২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শীঘ্র রাজন হত্যা মামলার চার্জশীট ॥ আইনমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ আইনমন্ত্রী এ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, সিলেটের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হবে। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, আমাকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, আগামী তিন-চারদিনের মধ্যে এই মামলার অভিযোগপত্র দাখিল হবে। শিশু রাজন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হয় সে বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। চার্জশীট পাওয়া মাত্রই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হবে। বিচারিক কাজ যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয় সে ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেয়া হবে। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে বিচারকদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ সমস্ত কথা বলেন।

গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে চুরির অভিযোগ তুলে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ইতোমধ্যে ১৩ বছরের শিশু রাজন হত্যা মামলায় আলী হায়দারসহ মোট ৭ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। বুধবার এ মামলার প্রধান আসামি মুহিত আলম দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। এছাড়া চৌকিদার ময়না, চা দোকানি দুলাল, নির্যাতনের ভিডিওচিত্র ধারণকারী নুর মিয়া ও প্রত্যক্ষদর্শী আসামি ফিরোজ আলী ও আসমত উল্লাহ আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। আর মামলায় এ পর্যন্ত কামরুল ব্যতীত এক নারীসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতনকারীরাই সে দৃশ্য ভিডিও করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিলে সারাদেশে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শিশু রাজনকে পেটানোর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে নির্যাতনকারীরাই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়। ২৮ মিনিটের ওই ভিডিও দেশ-বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করে।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আরও বলেন , আমাদের উদ্দেশ্য হলো এরকম অপরাধ করে যেন কোন অপরাধী পার পেয়ে না যায় তা নিশ্চিত করা। প্রসিকিউশন যেন তার মামলার বিচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে সে ব্যাপারটিও আমি নিশ্চিত করব। আশা করছি এ মামলার বিচারে এমন দৃষ্টান্তমূলক সাজা হবে যাতে কেউ এরকম অপরাধ করার কথা দুঃস্বপ্নেও চিন্তা করবে না। সরকারী কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের বিষয়ে আইন করার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তিনি বলেন, কাউকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার জন্য এ আইন করার চিন্তা করা হয়নি। সরকারী কর্মকর্তাদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনের দরকার। তার মানে এই না যে এই আইনের মাধ্যমে কোন কর্মকর্তাকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, কোন সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা করার ক্ষেত্রে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত কোন অপরাধের কারণে সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেউ মামলা করলে গ্রেফতার বা বিচার করতে কোন অনুমতি লাগবে না। সে ক্ষেত্রে সরকারকে ব্যক্তির অপরাধ সম্পর্কে জানালে সরকারের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রী বলেন, আগে কোন সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হতো। আর এখন নতুন করে যে আইন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সেখানে কোন কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের পূর্বে সরকারের অনুমতির দরকার নেই।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী জজদের বিষয়ে তিনি বলেন, আপনাদের কাছে সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করে। বিচারকদের কাজের কথা চিন্তা করে এ সরকার বিচারকদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করেছে। এ সময় কাজের সুবিধার্থে আগামী তিন মাসের মধ্যে বিচারকদের নতুন ল্যাপটপ দেয়া হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিচার, প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের পরিচালক বিচারপতি খন্দকার মুসা খালেদ। এতে উপস্থিত ছিলেন আইন সচিব আবু সালেহ মোহাম্মাদ জহিরুল হক প্রমুখ।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন জমা ॥ বিডিনিউজ জানায়, রাজন হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের ভূমিকা তদন্তে গঠিত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে এগারোটার দিকে এ প্রতিবেদন দাখিল করেছে বলে জানান কমিটির প্রধান মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার রোকন উদ্দিন। প্রতিবেদনে পুলিশের ভূমিকা সম্পর্কে কী বলা হয়েছে- তা জানানো না হলেও বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

শিশু রাজন হত্যার পর মামলা করতে গেলে শিশুটির বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অন্যতম আসামি কামরুলের দেশত্যাগে পুলিশের গাফিলতি ও ঘটনা জানার পর দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এরপর ১৪ জুলাই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়।

নির্বাচিত সংবাদ