১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিচারকের এজলাস

নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের অর্ধ যুগের বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও সব বিচারকের এজলাস নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি অনভিপ্রেত। দেশের বিভিন্ন জেলায় ১৭১ বিচারকের এজলাস নেই বলে সহযোগী একটি দৈনিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে। খবরটি বিস্ময়ের উদ্রেক করে তো বটেই, পাশাপাশি জন্ম দেয় নানা প্রশ্নের।

২০০৮ সালে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের মাধ্যমে এক যুগান্তকারী ঘটনার সূচনা হয়। নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করার দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রচেষ্টার সফল সমাপ্তি ঘটে ওই সময়। এর সঙ্গে মূলত জড়িত ছিল স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার স্বপ্ন। গণতন্ত্রের অবাধ যাত্রা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করে এ অনন্য পদক্ষেপ। বাংলাদেশে এ এক ইতিহাস সৃষ্টিকারী নজিরও বটে। বিচার বিভাগের ওপর সরকার, রাজনৈতিক শক্তির প্রভাব বিস্তার, খবরদারি ও কূটকৌশলে নিয়ন্ত্রণ করে বিচারের স্বাভাবিক গতি যাতে ব্যাহত করতে না পারে এমনটাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের উদ্দেশ্য মহৎ হলেও এর স্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন পুরোপুরি আজ পর্যন্ত নিশ্চিত না হওয়াটা হতাশার উদ্রেক করে বৈকি। ৬৪ জেলায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) আদালত ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মাত্র ৩৫টি জেলায় নির্মাণ কাজ গৃহীত হয়। ৩০ জেলায় কাজই শুরু হয়নি। বাকি জেলাগুলোয় ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা প্রণয়ন ও এ সংশ্লিষ্ট নানা জটিলতার কারণে কাজ থমকে আছে বলে অভিযোগ। বিচারকদের বিচারিক ভবন পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়ায় ৪৭টি জেলায় ১৭১ জনের এজলাস নেই। এতে বিচারিক কার্যক্রম হারাচ্ছে স্বাভাবিক গতি। এমনও দৃষ্টান্তের খবর আছেÑ এক বিচারক তাঁর বিচার বা বিচার সংক্রান্ত কাজ শেষ করে নেমে গেলে অপর সহকর্মী বিচারক ওই এজলাসে বসে নিজের দাফতরিক কাজ শুরু করেন। একজন অপেক্ষায় থাকেন কখন অন্যজনের কাজ শেষ হবে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে নাÑ এটা স্বাভাবিক কোন কাজ বা নিয়ম নয়। অথচ বিচারক হয়ে তাঁরা এমনটা করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা অনাকাক্সিক্ষত। তিনি পূর্ণ কর্মঘণ্টা ব্যয় করতে পারছেন না। এতে বিচারপ্রার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন দীর্ঘসূত্রতায়, বাড়ছে মামলাজট।

প্রধান বিচারপতিও দেশের বিভিন্ন জেলার আদালত পরিদর্শন করে একই রকম বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করেছেন। জমি অধিগ্রহণ, নকশা প্রণয়ন, অর্থ ছাড় ও সংশ্লিষ্ট কাজ শেষ করে আদালত ভবন নির্মিত হতে ২০ বছর লাগবে বলে যে মন্তব্য করেছেন তা প্রণিধানযোগ্য। পাশাপাশি ২৭ লাখ মামলাজটের ভবিষ্যত নিয়ে যে প্রশ্ন তুলেছে তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের আগে ম্যাজিস্ট্রেটরা যেখানে বসতেন ভবন নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের এজলাস করার অনুরোধটি সবিশেষ গুরুত্বের দাবি রাখে।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের এজলাস পুরোপুরি নিশ্চিত না হলে বিচারিক কার্যক্রমের ওপর প্রভাব পড়বে তা বলাই বাহুল্য। শুধু ভবন বা এজলাসের অভাবে এমনটা হবে তা কাক্সিক্ষত নয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সমস্যা সমাধান করবে বলে আমরা আশাবাদী।