১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আসন খালি থাকলে কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সংকট কাটাতে শূন্য আসন থাকা সাপেক্ষে ‘টিসি’ নিয়ে পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ রেখে প্রকাশ করা হলো চতুর্থ ও শেষ মেধাতালিকা। ভর্তির জন্য চতুর্থ দফায় আবেদনকারী ৮২ হাজার ৫৪৪ জনের সকলকেই মনোনীত করে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের তালিকায় মনোনীতরা আগামীকাল ২৫ ও ২৬ জুলাই ভর্তির সুযোগ পাবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে ভর্তির চলমান সংকট নিরসনে এ উদ্যোগের কথা জানিয়ে বলেছেন, শেষ তালিকার ভর্তি ২৬ জুলাই শেষ হলেই ২৭ জুলাই থেকে টিসি নিয়ে যে কোন শিক্ষার্থী প্রচলিত বিধান মেনে পছন্দের কলেজে গিয়ে ভর্তি হতে পারবে। এ প্রক্রিয়ার জন্য তাদের আর অনলাইনে আবেদন করতে হবে না। কেউ কলেজ ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত থাকলে তারাও তখন পছন্দের কলেজে শূন্য আসন থাকা সাপেক্ষে ভর্তির হতে পারবে।

আন্তঃশিক্ষা সমন্বয় সাব-কমিটি দুপুর ১টায় শেষ দফা তালিকা () এ ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে। সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তালিকার প্রকাশের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব এ এস মাহমুদ, অরুণা বিশ্বাস, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রুহী রহমান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিক প্রমুখ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চতুর্থ তালিকায় যারা আবেদন করেছিল তাদের সকলকেই মনোনীত করা হয়েছে। অর্থাৎ তারা সকলেই কলেজে ভর্তির সুযোগ পাবে। আগামী ২৫ ও ২৬ জুলাই এসব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তির হলে বড় কোন সমস্যা আর থাকবে না। তখন কলেজ ভর্তির বাইরে স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীই থাকবে। প্রতিবছর মাধ্যমিক পাস করা সোয়া এক লাখের মতো শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হয় না কিংবা অন্য কোন মাধ্যমে চলে যায়। সে হিসাবে ২৬ তারিখের ভর্তির পরে খুব কম শিক্ষার্থীই সুযোগ বঞ্চিত থাকবে। তার পরেও আমরা চাই একজন শিক্ষার্থীও যে বঞ্চিত না হয়-এমন মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, পছন্দের কলেজে সুযোগ পায়নি বা এখনও যারা ভর্তি হয়নি তারা আসন খালি থাকা সাপেক্ষে নিজের সংশ্লিষ্ট কলেজে গিয়ে নিজেরাই ভর্তি হতে পারবে। এজন্য এখনকার মতো আর অনলাইনে আবেদন করতে হবে না। গত তিন দফায় যারা ভর্তির জন্য আবেদন করেনি কিংবা সুযোগ পেয়ে ভর্তি হয়নি, তারা ফি ছাড়া গত ১৩ থেকে ২১ জুলাই আবেদন করে। বৃহস্পতিবার তাদের তালিকা প্রকাশ করা হলো। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২৫ ও ২৬ জুলাই ভর্তি হতে পারবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা এখনও আবেদন করেনি তারা নিজ দায়িত্বে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে যে কোন কলেজে ভর্তি হতে পারবে। আবার কেউ ভর্তি হওয়ার পর অন্য কোনো পছন্দের কলেজে আসন খালি থাকলেও ছাড়পত্র নিয়ে সেখানে যেতে পারবে। কেউ যেন না ভাবেন যে তারা যে কলেজে ভর্তি হয়েছে পছন্দ না হলেও আর কোন উপায় নেই। কিন্তু তা না। যদি পছন্দের কলেজে আসন খালি খাকে তবে শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুসারে টিসি নিয়ে নতুন কলেজে ভর্তি হতে পারবে শিক্ষার্থীরা। কোন কলেজ আপত্তি করতে পারবে না, এটা আমাদের নির্দেশ। কোন বোর্ডও বাধা দেবে না। যে যেখানে চায় বোর্ডের বিধান মেনে স্বাধীনভাবে, উন্মুক্তভাবে সে সেখানে ভর্তি হতে পারবে। এটা আমরা আমাদের এখনকার প্রক্রিয়ার মধ্যে আনব না। আমাদের কলেজগুলোতে প্রচুর আসন ফাঁকা আছে। দুই লাখের বেশি আসন তো ফাঁকা থাকবে।

