১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ছাত্র রাজনীতি নিয়ে কিছু ভাবনা

  • স্বদেশ রায়

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতির ওপর নানান আঘাত এসেছে নানান সময়ে। বেশি আঘাত করেছে কোন না কোন স্বৈরশাসক। সিভিল শাসকের পক্ষ থেকে এবং সামাজিকভাবে প্রথম আঘাত করেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দিন। আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী সংগ্রামী রাজনৈতিক দল দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দেশের সর্বোচ্চ আসন থেকে তিনি বলেন- ‘ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেয়া উচিত।’ তিনি ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে নানান যুক্তি দেন।

বিচারপতি সাহাবুদ্দিন যখন এ কথা বলেছিলেন, তখন দেশের মানুষের সামনে তার একটি মিথ্যে ভাবমূর্তি ছিল। যারা তার আসল রূপ জানতেন না তারা তাকে ঈশ্বর মনে করতেন। তাই বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের মুখ দিয়ে এ কথা বের হবার পরে আমাদের তথাকথিত সুশীল সমাজ পোঁ ধরে ওঠে একই স্বরে। দেশের মানুষও বিভ্রান্ত হয়। কারণ দেশের খুব কম মানুষই তখন জানতেন, বিচারপতি সাহাবুদ্দিন মূলত সামরিক সরকারের এজেন্ট। তিনি প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন, এমনকি তত্ত্বাবধায়ক প্রধান হয়েছিলেন সামরিক সরকারের কূটকৌশলে। যাহোক, সে আরেক ইতিহাস।

বিচারপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হিসেবে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করে দেবার আহ্বান জানালে, সত্যি অর্থে একমাত্র প্রতিবাদ করেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল। আব্দুল জলিল জানিয়ে দেন, তিনি অরাজনৈতিক ব্যক্তি, তার রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য না করা উচিত। অন্যদিকে নিজের কথা বলতে হয়, সেদিন সাংবাদিক বা লেখক হিসেবে বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের ওই ঈশ্বরসম ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে লিখেছিলাম, রাজনীতিতে তিনি শিশু, তাই কোন শিশুর পক্ষে বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী ছাত্র রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। মাথাব্যথা হয়েছে বলে কোন শিক্ষিত চিকিৎসক মাথা কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত দেবেন না। বড়জোর প্রয়োজন ছাত্র রাজনীতির চরিত্র পরিবর্তনের।

বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের ওই কথার প্রতিবাদ আব্দুল জলিলের মতো বড় নেতা করলেও আমাদের সুশীল সমাজে বিচারপতি সাহাবুদ্দিনের ভাবমূর্তি অনেক বড় তখন। তাই ছাত্র রাজনীতি নিয়ে একের পর এক নেতিবাচক দিক আসতে শুরু করে। অন্যদিকে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয় সন্ত্রাসী জঙ্গী সংগঠন ও সামরিক সরকার সৃষ্ট গু-াপা-াদের সংগঠনগুলোকে। যেমন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত জঙ্গী সংগঠন ছাত্রশিবির প্রবেশ করার চেষ্টা করছে বা হল দখল করেছে, এমত অবস্থায় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব যে কোন মূল্যে তাদের বিতাড়ন করা। কারণ, ছাত্ররা যদি না বোঝে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গী অবস্থান নিলে দেশের ভবিষ্যত কোথায় যাবে, তাহলে কারা বুঝবে? কিন্তু এ দেশের দুর্ভাগ্য হলো, শিবিরের ওপর যদি ছাত্রলীগ আক্রমণ করে তখন কী সুশীল সমাজ, কী মিডিয়া সবাই মিলে ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী বানানোর চেষ্টা করা হয়। বলা হয় না, শিবির একটি জঙ্গী সংগঠন, নরহত্যাকারী সংগঠন- আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার। আর এভাবেই সুশীল সমাজের দ্বারা, মিডিয়ার দ্বারা আমাদের ছাত্র সংগঠনগুলোর ভাবমূর্তি অনেকখানি নষ্ট হয়েছে।

