১৫ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিয়ানমার ফেরত ৯ কিশোরকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক ॥ মিয়ানমার থেকে ফেরত আনা ১৫৫ জন বাংলাদেশির মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক নয়জনকে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

কক্সবাজার আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সুশান্ত প্রসাদ চাকমা বৃহস্পতিবার দুপুরে এ নির্দেশ দেন।

কক্সবাজার পুলিশ লাইনে কর্মরত পরিদর্শক মেজবাহ ইদ্দিন বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্থানীয় শাখার মাধ্যমে এসব শিশু-কিশোরকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আদালত নির্দেশনা দিয়েছে।

মিয়ানমার ফেরত এ নয় শিশু-কিশোরের মধ্যে ছয়জনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে, দুজন ঝিনাইদহের এবং বাকি একজনের বাড়ি মাদারীপুর জেলায়।

মিয়ানমারে বঙ্গোপসাগরের ঊপকূল থেকে দ্বিতীয় দফায় উদ্ধার ৭২৭ জন অভিবাসন প্রত্যাশীর মধ্যে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত ১৫৫ জনকে বুধবার বিকালে দেশে ফেরত আনা হয়।

এদের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক নয়জনের তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিষয়ে নির্দেশনা জানতে আদালতে পাঠানো হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যেই এ নয়জনের বাড়ির পথে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রতিনিধিরা যাত্রা শুরু করবেন বলে সোসাইটির কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি নূরুল আবছার জানিয়েছেন।

মিয়ানমার ফেরতদের মধ্যে এ নয় শিশু-কিশোর বাদে বাকি ১৪৬ জনের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত কাজ বুধবারই শেষ হয়েছে।

তবে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তাদের কাছ বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন বলে পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ জানিয়েছেন।

এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রাপ্তবয়স্ক এই ১৪৬ জনকে শুক্রবারের মধ্যেই তাদের বাড়ি পাঠানো হবে বলে জানান পুলিশ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) কর্মকর্তারা।

ফেরত আনা এসব লোকজনকে মানবিক সাহায্য দিচ্ছে আইওএম।

আইওএম’র ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কর্মকর্তা আসিফ মুনীর বলেন, ফেরত আনা লোকজনকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত আইওএম মানবিক সাহায্য করে যাবে। এদের মধ্যে যে সব জেলার লোকজনের সংখ্যা বেশি তাদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করে এবং অন্যদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে নিজ জিন্মায় বাড়ি পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ২১ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ২০৮ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করে মিয়ানমারের নৌবাহিনী। এদের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম দফায় বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত ১৫০ জনকে ৮ জুন এবং দ্বিতীয় দফায় ৩৭ জনকে ১৯ জুন ফেরত আনা হয়।

এরইমধ্যে গত ২৯ মে মিয়ানমারের জলসীমা থেকে দেশটির নৌ-বাহিনী আরও ৭২৭ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে উদ্ধার করে, যাদের মধ্যে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত ১৫৫ জনকে বুধবার ফেরত আনা হয়।