১৪৮ কলেজে একজন শিক্ষার্থীও নেই ॥ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ফাঁকা আসনের বিষয়ে জানতে শিক্ষার্থীরা বোর্ডগুলোতে যোগাযোগ করতে পারে। ঢাকা বোর্ডের মোট ১৪টি কলেজ আছে যেখানে একজন শিক্ষার্থীও এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়নি। সারাদেশে শূন্য শিক্ষার্থী পাওয়া এ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪৮টি। ঢাকা বোর্ডের ১৪টি কলেজে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। কুমিল্লা বোর্ডে ৬টি, রাজশাহী বোর্ডে ১৫টি, যশোর বোর্ডে ১০টি, চট্টগ্রাম বোর্ডে একটি, বরিশাল বোর্ডে একটি, সিলেট বোর্ডে পাঁচটি, দিনাজপুর বোর্ডে ১৬টি, মাদ্রাসা বোর্ডে আটটি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৭২টি কলেজে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। ভর্তি উন্মুক্ত করায় বাণিজ্য হবে কিনা- জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বাণিজ্য তো এখনও হয়নি। যেসব কলেজে আসন ফাঁকা তাদের টিকে থাকতে হলে শিক্ষার্থী লাগবে। বাণিজ্য যাতে না হয় সেজন্য আমরা সক্রিয় আছি।

ভর্তিতে জটিলতার জন্য ২১ দিন সময় বাড়ানো হয়েছে জানিয়ে বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় ১২ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৮ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এর মধ্যে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ১০৭ জন (চতুর্থ তালিকাসহ) ভর্তি নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া কারিগরিতে ৩০ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এবার এসএসসিতে পাস করা এক লাখ ছয় হাজার ৫১১ জন এখনও ভর্তির জন্য আবেদন করেনি বলেও জানান মন্ত্রী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবতার কারণেই সবাই ভর্তি হতে পারে না। পৃথিবীর কোন দেশেই শতভাগ কলেজ ভর্তি নিশ্চিত হয় না। এবার কলেজে ভর্তি নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল আগামীবার সে বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে বলেন, ভাল একটা পদ্ধতিতে গেলে কিছু সমস্যা থাকবে। এটাওতো ঠিক যে এবার ভর্তি বাণিজ্য, কোচিং বণিজ্য হয়নি। আমাদের প্রস্তুতির অভাব, দক্ষতার অভাবের কারণে কিছু সমস্যা হয়েছে। ভবিশ্যতে এটা থেকে শিক্ষা নেয়া যাবে।

এর আগে এবার কলেজে ভর্তির জন্য গত ৬ জুন থেকে ২১ জুন পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও এসএমএসে আবেদন করে। এ নতুন পদ্ধতিতে ১১ লাখ ৫৬ হাজার ২২৪টি আবেদন পড়ে। গত ২৫ জুন রাতে ওয়েবসাইটে প্রথম তালিকা প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। মূলত তার একক সিদ্ধান্তেই এবার হঠাৎ করে সারাদেশের সকল শিক্ষার্থীকে অনলাইনে ভর্তির আওতায় আনা হয়। যে কারণে তৈরি হয় যত জটিলতা। যা এখনও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। ২৭ জুন থেকে শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম শুরুর কথা। কিন্তু কারিগরি জটিলতার জন্য তিন দফা পেছানোর পর ২৮ জুন গভীর রাতে ভর্তির প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হয়। মনোনীত হয় ৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৫ জন। তারপরও ছিল জটিলতা।

নির্বাচিত সংবাদ