১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পুরনো চেহারায় ফিরছে ঢাকা ॥ বাড়ছে মানুষের চাপ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কর্মস্থলে ফেরা মানুষের চাপ বাড়ছে। রাস্তায় বাড়ছে গণপরিবহন। সব মিলিয়ে ঈদ শেষে আবারও পুরনো চেহারায় ফিরছে রাজধানী ঢাকা। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আজ শুক্র ও আগামীকাল শনিবার সরকারী ছুটি। এ দুই দিন রাজধানীতে মানুষের ঢল নামবে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে কোলাহলমুখর হয়ে উঠবে ঢাকা। তবে একের পর এক সড়ক দুর্ঘটনায় বৃহস্পতিবার চোখে মুখে আতঙ্ক নিয়ে নগরীতে ফিরেছেন ঘরমুখো মানুষ। অন্য বছরের মতো এবারও ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরতে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। দেশের বিভিন্নস্থানে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৩ জনের বেশি। আহত হয়েছে অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ। ফের সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রাণ গেল সাতজনের। একই সড়কে গেল এক সপ্তাহে ১০টির বেশি ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আসা যাত্রীরা অনেকটাই আতঙ্কেই ছিলেন। রংপুর থেকে হানিফ পরিবহনে আসা যাত্রী মোহন জানান, রাস্তায় আসতে বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনা দেখেছি। ভয়ে ভয়ে সময় কেটেছে। শ্যামলী পরিবহনে দিনাজপুর থেকে আসা যাত্রী পারভেজ জানান, সবার মনেই সড়ক দুর্ঘটনার ভয়। তাই চালককে সাবধানে গাড়ি চালাতে যাত্রীরা বারবার অনুরোধ করেছেন।

ঈদের ছুটি শেষে কর্মজীবী মানুষের ঢাকায় ফেরা শুরু হয়েছে ঈদের পরদিন রবিবার থেকেই। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে সেই যানজটের চিত্র কিছুটা লক্ষ্য করা গেছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তেমন একটা যানজট দেখা যায়নি। অলি-অলি থেকে শুরু করে বেশিরভাগ সড়ক এখনও ফাঁকা। সকালে অফিসগামী যাত্রীদেরও ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল স্বাভাবিক দিনগুলোর মতো। কোন কোন পরিবহনে গাদাগাদি করে যাত্রীদের বাসে দাঁড়িয়ে যেতে দেখা যায়। সকাল থেকে রাজধানীর মতিঝিল, বাসাবো, জুরাইন, ধোলাইপাড়, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, গোলাপবাগ, গুলশান, খিলগাঁও, মালিবাগ, মেরুল বাড্ডা, মধ্যবাড্ডা, নতুন বাজার এলাকায় ছিল যানবাহন সঙ্কট। অর্থাৎ গণপরিহন এখনও পুরোদমে চলাচল শুরু হয়নি। এ প্রসঙ্গে ঢাকা সড়ক পরিবহন সমিতির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জনকণ্ঠকে বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের বছরে ছুটি মেলে না। ঈদ উৎসবের দিন থেকে মূলত তারা ছুটি পায়। তাছাড়া ঈদের পর পর রাজধানীতে যাত্রী সংখ্যা কম থাকে। এই সুযোগে অনেকে ছুটি কাটানোর চেষ্টা করেন। আমরা আশা করি, আগামী সপ্তাহ থেকেই সকল প্রকার গণপরিবহন চলাচল শুরু হবে। আন্তঃজেলা রুটের বাসচালক ও মালিকরা জানিয়েছেন, ঘরে ফেরার সময় রাস্তায় যানবাহনের বেশি চাপ থাকে। অনেক রাস্তায় থাকে দীর্ঘ যানজট। ফলে স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলতে পারে। দুর্ঘটনা কম হয়। ঈদের পর রাস্তা ফাঁকা থাকায় অনেক চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। এ কারণে অনেক সময় সড়ক দুর্ঘটনা হয়। আবার সড়ক-মহাসড়কে অযান্ত্রিক পরিবহন চলাচল করাও সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। বুধবার এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বেপরোয়া ড্রাইভিং সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তাছাড়া অটোরিক্সাসহ অনুমোদনহীন যানবহনের বিষয়টি তো রয়েছেই। এরই ধারাবাহিকতায় সকল জাতীয় মহাসড়কে অটোরিক্সা চালানো নিষিদ্ধ করছে সরকার।