২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এনআইডির ভিত্তিতে হেলথ কার্ড রেকর্ড ডাটাবেজ ॥ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসা

  • চিকিৎসা ব্যয় যেমন কমে আসবে তেমনি নিশ্চিত হবে সুচিকিৎসাও

নিখিল মানখিন ॥ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে আরেকটি নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। এবার জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে নাগরিকদের হেলথ কার্ড রেকর্ড ডাটাবেজ তেরি করা হবে। এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য ভা-ারের সংযোগ নিয়ে সবার স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষণ করবে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এতে কেন্দ্রীয়ভাবে দেশের যে কোন স্থানের জাতীয় পরিচয়পত্রের অধিকারী প্রত্যেক নাগরিকের স্বাস্থ্যের অবস্থা জানা সম্ভব হবে। এতে একজন নাগরিকের চিকিৎসা ব্যয় যেমন কমে আসবে

তেমনি নিশ্চিত হবে সুচিকিৎসাও। আর দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর কাজ ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের সব নাগরিকের স্বাস্থ্যগত তথ্য সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। পুরো কার্যক্রমটি বাস্তবায়নের জন্য ইসির এনআইডি তথ্য ভা-ারই ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এক্ষেত্রে এনআইডি শাখায় সংরক্ষিত বিশাল তথ্য ভা-ারের সংযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা করছে তারা। ইতোমধ্যে ইসির কাছে একটি প্রস্তাবনাও পাঠিয়েছে অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাঃ আবুল কালাম আজাদের পাঠানো ওই প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইসি সচিবালয়ে নাগরিকদের তথ্য সংরক্ষিত আছে। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশী নাগরিকদের জন্য সিটিজেন ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড ডাটাবেজ তৈরির কাজ করছে। এতে কোন ব্যক্তির সারা জীবনের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এজন্য জাতীয় পরিচয়ত্রের তথ্য ভা-ার হতে অনলাইনে তথ্য পাওয়া গেলে কাজটি ত্বরান্বিত ও সহজ হবে। আবুল কালাম আজাদ এনআইডি তথ্য ভা-ারের তথ্য প্রদানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইসি সচিবকে প্রস্তাবনায় অনুরোধও জানিয়েছেন।

প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর নাগরিকের ১২ ধরনের তথ্য চেয়েছে। এতে নাগরিকের নাম (বাংলা ও ইংরেজী), পিতা-মাতার তথ্যাবলী, জন্ম তারিখ, জন্ম স্থান, বর্তমান ঠিকানা, স্থায়ী ঠিকানা, জেন্ডার, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, পেশা, ছবি ও স্বাক্ষর।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, যেহেতু নাগরিকদের জন্য এটি একটি কল্যাণকর উদ্যোগ তাই স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবশ্যই তথ্য দেয়া হবে। তবে এজন্য চুক্তিতে আসতে হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করেই তথ্য নিতে হবে। যেভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, পাসপোর্ট অধিদফতর জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নেয়।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম গড়ে তোলার বিষয়টি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিসমূহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। পুরোদমে এগিয়ে চলছে স্বাস্থ্য খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশ কার্যক্রম। মাঠ পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট কম্পিউটার। গ্রাম এলাকার প্রতিদিনের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সব পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিক কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৪১৮টি উপজেলা হাসপাতালে ইতোমধ্যে একটি করে মোবাইল ফোন দেয়া হয়েছে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৮শ’টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং জেলা সিভিল সার্জনের অফিসে। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে চালু করা হয়েছে টেলিমেডিসিন সুবিধা। স্বাস্থ্যসেবায় থাকছে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফর্মেশন সিস্টেম এবং কম্পিউটারাইজড অটোমেশন ব্যবস্থা। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরামর্শ নিতে পারবে সাধারণ মানুষ। মোবাইল ফোনের নম্বর স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের ওয়েবসাইটেও() নম্বরগুলো দেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টাব্যাপী কোন না কোন চিকিৎসক এই মোবাইল ফোনের কল রিসিভ করবেন। একটি মাত্র কল করেই ব্যস্ত মানুষও রোগের শুরুতেই পরামর্শ নিতে পারেন চিকিৎসকের। এতে রোগ জটিল হওয়ার আশঙ্কাও অনেক কমে যায়।এভাবে ঘরে বসেই চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া সম্ভব হবে। উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৮শ’ স্বাস্থ্য প্রতিস্থানে কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে এমন কোন সরকারী হাসপাতাল নেই যেখানে ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এতে তথ্য আদান-প্রদান ও মনিটরিং ব্যবস্থার উন্নতি ঘটায় স্বাস্থ্যসেবার মানের গুণগত উন্নতি ঘটছে। অনলাইন ডাটাবেজসহ ইমেইলের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে তথ্য পাওয়ায় দেশের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আর সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। সাধারণভাবে প্রতিটি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান দৈনিক কমপক্ষে চারবার ইমেইল চেক করে থাকে। প্রতিটি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক এবং জেলা সিভিল সার্জনের অফিসে ওয়েব ক্যামেরা প্রদান করা হয়েছে। ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠান বা মতবিনিময় করাই এর মূল উদ্দেশ্য। এখন একটি বিশেষ সফটওয়্যার সংগ্রহ করা হয়েছে যা দিয়ে একই সঙ্গে ২৫ জন ভিডিও কনফারেন্সিং করা যাবে। আগামী কিছু দিনের মধ্যে দেশে থ্রি জি টেলিফোন সেবা চালু হবে। ইতোমধ্যে ভিডিও ফোন ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ে চালু করা হয়েছে টেলিমেডিসিন সুবিধা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আটটি হাসপাতালে উন্নত ভিডিও কোয়ালিটির টেলিমেডিসিন সুবিধা স্থাপন করা হবে। এর সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে ভর্তি রোগী আধুনিক মানের টেলিমেডিসিন পদ্ধতিতে বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে পারবেন। ফলে নিম্ন পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি রোগীদের জন্য উচ্চ পর্যায়ের হাসপাতালসমূহে কর্মরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ নেয়া সহজ হবে। রোগীদের ভ্রমণের প্রয়োজন ও ভোগান্তি কমবে বহুগুণ। বিদেশীদের কাছেও একটি সফল ডিজিটাল চিকিৎসক সমাজ হিসেবে সম্মানিত হবে। স্বাস্থ্য বিভাগ মোবাইল ফোনের শর্ট মেসেজ সার্ভিস বা এসএমএস ব্যবহার করে উদ্ভাবনামূলক হেলথ ক্যাম্পেন, স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করেছে এবং তা ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলেছে। এ জন্য সকল স্বাস্থ্য বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মোবাইল ফোন নম্বরের একটি ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। একটি এসএমএস কমপ্লেন/সাজেশন বক্স চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে যেকোন নাগরিক ১৪২৪২ নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অভিযোগ বা পরামর্শ জমা দিতে পারেন।

স্বাস্থ্যসেবায় থাকছে জিওগ্রাফিক্যাল ইনফর্মেশন সিস্টেম(জিআইএস) এবং কম্পিউটারাইজড অটোমেশন ব্যবস্থা। জিআইএস পদ্ধতি প্রয়োগে দেশের কোথায় কি স্বাস্থ্যসেবা আছে, কোথায় নেই, কোথায় প্রয়োজন-এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ জন্য দেশের প্রতিটি সিভিল সার্জনের অফিসে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম বা জিপিএস নামক যন্ত্র সরবরাহ করা হবে।

নির্বাচিত সংবাদ