তবে শুধু সুশীল সমাজ ও মিডিয়াকে দোষারোপ করলে ভুল হবে, রাজনৈতিক দলগুলোও তাদের ছাত্র সংগঠন সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি গত কয়েক দশক ধরে। পরিবর্তিত বিশ্বে ছাত্র সংগঠনগুলোর জন্যে তারা নতুন কোন আদর্শ তুলে দিতে পারেনি। যেমন ষাটের দশক থেকে শুরু করে আশির দশক অবধি এ দেশে বাম ছাত্র সংগঠনগুলো বেশ বড় অবস্থানে ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও চীনের অর্থনৈতিক নীতি পরিবর্তনের পর এই বাম ছাত্র সংগঠনগুলো দিশেহারা হয়ে গেছে। তাদের আকার অত্যন্ত ছোট হয়ে গেছে। এর কারণ দুটি, এক. এই ছাত্র সংগঠনগুলো পরিচালনায় একটি বিদেশী অর্থের জোগান ছিল, ওই জোগান বন্ধ হয়ে গেছে। দুই. এ ছাত্র সংগঠনগুলোর জন্যে তাদের নেতারা বা তাদের মূল সংগঠন কোন আদর্শ দিতে পারেনি। এমনকি জোর করে বলতেও পারেনি, ভবিষ্যতে কোন্্ ফর্মে সমাজতন্ত্র আসবে এবং সে লক্ষ্যে কী করতে হবে। বরং তাদের নেতারা যা করেছিল তা লজ্জাকর। যেমন সোভিয়েতপন্থী ছাত্র ইউনিয়ন অনেক বড় ছাত্র সংগঠন ছিল। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অঙ্গ সংগঠন এটা। সোভিয়েতের পতনের পর তাদের মূল দলের নেতারা অর্থাৎ কমিউনিস্ট পার্টির বড় বড় নেতা যেমন সাইফুদ্দিন মানিক, শামসুজ্জোহা, নুরুল ইসলাম নাহিদ, নুহ আলম লেনিন- এরা সবাই ড. ইউনূসের স্বপ্নের রাজনৈতিক দল ড. কামালের গণফোরামে যোগ দেন। অর্থাৎ একেবারে ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেলেন এঁরা। এম আর আখতার মুকুলের ভাষায় বলতে হয়, ড. ইউনূস, ড. কামাল- এদের রুট কিন্তু ঢাকা-ইসলামাবাদ-ওয়াশিংটন। অর্থাৎ পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে এদের এক চুল নড়ার ক্ষমতা নেই। তাই নেতারা যখন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে একেবারে পাকিস্তান হয়ে ওয়াশিংটন পথে যাত্রা করেন তখন ছাত্র সংগঠনের অবস্থা কী হতে পারে তা সহজে বোঝা যায়। কমিউনিস্ট নেতাদের এই চারিত্রিক পতনের ফলে বিশাল বটবৃক্ষসম ছাত্র ইউনিয়ন একটি বনসাইতে পরিণত হয়েছে।

ছাত্র ইউনিয়ন বনসাইতে পরিণত হবার জন্যে বর্তমান ছাত্র ইউনিয়ন যারা করছে সে সব ছাত্রকে দোষ দেবার কোন যুক্তি নেই। কারণ একটি গাছের মত একটি ছাত্র সংগঠনেরও বড় হওয়া নির্ভর করে তার শিকড়ে কতটা পানি দেয়া হচ্ছে তার ওপর। ছাত্র সংগঠনের এই পানি তার আদর্শ। যদি কোন ছাত্র সংগঠন এমন কোন আদর্শ সাধারণ ছাত্রদের সামনে তুলে ধরতে পারে যা সত্যি আগামী দিনের জন্যে, দেশের মানুষের জন্যে সর্বোপরি ছাত্র সমাজের জন্যে কল্যাণকর তাহলে ওই ছাত্র সংগঠন অবশ্যই বেড়ে ওঠে। তবে সকল আদর্শকেই যুগোপযোগী হতে হবে। যেমন রবীন্দ্রনাথের আমরা বেশি কিছুই গ্রহণ করি, আমরা অরণ্য রক্ষা করার পক্ষে কিন্তু তারপরেও এ নগরকে ফিরিয়ে দিয়ে অরণ্যকে আমরা চাই না। নগরে বাস করে মাঝে মাঝে অরণ্যের পাশে যেতে চাই আমরা। অর্থাৎ নগর ও অরণ্যের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন। বর্তমান সময়ে সব ধরনের আদর্শকে এমনিভাবে সময়ের সঙ্গে মেলাতে হবে। অন্যথায় তা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না।

