২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভালুকা ও শ্যামনগরে তিন শিশু-কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ২

ভালুকা ও শ্যামনগরে তিন শিশু-কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেফতার ২

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ ছাগল চুরির অজুহাতে ময়মনসিংহের ভালুকায় এক কিশোরকে গাছের ডালে ঝুলিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় বুধবার রাতে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। অন্যদিকে একই দিনে পায়ে শিকল পরিয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে দুই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের কাশিমাড়ী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর নিজস্ব সংবাদদাতা ও স্টাফ রিপোর্টারের। ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি গ্রামে ছাগল চুরির অভিযোগে শামীম (১৭) নামে এক কিশোরকে গাছের ডালে ঝুলিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৫ জুলাই বিকেলে। ৪ জুলাই মল্লিকবাড়ি গ্রামের সূর্যত আলীর একটি ছাগল হারিয়ে যায়। পরদিন বিকেলে মল্লিকবাড়ি গ্রামের নয় নম্বর মোড়ে চোর সন্দেহে এলাকাবাসী শামীমকে আটক করে মারপিট করে। ওই দিন বিকেলে এক সময় তারা শামীমের হাত গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তাকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে স্থানীয় যুবলীগ সভাপতি মোস্তফা ভূঁইয়ার নামসহ ১০ জনকে আসামি করে নির্যাতিত শামীম বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় ১৭ জুলাই একটি মামলা দায়ের করে। বুধবার রাতে পুলিশ উপজেলার মল্লিকবাড়ি গ্রামের সুলতান (২৮) নামের এক যুবককে আটক করে।

ওই মামলার আসামি স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মোস্তফা ভূঁইয়া জানান, ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ মহল ওই চোরকে দিয়ে আমিসহ ১০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রুহুল আমিন জানিয়েছেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এদিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পায়ে লোহার শিকল পরিয়ে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে দুই শিশুকে নির্যাতনের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের ৬ দিন পর বুধবার সন্ধ্যায় নির্যাতনকারী জমির মালিক মোস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। ১৬ জুলাই বৃষ্টির সময় বাড়ির সামনে রাস্তায় খেলা করে কাদা করার অপরাধে তাদের ধরে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। এ সময় দুই শিশুর পায়ে মোটা লোহার শিকল পরিয়ে দেয়া হয়। সমস্ত শরীর মোটা দড়ি দিয়ে গাছের সঙ্গে পেঁচিয়ে একসঙ্গে দুই শিশুকে বৃষ্টির মধ্যে বেঁধে রাখা হয়। সিলেটের রাজন হত্যার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জয়নগর গ্রামের এই শিশু নির্যাতনের ঘটনা জেলাজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। নির্যাতনের শিকার শিশুরা হলো শ্যামনগরের কাশিমাড়ী ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের ইসমাইল তরফদারের ছেলে ইয়াছিন তরফদার (৮) ও একই গ্রামের হামিদ তরফদারের ছেলে নাসিম তরফদার (৯)। নির্যাতনের শিকার শিশুরা তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। জেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন দুই শিশুকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছে।

এলাকাবাসী জানান, শিশু ইয়াছিন ও নাসিম গত ১৬ জুলাই গ্রামে প্রতিবেশী মোস্তফার জমির উপর দিয়ে তৈরি হাঁটা রাস্তার উপর খেলা করছিল। এ সময় বৃষ্টি শুরু হলে মোস্তফা তাদের ওই রাস্তা থেকে চলে যেতে বলে। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে শিশু দুটি একই স্থানে খেলা করতে থাকে। এ সময় রাস্তায় কাদা তৈরির অপরাধে মোস্তফা বাড়ি থেকে এসে শিশু দুটিকে আটক করে। একপর্যায়ে তাদের গাছের সঙ্গে একই দড়ি দিয়ে বেঁধে মারপিট করে। এ সময় শিশুদের অভিভাবকরা এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করতে উদ্যত হয় মোস্তফা। ঘটনার ৬ দিন পর বুধবার বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ দেয়া হলে শ্যামনগর থানা পুলিশ শিশু নির্যাতনকারী মোস্তফাকে বুধবার গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে কাশিমাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান আনিস জানান, জয়নগর গ্রামের গোমাল মোস্তফার সঙ্গে আব্দুল হামিদ তরফদারের ওই রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন আব্দুল হামিদ তরফদারের ছেলে ওই রাস্তায় খেলা করার সময় গোলাম মোস্তফা দুটি শিশুকে ধরে নিয়ে বাড়ির একটি জামগাছে বেঁধে রাখে।

শ্যামনগর থানার ওসি এনামুল হক জানান, নির্যাতনের শিকার এক শিশুর পিতা আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে বুধবার বিকেলে গোলাম মোস্তফাসহ তার ছেলেকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করার পর পুলিশ গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করেছে।