১৯ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইরানের শক্তি রোধে মতৈক্য

  • জেদ্দায় সৌদি বাদশাহ সালমানের সঙ্গে বৈঠক মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক শক্তির বিস্তার রোধ করতে সৌদি ও মার্কিন নেতারা বুধবার একমত হয়েছেন। গত সপ্তাহের পরমাণু চুক্তি তেহরানকে ঐ অঞ্চলে আরও আগ্রাসী তৎপরতা চালাতে উৎসাহিত করবে বলে আশঙ্কা দেখা দেয়ার মধ্যে তারা ঐ মতৈক্যে পৌঁছলেন। ইরানের পরমাণু কর্মসূচী নিয়ে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে দেশটির ঐ চুক্তি সই হয়। খবর ওয়াশিংটন পোস্ট ও ইয়াহু নিউজের।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেমস বি এ্যাশটন সমুদ্র উপকূলবর্তী জেদ্দা শহরে সৌদি বাদশা সালমান ও তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। এ্যাশটন এখন ইরান চুক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন এমন মধ্যপ্রাচীয় দেশগুলো সফরে রয়েছেন।

ঐ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সুন্নী শক্তি সৌদি আরব চুক্তিটি নিয়ে ঘরোয়াভাবে সতর্কবাণী উচ্চারণ করে। ওয়াশিংটনের কাছে ঐসব সতর্কবাণী গুরুত্ব বহন করে। এ চুক্তির ফলে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে শিয়া অধ্যুষিত ইরানের পরমাণু কর্মসূচী সঙ্কুচিত করা হবে। ইরান পরমাণু বিষয়ক আলোচনার পর সৌদি সরকার হুমকি দেয় যে, যদি তেহরান ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীসহ ঐ অঞ্চলের ইরানপন্থী দলগুলোর প্রতি সমর্থন বাড়াতে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার ফলে অর্জিত অর্থকে কাজে লাগায় তাহলে ‘কঠোর ও দৃঢ়’ জবাব দেয়া হবে।

কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা বলেন, বাদশা সালমান কার্টারের সঙ্গে আলোচনার সময় ইরান চুক্তির প্রতি দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন। কিন্তু বাদশা উল্লেখ করেন যে, চুক্তির সঙ্গে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো নিবিড়ভাবে পরিদর্শনের কর্মসূচী এবং ইরান চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করলে নিষেধাজ্ঞা আবার বলবৎ করার ব্যবস্থাও অবশ্যই থাকতে হবে।

জেদ্দা বৈঠকে ইয়েমেনে গভীর সংঘাত নিয়েও কথা হয়। ১৪ জুলাই ইরান চুক্তি হওয়ার পর এটিই ছিল ওবামা প্রশাসনের কোন শীর্ষ কর্মকর্তা ও সৌদি নেতার মধ্যে প্রথম বৈঠক। মার্চের শেষদিকে হুতি সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর ইয়েমেনে ৩ হাজারেরও বেশি লোক নিহত হয়। হুতিরা ইরানের কাছ থেকে সহায়তা পাচ্ছে বলে সৌদিরা অভিযোগ করে থাকে।

কার্টার সৌদি আরবে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের বলেন যে, ইরানের আগ্রাসন চালানোর সম্ভাবনা উদ্বেগের এক অভিন্ন বিষয়। তিনি বলেন, ইয়েমেনে ইরানের প্রভাব নিয়ে সৌদি নেতাদের আশঙ্কার তিনিও অংশীদার। তবে তিনি বলেন, ইয়েমেন সঙ্কটের রাজনৈতিক সমাধান জরুরী। তিনি জানান যে, জেদ্দা আলোচনায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, সাইবার, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা ও বিশেষ অভিযান বাহিনীর মতো বিষয়সহ নিরাপত্তা সম্পর্ক উন্নত করার দিকে মনোযোগ দেয়া হয়।

তিনি দুটি দেশের প্রতি গুরুতর অভিন্ন হুমকি হিসেবে ইসলামিক স্টেট জঙ্গীদের পাশাপাশি ইরানকেও চিহ্নিত করেন।

তিনি বলেন, হুতিদের ওপর ইরানের প্রভাব এক বাস্তবতা। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব এবং সঙ্কটাপন্ন ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আবেদ রাব্বো মনসুর হাদির প্রতি অনুগত বাহিনী হুতিদের বিরুদ্ধে বড় রকমের সাফল্য লাভ করে। এতে এ নির্বাসিত প্রেসিডেন্টকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে সৌদিদের চেষ্টায় উৎসাহ বৃদ্ধি পায়। ইরান চুক্তি নিয়ে পারস্য উপসাগরীয় বন্ধু দেশগুলোর সন্দেহ সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তাদের এক নির্ভরযোগ্য মিত্র বলে বারবার আশ্বস্ত করতে চেয়েছে।

অন্য পাঁচটি বিশ্ব শক্তিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ঐ চুক্তিতে পৌঁছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন সেনাবাহিনী ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ সরবরাহ করে এবং এক সৌদি অভিযান কেন্দ্রে সৈন্য পাঠায়। এ কেন্দ্র থেকে বিমান হামলার লক্ষ্যস্থল স্থির করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে অস্ত্র চালান ত্বরান্বিত করছে এবং সিহক নৌ হেলিকপ্টার ও পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রসহ সামরিক যন্ত্রপাতি বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। কিন্তু সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আরব উপদ্বীপে ইরানের প্রভাব বিস্তার রোধ করতে পারবে কিনা, তা অজানা রয়ে গেছে।