হয়ে সর্বাধিক রানের এ মালিক এখন অবশ্য তামিম ইকবালের পেছনে পড়ে গেছেন। এবার সব দেশের বিপক্ষে অর্ধশতক হাঁকানোর একক কৃতিত্বেও ভাগ বসাতে এগিয়ে আসছেন তামিম। মঙ্গলবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অর্ধশতক হাঁকিয়ে যে আট দেশের বিপক্ষে টেস্ট খেলেছেন সবার বিপক্ষেই অর্ধশতক করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪ টেস্ট খেললেও কোন অর্ধশতক করতে পারেননি। তবে চলমান প্রথম টেস্টে তিনি ৫৭ রানের একটি ধীরলয়ের ইনিংস খেলে সেই খরা কাটালেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখনও কোন টেস্ট খেলেননি তিনি। এবার অপেক্ষা তাদের বিপক্ষেও শতক হাঁকানোর। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে ৮৯ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে দেশের পক্ষে সর্বাধিক রানের জুটি গড়েন তিনি। যে কোন উইকেটে এটি আবার প্রোটিয়াদের বিপক্ষে দ্বিতীয় সেরা জুটি বাংলাদেশের।

ইনজুরি এবং এক টেস্টে না খেলাটা হয় তো ভালই হয়েছে। কারণ টানা ৬ ইনিংসে চল্লিশের কোটা পেরোতে পারেননি। ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে নামার আগেই আঙ্গুলের ইনজুরিতে ছিটকে যান দল থেকে। অথচ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ব্যাটিংশৈলী দেখিয়ে বিশ্বে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিলেন। ধারাবাহিকভাবেই তার ব্যাট হাসছিল ওয়ানডেতে। কিন্তু সর্বশেষ ৬ টেস্ট ইনিংসে ওয়ানডের ঠিক বিপরীত চরিত্রে দেখা গেছে মাহমুদুল্লাহকে। তিনি এ ৬ ইনিংসে করতে পেরেছিলেন ১৬, ৩০, ৪৯, ৪০, ২৮ ও ২ রান। তবে প্রয়োজনীয় সময়ে ঠিকই ব্যাট হাতে আবার রানে ফিরলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাগরিকা টেস্ট দিয়ে দলে ফিরেছিলেন। প্রথম ইনিংসেই নির্ভরযোগ্য এ ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে একটি অর্ধশতক পেয়ে গেল বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি। ১৩৮ বলে ১০ চারে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হওয়া প্রথম ইনিংসের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলে করেছেন ৬৭। ভারনন ফিল্যান্ডারের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ওপেনার তামিম ইকবালের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ৮৯ রানের জুটি গড়ে দলকে বাঁচিয়েছেন বিপদে পড়ার হাত থেকে। এটি ছিল প্রোটিয়াদের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেরা জুটি ছিল ৬৬ রানের। সেটা ইস্ট লন্ডনে ২০০২ সালের অক্টোবরে হাবিবুল ও সানোয়ার হোসেন করেছিলেন। এছাড়া যে কোন উইকেটে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা জুটি। চট্টগ্রামেই ২০০৩ সালে দ্বিতীয় উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়েছিলেন জাভেদ ওমর ও হাবিবুল।

হাবিবুল ফিরে আসেন বার বার। কারণ তামিম তার পিছু নিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে ৯ রানের একটি ইনিংস খেলে তিনি দেশের পক্ষে সর্বাধিক টেস্ট রানের মালিকানা কেড়ে নেন হাবিবুলের কাছ থেকে। এখানেই থেমে থাকেননি তামিম। এবার সর্বাধিক অর্ধশতাধিক রানের ইনিংস এবং সব দেশের বিপক্ষে ফিফটি হাঁকানোর অনন্য কীর্তিটাতেও ভাগ বসাতে এগিয়ে আসছেন তিনি। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢিমেতালের ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখিয়েছেন এদিন মূলত মারকুটে চেহারায় পরিচিত এ চট্টলার ‘লোকাল হিরো’। এর পেছনে কারণ হয় তো দুটি-এক নম্বরে রাখতে হবে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের মঙ্গলবারের কন্ডিশন এবং আগের দিন বাংলাদেশী বোলিংয়ে দুমড়ে যেতে দেখা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস। দুই, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আগের ৪ টেস্টেই চরমভাবে ব্যর্থ ছিলেন তামিম। তাদের বিপক্ষে আগের খেলা চার টেস্টের কোনটাতেই অর্ধশতক দূরে থাক ১০৩ রান করতে পেরেছিলেন তিনি!

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ব্যাটিং ব্যর্থতাটাও একটা ‘জুজু’ হয়ে উঠেছিল তামিমের জন্য। এ দুটি কারণেই সুস্থির হয়ে খেলেছেন তিনি। সবমিলিয়ে ১২৯ বল খেলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেই সাজঘরে ফিরলেন। তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন এ রান করার জন্য। এই প্রথম প্রোটিয়াদের বিপক্ষে অর্ধশতক হাঁকালেন তিনি। ক্যারিয়ারে ১৮ অর্ধশতক হাঁকিয়ে এখন বাংলাদেশের পক্ষে সর্বাধিক ফিফটি হাঁকানোর তালিকায় হাবিবুল (২৪) ও সাকিব আল হাসানের (১৯) পরেই অবস্থান তামিমের। দ্বিতীয় ইনিংসে অর্ধশতক পেলেই সাকিবকে ছাড়িয়ে হাবিবুলের আরও নিকটবর্তী হবেন তিনি। তবে পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস (ফিফটি+সেঞ্চুরি) করার দিক থেকে হাবিবুলের পরেই এ বাঁহাতি ওপেনার। হাবিবুল ক্যারিয়ারে ২৭ পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলেছেন, এখন তামিমের আছে ২৫ (১৮ ফিফটি, ৭ সেঞ্চুরি)। সাকিবের আছে ২২ পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস। একমাত্র বাংলাদেশী হিসেবে ৯ টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষেই ফিফটি হাঁকিয়েছেন হাবিবুল। ৮ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সেটা করে দেখালেন তামিমও। এখন শুধু বাকি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হাফসেঞ্চুরি হাঁকানো। তামিমের করা কীর্তিই বাংলাদেশের আর কোন ব্যাটসম্যান করতে পারেননি। সুতরাং এক্ষেত্রে হাবিবুলের পরেই তামিম এবং আগামী অক্টোবরে প্রস্তাবিত অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজে একটি অর্ধশতক হলেই হাবিবুলের কীর্তিতে ভাগ বসাবেন তিনি।