১৮ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিদিন ৩০ লাখ রোগী ডাক্তারদের পরামর্শ পেয়ে থাকে ॥ ইনু

  • ‘দিনে ৭ হাজার রোগীর অস্ত্রোপচার স্বাস্থ্য সেক্টরের অভাবনীয় সাফল্য’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বর্তমান সরকার গণমুখী ও সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রতিদিন প্রায় ত্রিশ লাখ রোগী পরামর্শ সেবা গ্রহণ করে থাকে । প্রতিদিন সাত হাজার রোগীর অস্ত্রোপচার হচ্ছে। এটি দেশের স্বাস্থ্য সেক্টরের এক অভাবনীয় সাফল্য। দেশে বিশ্বমানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রাপ্তির প্রতি মানুষের চাহিদা রয়েছে। এটা তখনই সম্ভব হবে যখন সমাজ হবে জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত এবং দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে শান্তি থাকবে। ক্যান্সার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপির সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং সচেতনতা সৃষ্টিতে আরও উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। বিশ্ব হেড-নেক ক্যান্সার দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিনের আইএনএম অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সিম্পোজিয়ামের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাক-কান ও গলা বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ সোসাইটি অব হেড-নেক সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সিম্পোজিয়ামে বিশেষ অতিথি ছিলেনÑ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান, বিএমডিসির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডাঃ আবু সফি আহমেদ আমিন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেনটিভ এ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডাঃ মাহমুদুল হাসান। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ খোরশেদ আলম মজুমদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএসএমএমইউর নাক, কান, গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ মোসলেহ উদ্দিন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল নয়টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বটতলা থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। এটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে।

হাসানুল হক ইনু বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধে বিশেষ করে নাক, কান ও গলার ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি অত্যন্ত জরুরী। তামাক সেবন, ধূমপান, মদ্যপান, অতিরক্তি মসলাযুক্ত খাবার, প্রিজারভেটিভ ফুড পরিহার করার মাধ্যমে এ ধরনের ক্যান্সার অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। শুরুতে চিহ্নিত হলে এ ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য। তবে সমাজে জঙ্গীবাদ, আগুন সন্ত্রাসের ক্যান্সার নিরাময়ের একটাই উপায় তা হলোÑ এগুলো নির্মূল বা ধ্বংস করা। এক্ষেত্রে মাঝামাঝি কোন জায়গা ও আপোসের সুযোগ নেই। যারা সমাজে জঙ্গীবাদ, আগুন সন্ত্রাসকে আশ্রয় দেয় তাদের নির্মূলের বিকল্প নেই। সমাজের জঙ্গীবাদ ও আগুন সন্ত্রাসের ক্যান্সার নির্মূলে প্রয়োজন অস্ত্রোপাচার।

অধ্যাপক ডাঃ কামরুল হাসান খান বলেন, ক্যান্সার প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশ্বে ক্যান্সার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এটা প্রতিরোধে আরও নজর দেয়া প্রয়োজন। ক্ষুধামান্দ্য, রক্তশূন্যতা, অবসাদ ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ। এরকম হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সন্তোষজনক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি রাজনৈতিক নেতাদের বিদেশে না গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নেয়ার আহ্বান জানান।