১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পরমাণু কর্মসূচী ॥ নয়া সৌদি পদক্ষেপ

  • ‘তেহরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হলে রিয়াদও ব্যবস্থা নেবে’

ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে দেশটির চুক্তি হওয়ার পর সৌদি আরব এর নিজস্ব পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে ভাবছে। সৌদিদের সবচেয়ে বড় শত্রু ইরানের ঐ চুক্তির জবাবে সম্ভবত তারা তাদের নিজস্ব পরমাণু শক্তি উৎপাদনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করবে। তারা এক পরমাণু অবকাঠামো গড়ে তুলতে পারে, যাতে তারা একদিন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে চাইতে পারে। খবর ইয়াহু নিউজের।

সৌদি আরব এর পরমাণু কর্মসূচীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সম্প্রতি কয়েকটি পদক্ষেপ নেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশটি বাস্তবেই গোপনে কোন পরমাণু বোমা তৈরি করতে পারবে কিনা, বা এরূপ পরিকল্পনা ফাঁস হলে রাজনৈতিক চাপ প্রতিহত করতে পারবে কিনা, তা নিশ্চিত নয়। এক প্রিন্সের মালিকানাধীন এক সৌদি নিউজ চ্যানেলের প্রধান জামাল খায়শোগি বলেন, আমার মনে হয়, ইরান পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হলে সৌদি আরব সেরূপ বোমা হাতে পেতে মরিয়া হয়ে উঠবে। এটি ঠিক ভারত ও পাকিস্তানের মতো। পাকিস্তানীরা বছরের পর বছর ধরে বলত, তারা কোন পরমাণু বোমা চায় না, কিন্তু যখন ভারত সেই বোমা তৈরি করল, তখন পাকিস্তানও তা করল। রক্ষণশীল রাজতান্ত্রিক দেশ সৌদি আরব ঐ অঞ্চল জুড়ে ইরানের সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে। দেশটির আশঙ্কা, পরমাণু চুক্তির ফলে ইরান আন্তর্জাতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে পরোক্ষ লড়াইগুলোকে মিত্রদের সমর্থন যোগানোর আরও সুযোগ পাবে। ক্ষমতাসীন পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এমন কোন কোন সৌদি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এরপরও যদি ইরান এর পরমাণু কর্মসূচীর সাহায্যে অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম হয়, তাহলে সৌদি আরবও সেই পদক্ষেপ নেবে, যদিও এর মূল্য হিসেবে দেশটি একঘরে হয়ে পড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে।

সৌদি আরবের পরমাণু সংস্থা কিং আব্দুল্লাহ সিটি ফর এ্যাটমিক এ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি দেশটি ১৭ গিগাওয়াট পরমাণু বিদ্যুত উৎপাদন করুক বলে ২০১২ সালে সুপারিশ করেছিল। কিন্তু সংস্থাটি সেই বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনা এখনও তৈরি করেনি। রিয়াদ চুল্লি নির্মাণ করতে পারে এমন কয়েকটি দেশের সঙ্গে পরমাণু জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তি সই করেছে। কিন্তু ফ্রান্স, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্প্রতি সই করা চুক্তিগুলো সেই সহযোগিতা ছাড়িয়ে যায়। সেগুলোতে পরমাণু বিদ্যুত প্ল্যান্ট ও ফুয়েল সার্কেল ওয়ার্কের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সমীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তা সত্ত্বেও দুর্লঙ্ঘ কারিগরি বাধা সৌদিদের কোন বোমা তৈরির চেষ্টাকে ব্যাহত করবে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য অর্জনের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে। সেজন্যই বিভিন্ন দেশের মধ্যে পরমাণু প্রযুক্তি হস্তান্তর কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অবকাঠামোর সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠভাবেই জড়িত যে, ওয়াশিংটনের অজ্ঞাতসারে রিয়াদের পক্ষে পরমাণু অস্ত্র প্রকল্প হাতে নেয়ার কথা চিন্তা করাই কঠিন হবে।

পরমাণু বোমা তৈরি করতে গিয়ে ওয়াশিংটনকে পাশ কাঠানো হলে এক কৌশলগত নিরাপত্তা সম্পর্কে ব্যাপক ধরনের ফাটল ধরানো হবে। অথচ অন্যান্য সামরিক শক্তির সঙ্গে বিকল্প মৈত্রী স্থাপনের চেষ্টা সত্ত্বেও সৌদি আরবের জন্য সেই সম্পর্ক অপরিহার্য হয়ে থাকবে। দুটি দেশের সম্পর্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের কি ভূমিকা পালন করা উচিত, সেই প্রশ্নে তারা ভিন্নমত হলেও যুক্তরাষ্ট্রই সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রধান নিশ্চয়তাদাতা। কাজেই রিয়াদের ওপর ওয়াশিংটনের উল্লেখযোগ্য প্রভাব বজায় রয়েছে। বিশ্বের জ্বালানি বাজারে সৌদি আরবের অসাধারণ অবস্থান এর অপরিশোধিত তেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ অসম্ভব করে তুলবে। দেশটি কেবল সবচেয়ে বড় তেল রফতানিকারকই নয়, সে বিশাল বাড়তি উৎপাদন সামর্থ্যও অক্ষুণœ রাখছে। ফলে দেশটি তেলের দামের ওপর অসাধারণ প্রভাব বিস্তার করে থাকে।