১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাঙালী বিজ্ঞানীর সাফল্য

বিশ্বের পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নতুন এক সংযোজন ঘটল। আর এই কৃতিত্বের অধিকারী একজন বাঙালী। তিনি জাহিদ হাসান। পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে সত্যেন বোসের পর যুক্ত হলো তাঁর নাম। তাঁর কৃতিত্ব পদার্থের এক বিশেষ কণার সন্ধান লাভ করেছেন দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর। এ কৃতিত্ব সারাবিশ্বে আলোড়ন তুলেছে, খুলে দিয়েছে এ যুগের ইলেকট্রনিক সামগ্রীর অগ্রগতির ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত। তাঁর এ কৃতিত্বকে আমরা অভিনন্দন জানাই।

জাহিদ হাসান যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পদার্থবিজ্ঞানী। তাঁর নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী পদার্থবিজ্ঞানের একটি কণা ভাইল ফার্মিয়নের অস্তিত্ব প্রমাণ করেছেন সম্প্রতি। এ বিষয়ে খ্যাতিমান বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সায়েন্স’-এ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারটি বিস্তারিত প্রকাশিত হয়েছে। এ কণার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮৫ বছর। এর আগে ১৯২৯ সালে বিজ্ঞানী হারম্যান ভাইল এই কণার অস্তিত্বের কথা জানিয়েছিলেন। সেটা পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করতে এতটা বছর অপেক্ষা করতে হলো। আর এর গর্বিত বিজ্ঞানী হলেন এ দেশেরই এক কৃতী সন্তান। যিনি এখন বাংলাদেশের গর্বের ধন। অবশ্য এই পদার্থবিজ্ঞানেরই একটি কণার কথা ৯১ বছর আগে জানিয়েছিলেন আরেক বাঙালী বিজ্ঞানী সত্যেন বোস। তাঁর আবিষ্কৃত পদার্থের সেই কণা এখনও ‘বোসন কণা’ নামেই অভিহিত, যা পদার্থবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ঘটনা। পদার্থবিজ্ঞানের ইতিহাসে দুটি ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট এই দুই বিজ্ঞানী অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন যুগ যুগ ধরে। জাহিদ হাসানের এই অবদান বিজ্ঞানে নোবেল জয়ীদের চেয়ে কম নয়।

জাহিদ হাসানের অবিষ্কারের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক সামগ্রী যেমনÑ কম্পিউটার, মোবাইল ফোনের গতি বাড়বে, শক্তি ক্ষয়ও হবে কম। নিঃসন্দেহে বলা যায়, এটা তথ্যপ্রযুক্তির ওপর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুত গতিতে সম্পন্ন করবে মানুষের ইলেকট্রনিক চাহিদা। মানব কল্যাণে ব্যয় হবে জাহিদের মেধা ও শ্রমের ফসল। তাঁর সাফল্যের খবর এখানেই শেষ নয়; গত বছর টপোলজিক্যাল ইনসুলেটর নামে বিশেষ ধরনের পদার্থ আবিষ্কার করে বিশ্বে আলোচিত হন। তাঁকে নিয়ে গর্ব করার আরেকটি বিষয় হলোÑ বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রিন্সটনে তিনি শিক্ষকতা করছেন। তাঁর নেতৃত্বে একদল বিজ্ঞানী পদার্থের সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে গবেষণা করছেন।

বাঙালীর গর্বের তালিকা বেশ দীর্ঘ। প্রায়ই এ দেশের কিছু কৃতী সন্তান মাঝে মধ্যেই বহির্বিশ্বে চমক সৃষ্টি করেন ইতিবাচক অবদানের মাধ্যমে। আলোকিত করে তোলেন বাংলাদেশের মুখ। তবে আফসোসের সঙ্গে বলতে হয়Ñ এসব কৃতী মুখ কেন দেশেই তাদের মেধার সাক্ষর রাখতে পারছেন না? তারা কি অনুকূল পরিবেশ পাচ্ছেন নাÑ নাকি মেধা পাচারের শিকার হচ্ছেন? এ ক্ষেত্রে স্মরণ করা যেতে পারে নিকট অতীতের পাটের জিনম আবিষ্কারক মাকসুদুল আলমের প্রসঙ্গ। পাটের দেশ বলে খ্যাত এ দেশের এক সময়ের গৌরব, প্রধান অর্থকরী ফসল পাটের জিনম আবিষ্কার করতে হয়েছে ভিনদেশে বসে!

এ দেশে প্রতিভাবান মানুষের অভাব যে নেই তার প্রমাণ জাহিদ হাসান। প্রতিভার বিকাশ ও মেধার লালন-পালন তথা পৃষ্ঠপোষকতা একান্তভাবে আবশ্যক। সরকারী আনুকূল্য তো অবশ্যই দরকার, পাশাপাশি বেসরকারী উদ্যোগও নিশ্চিত করা জরুরী। তা না হলে এক সময় মেধা শূন্যের বদনাম লাগতে পারে এ দেশের ললাটে।

নির্বাচিত সংবাদ