ছাত্র ইউনিয়ন ছাড়া অন্য বাম ছাত্র সংগঠনগুলো আরও ক্ষীণকায় হয়ে গেছে। সত্যি অর্থে এখন সামরিক শাসকের ও জঙ্গী সংগঠনের সহযোগী বা অঙ্গ সংগঠন নয় এমন একটি মাত্র ছাত্র সংগঠনই বড় ছাত্র সংগঠন হিসেবে টিকে আছে। এই ছাত্র সংগঠন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। কেউ কেউ মনে করতে পারেন, এই ছাত্র সংগঠনটির মূল রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আছে বলেই এর আকার এত বড়। বাস্তবে বিচার করলে এ কথা আংশিক সত্য, সম্পূর্ণ সত্য নয়। কারণ, শুধু রাষ্ট্র ক্ষমতার জোরে কখনই একটি ছাত্র সংগঠনকে টিকিয়ে রাখা যায় না। বরং একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী টিকিয়ে রাখা যায়। কেউ যদি বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে শুধুমাত্র সুবিধাবাদীদের গোষ্ঠী বলেন তাহলে ভুল করবেন। কারণ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীতে অনেক কিছুই যখন আকণ্ঠ নিমজ্জিত সে সময়েও ছাত্রলীগে আদর্শের জন্যে অনেক ছেলেমেয়ে আছে। শুধু একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়, ৫ মে হেফাজত যখন গণজাগরণ মঞ্চ আক্রমণ করতে আসে ওই সময়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভিতর দিয়ে ছাত্রলীগের যে তরুণ-তরুণীরা পিছন দিক থেকে গিয়ে হেফাজতী জঙ্গীদের আক্রমণ করে- তারা নিশ্চয়ই কোন টাকার জন্যে, চাঁদার জন্যে এ কাজ করেনি। আদর্শের জন্যেই তারা এ কাজ করেছিল।

এখন অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন, বর্তমানের এই পরিবর্তিত বিশ্বে ছাত্রলীগের আদর্শ কী? ছাত্রলীগের আদর্শ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। প্রশ্ন উঠতে পারে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এখনও কি সময়োপযোগী! এখানেই কিন্তু রবীন্দ্রনাথ, রাসেল, নেহরু, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য। সমকালীনের সঙ্গে একটি চিরকালীন থাকে, রবীন্দ্রনাথ থেকে বঙ্গবন্ধু এই ধারা সেই চিরকালীনের আদর্শ রেখে গেছেন। যা অনেক সময় বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বলতেন, আমার আদর্শ: লেফট-রাইট-ফরোয়ার্ড। অর্থাৎ সামনে এগিয়ে চলা। মানব প্রগতি এগিয়ে চলে। এই এগিয়ে চলার সঙ্গে তাল মিলিয়ে, তার সুন্দরটুকু গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়াই প্রগতিশীলতা। বঙ্গবন্ধু সে আদর্শই রেখে গেছেন। আরেকটু বিস্তারিত করে বলা যায়, যে কোন ভূখ-ের মানুষকে এগিয়ে যেতে হয় তার নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর পা রেখে। সংস্কৃতি শব্দটি কালচারের বাংলা রূপ। রবীন্দ্রনাথ অনেকটা শব্দের সৌন্দর্যের কারণে এই বাংলা রূপের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির সপক্ষে ছিলেন- কিন্তু সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় কালচারের বাংলা কৃষ্টি করার পক্ষে ছিলেন। তার যুক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল সংস্কৃতি শুধু সুকুমার বৃত্তিগুলোর ভিতর সীমাবদ্ধ নয়, একটি জাতির অর্থনৈতিক পথ চলা, তার ফসল উৎপাদন সবই পড়ে সংস্কৃতির ভিতর। তাই একে কৃষ্টি বললে সার্বিকভাবে বিষয়টি আসে। রবীন্দ্রনাথের মত ছিল, কৃষ্টি শুনতে ঠিক ভাল লাগে না, সবই আস্তে আস্তে সংস্কৃতির ভিতরই এসে যাবে।

