২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দশ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পেল পেট্রোলবোমায় নিহত বকুলের পরিবার

  • প্রধানমন্ত্রীর সাহায্যের হাত

সালাম মশরুর, সিলেট অফিস ॥ পেট্রোলবোমায় দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণকারী ট্রাকচালক বকুল দেবনাথের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতেই প্রধানমন্ত্রী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, সেটি বাস্তবায়ন করে তিনি তার আন্তরিকতার প্রমাণ রেখেছেন। চলতি মাসের প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বকুল দেবনাথের পরিবার দশ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পেয়েছেন।

হরতাল অবরোধ আর জ্বালাও পোড়াও করে তারা এখন আরামে আছে। অথচ জ্বালাও পোড়াওয়ের শিকার হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে এ দেশের মানুষ। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি যে দ্বগ্ধ হয়ে মারা গেছে, তার পরিবারে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। যে দগ্ধ হয়ে এখনো বেঁচে আছে, সে বেঁচে থেকেও মৃত। যারা পেট্রোলবোমা মেরে মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধন করেছে, তাদের দেখা তো কেউ পাচ্ছে না। তারা নিজেদের লাভের জন্যই, নিজেরা গদিতে বসার জন্য জ্বালাও পোড়াও করে মানুষ হত্যা করেছে। তাদের বিচার হওয়া উচিত। এ কথা আজ শুধু পেট্রোলবোমায় দগ্ধ বকুলের গ্রামবাসীর নয়, সারাদেশের শান্তিপ্রিয় মানুষের।

চলতি বছর ২০ জানুয়ারি সারিঘাট থেকে একটি বালুবাহী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৪-৬৭৩৯) নিয়ে সিলেট আসার পথে বাঘেরসড়ক নামক এলাকায় ২০ দলীয় জোটের হরতাল অবরোধ সমর্থকরা ব্যারিকেড সৃষ্টি করে ট্রাকে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ সময় গাড়িতে থাকা চালক বকুল দেবনাথ অগ্নিদগ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬ দিন পর তার মৃত্যু ঘটে।

ওসমানীনগর উপজেলার শশারকান্দি গ্রামের বকুল দেবনাথ (৩৫)। ৮ সদস্যের পরিবার ও কাকা মনোরঞ্জন দেবনাথের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন বকুল। বড় ভাই রন্টু সামান্য কাঁচামালের ব্যবসা করেন। বকুুল দেবনাথের মৃত্যুর সময় স্ত্রী নীলিমা দেবনাথ ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর চার মাস পর কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। মানুষের সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল বকুুলের পরিবার। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের জেলা প্রশাসক বকুলের পরিবারকে পঁচিশ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছিলেন।

বকুুলের মৃত্যুতে ব্যথিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার পরিবারের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়ান। মৃত্যুর পরই ১০ লাখ টাকা প্রদানের ঘোষণা দেন। জুলাই মাসের প্রথমদিকে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বকুল দেবনাথের পরিবার দশ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র পান। সঞ্চয়পত্রের অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের সিলেট শাখায় বকুল দেবনাথের পরিরারের এ্যাকাউন্টে জমা করা হয়। কিছুদিনের মধ্যেই সে টাকা পেয়ে যাবে বলে জানিয়েছে বকুলের পরিবার।