যাহোক, যে কোন জাতি বা নরগোষ্ঠীর সুকুমার দিক ও তার অর্থনীতি সবই কিন্তু তার নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী প্রবাহিত হয়, এখানে অন্যের থেকে গ্রহণ করার সুযোগ থাকে তবে তা নিজের সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে। হুবহু অনুকরণ নয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ- আমি আগে বাঙালী। আমার বেড়ে ওঠা বাঙালী সংস্কৃতিকে ধারণ করে। বাঙালীর তার নিজের মতোই গান হবে, নিজের মতোই নাচ হবে এমনকি তার অর্থনীতিটাও হবে নিজের মতো করেই। এই যে নিজেকে চিনে নিজের মতো করে বেড়ে ওঠা আর সেই বেড়ে ওঠার জন্যে যুদ্ধ করা এটাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। আর এটাই ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা। এই আদর্শের ওপর ভিত্তি করে যারা বেড়ে ওঠে তারাই দুর্দিনে ছাত্রলীগে ও আওয়ামী লীগে থাকে। সুদিনে অনেক মৌমাছিকে দেখা যায়। আর বঙ্গবন্ধুর ওই আদর্শ আছে বলেই এখনও ছাত্রলীগ অনেক বড় ছাত্র সংগঠন। সত্যি অর্থে দেশজ সিভিল শক্তিকে ধারণ করে এমন বড় ছাত্র সংগঠন বলতে এখন একমাত্র ছাত্রলীগই।

বাংলাদেশ এ মুহূর্তে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশ এখন নিম্ন মধ্য আয়ের দেশ। অর্থনীতি যেভাবে এগিয়ে চলেছে তাতে বাংলাদেশ আগামী দুই থেকে তিন বছরের ভিতর মধ্য আয়ের দেশ হবে। বাংলাদেশ যে সময়ে মধ্য আয়ের দেশ হতে চলেছে সে সময়ে বাংলাদেশে আরেকটি পরিবর্তন ঘটছে। এ পরিবর্তন হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ও মুক্তিযুদ্ধে যারা জড়িত ছিলেন তারা প্রায় সকলে সত্তর পেরিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ৫ কোটি মানুষ ২২ থেকে চল্লিশের ভিতর। আর ১২ থেকে ২২ প্রায় আর পাঁচ কোটি। তাই বাংলাদেশ যখন মধ্য আয়ের দেশ হবে সে সময়ে রাষ্ট্র ও সমাজের সবখানে কিন্তু চালকের আসনে, নেতৃত্বের আসনে থাকবে স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজম্ম। এ প্রজন্মের জন্যে যেমন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন তার রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ। ছাত্র রাজনীতিকে যারা বন্ধ করার পক্ষে কথা বলেন তা সেই বিচারপতি সাহাবুদ্দিন হন আর কোন বড় রাজনীতিক হন তারা কিন্তু মূলত রাষ্ট্রকে বিরাজনীতিকরণ করার পক্ষে সূক্ষ্মভাবে কাজ করেন। কোন রাষ্ট্র বিরাজনীতিকরণ হওয়া মানেই ওই রাষ্ট্রের সকল প্রগতি থেমে যাওয়া। মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্র রাজনীতিরই ফসল।

এ কারণে ভবিষ্যতে যারা দেশের ও রাজনীতির নেতৃত্ব দেবেন তাদেরকে অবশ্যই ছাত্র রাজনীতির ভিতর দিয়ে প্রশিক্ষিত হতে হবে। এক সময়ে এ প্রশিক্ষণ ছিল একটি দেশ স্বাধীন করার প্রশিক্ষণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশিক্ষণ। এখন হবে দেশ পরিচালনার প্রশিক্ষণ। তাই ছাত্র রাজনীতির কর্মকা- এখন বদলাতে হবে। এখানে আন্দোলনের বদলে, মিছিলের বদলে উচ্চ শিক্ষা, উচ্চ আচরণই প্রধান হয়ে দাঁড়াবে। আর সে শিক্ষা ও আচরণ হতে হবে জাতীয় সংস্কৃতিভিত্তিক। দেশের একমাত্র বড় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিয়ে এখন শেখ হাসিনাকে এই সত্য চিন্তা করতে হবে। নির্মম সত্য হলো, কাজটি তাঁর নিজের হাতেই করতে হবে। অতীতে যার হাতেই তিনি এ কাজ দিয়েছেন সেখানেই দুর্নীতি ও অর্থ খেলা করেছে। এ কারণে এ গুরুভার জাতির জন্যে তাকেই বহন করতে হবে। যদিও তাঁকে এত ভার বহন করার কথা বলতে কষ্ট লাগে, চোখ ফেটে জল আসে- তার পরেও কবি শামসুর রাহমানের গ্রীক মিথ ঘিরে লেখা একটি কবিতার লাইনকে একটু বদলে বলতে হয়, বঙ্গবন্ধু তোমার কন্যা একি গুরুভার বয়!

swadeshroy@gmail.com